, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৯:২৩ অপরাহ্ণ


কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সারাদেশে নির্যাতন-নিপীড়নের অংশ হিসেবে সরকার বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার রক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে অন্যতম আন্দোলনের যুগ্ন আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী।

রাশেদকে তার মিরপুরের ভাষানটেকের বাসা থেকে পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পূর্বমুহুর্তে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমের তাকে বাচানোর আকুতি জানিয়েছে ছাত্রসমাজ ও বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি। তাছাড়া, রাস্তায় নেমে এসে আন্দোলন সফল করার আহ্বানও ছিল তার সর্বশেষ বার্তায়।

রাশেদকে আদালতে হাজির করার পর আদালত প্রথমেই তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এই রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানিয়েছে বিরোধী কোন রাজনৈতিক শক্তির সাথে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, এই আন্দোলনের অর্থ সংগ্রহ, দিকনির্দেশনা এবং সাংগঠনিক অবস্থা এগুলোর সবকিছুই গোটা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের কাছে স্পষ্ট ছিল সেগুলোর পুনরাবৃত্তিই হয়েছে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে। এগুলোর কোন কিছুই ছাত্রসমাজের অজানা নয়। কেননা এই আন্দোলন ছাত্রদের স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন। এই রাশেদরা ছাত্রদের থেকেই উঠে এসে আন্দোলনের হাল ধরেছে।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালত তাকে আরো দশ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। বর্তমানে সে দশ দিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিনে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, তাকে বারবার কেনো রিমান্ডে পাঠানো হচ্ছে? আইসিটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীকে কট্যুক্তি করা ও বিদ্রুপ করা। কিন্তু এই যে কট্যুক্তি এটা অনেক ধোঁয়াশা বিষয়। কোন ধরণের বক্তব্যকে আপনি কট্যুক্তি বলবেন সেটা কিন্তু কোন মানদন্ডেই পরিস্কার নয়।

এই ১৫ দিনের রিমান্ডের মাধ্যমে রাশেদের উপর যে পরিমাণ শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। তাকে যে কোন কিছু স্বীকার করানোর জন্য বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে তাও সচেতন যে কেউ বুঝতে পারেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যে কিনা সাধারণ ছাত্রদের অধিকারের জন্য লড়েছে তাকে এভাবে নির্যাতন করার ফলে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ক্ষুব্ধ এবং এই ক্ষোভ যেকোন সময় বড় বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে।

রাশেদের কী অপরাধ? রাশেদের অপরাধ, সে ভেবেছিল সে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের কারণে তাকে জেলে যেতে হবে তা তো সে কখনোই ভাবেনি। রাশেদের অপরাধ সে রাজমিস্ত্রির সন্তান। রাশেদের অপরাধ সে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেনি। রাশেদের অপরাধ সে প্রধানমন্ত্রীর ছবি শেষ পর্যন্ত বুকে আগলে রাখেনি। প্রধানমন্ত্রীকে গদগদ তোষামোদে ভাসায়নি। তার সবচেয়ে বড় অপরাধ সে সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থের কথা ভাবতে গিয়েছিল!

এতোগুলো অপরাধের শাস্তি তো তাকে পেতে হবেই! তবে চিরদিন কারো সমানো নাহি যায়। তাই আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা স্বাধীনভাবে কাজ করুন। স্বাধীন দেশের নাগরিককে উপনিবেশিক কায়দায় নির্যাতন করবেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর উপর এই রিমান্ড নির্যাতন ছাত্রসমাজ কখনোই মেনে নিবে না।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন