মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৬:১২ পূর্বাহ্ণ


PC: Tanim Ashraf

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে,তা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে,তা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে সাম্প্রতিক নিপীড়ন, গ্রেফতার, সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টায় ‘নিপীড়নমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই’, দাবিতে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে দুই জায়গায় নিপীড়নের বড় ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার একটি ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই পদযাত্রা শেষ হয়েছে।

পদযাত্রায় বক্তারা বলেন- কোটাসংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সাধারণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থিদের উপর ক্রমাগত সহিংস হামলা, মিথ্যা মামলা ও আহত ছাত্রদের চিকিৎসার অধিকার প্রত্যখ্যাত হবার ঘটনাগুলো আমাদের শঙ্কিত করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে শিক্ষার্থি ও শিক্ষকদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ, আত্মমর্যাদা এবং জীবনের নিরাপত্তা আরও সঙ্কুচিত করে তুলেছে বলেই আমরা মনে করি। পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা গেলেও হামলাকারীদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ’র নির্লিপ্তি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি দায়িত্ব অস্বীকার আমাদের হতবাক করেছে। 

বক্তারা আরো বলেন যে- ‘পুলিশ ও ছাত্রলীগের আগ্রাসী আচরণ এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে, আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামলা-হামলার ভয়ে তাদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার যেন হারিয়ে ফেলেছে। বস্তুত, শিক্ষক ও শিক্ষার্থিদের ওপর একধরনের নীরব নির্যাতন ও নজরদারি চলছে। চারদিকে একটা ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রকারান্তরে হামলাকারীদেরকে আরও উৎসাহিত করেছে বলে আমরা মনে করি।’

PC: Tanim Ashraf

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আন্দোলনকারীদের পুর্বঘোষিত প্রেস কনফারেন্সের জমায়েতের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। পরের দিন ওই হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীরা জমায়েত হলে সেখানেও ছাত্রলীগ দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালায়। ধারাবাহিক এই শিক্ষার্থি নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশেও পুলিশের হামলা হয় এবং সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবককে লাঞ্ছিত করা হয়।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন