, ১ জানুয়ারি ২০২১; ১২:১০ অপরাহ্ণ


বিশেষ সম্পাদকীয়ঃ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের একাধিক নেতা অংশগ্রহণ করেছেন ও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের বৃহৎ অংশের সমর্থন নিয়েই এই আন্দোলন এগিয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল এই আন্দোলন সফল হবেই কেননা এই আন্দোলনকে আর বিরোধী শিবিরের চক্রান্ত বলে নস্যাৎ করা যাবে না।

তারপরও অনেক জল ঘোলা করা হয়েছে। যুগ্ন আহ্বায়ক রাশেদ খাঁনকে টেলিভিশনে ডেকে নিয়ে জেরা করা হয়েছে। তার সহযোদ্ধা নুরুল হক নুরকে জেরা করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যা-বুদ্ধি ও যুক্তির শক্তি দিয়ে সবকিছুকে উড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে আন্দোলন। এর মধ্যেই শাহবাগে উঁকিঝুঁকি মেরেছে “আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান” ব্যানারে কয়েকজন। কিন্তু বেশিদিন দাঁড়ানোর নৈতিক শক্তি ছিল না এই দলের। পরবর্তীতে পয়সার বিনিময়ে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের ধরে ভুলভাল ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করে কোটার পক্ষের শক্তিরা। কিন্তু কিছুতেই যখন আর কিছু হচ্ছিল না এবং সংসদেও প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেন তখন ভিন্নপন্থায় এগুতে থাকে কোটাধারী অপশক্তির দল।

বর্তমানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কোন কমিটি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কমিটি নেই। এই সুযোগে কোটাধারী কিছু পান্ডা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কয়েকজনের সাথে একাত্ব হয়ে মরিয়া হয়ে উঠে যেকোন উপায়ে আন্দোলন বানচাল করতে। এর অংশ হিসেবে দেখা যায় অছাত্র ও সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ক্ষুদ্র দল  যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বৈধ ছাত্রদের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় যুক্ত ছাত্রলীগের একেবারেই ক্ষুদ্র একটা অংশ।

কিন্তু বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির অবস্থা এতোটাই দেওলিয়া যে কেউ মাথা খাটিয়ে রাজনীতি করে না। কোন একটা জায়গায় দলীয় কেউ কোন কাজ করলে সাথে সাথেই সারাদেশে সবাই সে পক্ষ ধারণ করে। নিজেকে কেউ জিজ্ঞাসাও করে না এটা কতোটুকু যুক্তিযুক্ত কিংবা এতে তার অংশগ্রহণ অবশ্যম্ভাবী কিনা। এ অবস্থায় দেখা যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সর্বত্র ছাত্রলীগ কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের উপর হামলা করে।

এ অবস্থায় এটা খুব পরিস্কার যে কতিপয় কোটাধারী এবং কোটাধারীদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া চক্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময়ে মারমুখী কাজ করে আসছে ঠিক কিন্তু এই সময়ের মারমুখো কাজ যেটি ছাত্রলীগকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করছে এর মূলে রয়েছে কোটাধারীদের ষড়যন্ত্র যারা ছাত্রলীগের কাঁধে ভর করে কোটার সুস্বাদু কাঁঠালটি ভক্ষণ করতে চায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এই ছাত্র আন্দোলনটি শুরু থেকেই ছাত্রলীগ সমর্থিত হওয়ায় এটা ছিল ছাত্রলীগের জন্য একটা সুযোগ হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের কিন্তু কতিপয় নেতার হীন স্বার্থ এই সংগঠনটির গায়ে এমনই কালিমা লেপন করে দিয়েছে যে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই কালিমা মোচনযোগ্য নয়।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন