শনিবার গঙ্গারামপুরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত হয় বিজেপির এক বিজয় সংকল্প সভা। ওই সভা থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মুসলিম ভোট নিয়ে মন্তব্য করেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য করে প্রতিটি জেলায় বিজেপি এই রকম বিজয়যাত্রা চালাচ্ছে।
সভায় তিনি জনগণকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তব্য রাখেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টানোর ডাক দেন। সশব্দে তিনি বলেন, ‘কথা দিয়েছিলাম, গঙ্গারামপুরে এসেছি। দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষ জানেন কীভাবে ৬-০ করতে হবে। এই সরকারকে উপড়ে ফেলতে হবে, না হলে পশ্চিমবঙ্গ থাকবে না। আমরা মুসলিম ভোট পাই না, আমি বলিনি চাই না। নরেন্দ্র মোদি আপনাদের সব দিয়েছে। আজ তাঁদের সামনে রেখে রাজনীতি চলছে।’
শুভেন্দু অধিকারী সভায় আরও বলেন, ‘এরা ভারতীয় মুসলমান নন, এরা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা। বিএসএফ-কে জমি দেয়নি রাজ্য সরকার। আজ বাংলাদেশেও হিন্দুরা ভাল নেই। বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের সংখ্যা কমেছে। ২০২৭-এ জনগণনা শুরু হবে, হিন্দুরা ৬৫%-এ নেমে যাবে। দক্ষিণ দিনাজপুরের মেডিক্যাল কলেজ কলেজ হয়নি কেন? ছাব্বিশে দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬-০, তারপরেই এখানে মেডিক্যাল কলেজ হবে।’
প্রতিপক্ষের ব্যবস্থাপনা ও চাকরির অবস্থা নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, ‘এই রাজ্যে কোনও চাকরি নেই, PSC নেই, SSC নেই। গত একবছরে ৮ হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ করেছে তৃণমূল সরকার। এ রাজ্যে তৃণমূল থাকলে চাকরি হবে না।’
সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বান— সব রাজনৈতিক শক্তিকে জোট বাঁধতে হবে। তিনি বলেন, ‘টাটাদের পর এই রাজ্য থেকে একের পর এক শিল্প চলে গেছে। গ্রামে জোট বাঁধুন, আমার পাড়া, তৃণমূলকে তাড়া। আবাস যোজনার জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। তারপরেও আপনারা বাড়ি পাননি কেন? জল প্রকল্পের সুফলও পাচ্ছেন না রাজ্যবাসী। এখানে জল আছে, নল নেই, এদের তাড়াতে হবে’
সভায় তীব্র ভাষায় তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, ‘তৃণমূল নামে ধর্ষকদের পার্টি। কামদুনি, কাকদ্বীপ, হাঁসখালি থেকে কালিয়াগঞ্জ। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ডকে প্রেমের গল্পের তত্ত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী’।
