শনিবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ


বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া কিংবা রেগুলার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর একটি নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আবদুল হামিদ চোখ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে ৮ দিনের সফরে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশের আইনে রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় মিটানো হবে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে। খরচ হিসেবে এটা বেশ বড় অংকের। তাছাড়া দেশে সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে প্রায় ৩০ টি। এগুলো চলার ব্যয়ও পরিচালিত হয় রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকেই। আর রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারে এই টাকার যোগান হয় জনগণের প্রদত্ত করের টাকা থেকে।

জনগণের টাকায় পরিচালিত হলেও এই মেডিক্যাল কলেজগুলো যে ডাক্তার উৎপাদন জনগণের কিঞ্চিৎই তাদের সেবা পায়। পাশাপাশি সরকারি হাসতালের অবস্থাও নড়বড়ে। এই অবস্থায় জনস্বাস্থ্য খাতে এক নৈরাজ্য বিরাজ করছে। সরকারও পারছে না তাদের বাগে আনতে। এর সর্বশেষ নজির হল চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের ঘটনা।হাসপাতালটিতে ফুলের মতো এক শিশুকে ভুল চিকিৎসায় মেরে ফেলা হল। সাংবাদিকের মেয়ে হওয়ায় যা একটু শোরগোল হয়েছে কিন্তু যখনোই ভ্রাম্যমান আদালত এই হাসপাতালের অনিয়মের কারণে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করল তখন দেখা গেল গোটা চট্টগ্রামের বেসরকারী হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিল। আবার ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন) এই ধর্মঘটে সমর্থন করল।

জনস্বাস্থ্যের এই যে দুরবস্থা, তা রেখে কি মধ্য আয়ের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব? এই যে কয়েকদিন পূর্বেই ফেসবুকে একটা ভিডিও ভাইরাল হল যেখানে দেখা যাচ্ছে অসুস্থ এক মায়ের সেবা করছে তার দুই শিশুপুত্র ফুটপাথে বসে। এটাই বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র। যে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, ডাক্তার বানানোর কারখানা গড়ে উঠেছে সে হাসপাতালে, সে চিকিৎসাব্যবস্থায় তার কোন প্রবেশাধিকার নেই!

তাছাড়া একটি দেশের প্রধানগণ যখন দেশের বাইরে চিকিৎসা নেন এতে তারা এটাই প্রমাণ করেন যে দেশের স্বাস্থ্যসেবার উপর তাদের কোন আস্থা নেই। আর এই অবস্থা যদি বছরের পর বছর চলতে থাকে তাহলে এটাও প্রমাণিত হয় দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে তাদের কোন পরিকল্পনাও নেই। জনগণের আমানতের টাকায় বিদেশই তাদের গন্তব্য আর জনগণের চাহিদাও চিরদিনই উপেক্ষিত।

এখানে কিন্তু এটা বলা হচ্ছে না যে, রাষ্ট্রপ্রধান-সরকার প্রধানেরা এখন থেকেই সাধারণের কাতারে নেমে সরকারি হাসপাতালের কেবিনে ভর্তি হোক। বরং তাদের জন্য সরকারী হাসপাতালে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট, ভিভিআইপি স্যুইট বানানো হোক। সেখানে পৃথিবীর উৎকৃষ্টতম ডাক্তার ও আধুনিকতম প্রযুক্তি সমন্বয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হোক। মানে যে সুবিধার জন্য বিদেশ যাওয়া হচ্ছে ফি বছর সে সুবিধা দেশেই তৈরি করা হোক। এতে করে দেশের ধনীক শ্রেণির মধ্যেও দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে, দরিদ্র শ্রেণিও কমবেশ আধুনিক পরিবেশের সুযোগ-সুবিধার নাগাল পাবে।

 

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন