শনিবার, ১৮ জুন ২০২১; ২:০৩ অপরাহ্ণ


ডেস্ক রিপোর্টঃ কোটা সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষনেতাদের উপর দফায় দফায় আক্রমণের প্রেক্ষিতে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এক পর্যায়ে বিভিন্ন বিভাগের সচেতন শিক্ষকরাও রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু তাদেরকেও বিভিন্ন রকম কটাক্ষ ও কট্যুক্তি শুনতে হয়েছে।

এ অবস্থায় ক্লাস বন্ধ হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ১২ টি বিভাগে। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা-মামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ক্লাস বর্জন করেছেন এসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা। যেসব বিভাগে ক্লাস হচ্ছে না সেগুলো হলো- সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলা, আরবি সাহিত্য, আইন, মাইক্রোবাইলোজি, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, মার্কেটিং এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ।

এর মধ্যে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী মশিউরকে আটকের প্রতিবাদে বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা গত ৫ জুলাই মানববন্ধন করেন। তারা মশিউরের মুক্তিনা হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ছাত্র কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার প্রতিবাদে গত ৮ জুলাই মানববন্ধন করে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অন্তত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা রাশেদের মুক্তি দাবি করেন এবং মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এছাড়া আইন বিভাগের ছাত্র তারিকুলকে মারধর ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত ৯ জুলাই বিভাগের সামনে মানববন্ধন করে ক্লাস বর্জন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বেলা বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র মাসুদ রানার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষার্থীরামানববন্ধন করে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয়।

ইমি নামে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের বিভাগের এক জুনিয়রকে অযৌক্তিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস করবে না বলে একমত ’। তবে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ক্লাস না হওয়ার কথা জানেন না সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, ‘আমাকে বিভাগের কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী জানায়নি। আমাকে জানালে আমি জানতাম।’

ক্লাস না হওয়া প্রসঙ্গে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করলে আমরা কি করব? যখন ক্লাসের সময় তখন শিক্ষকরা এসে ছাত্র-ছাত্রীদের পাচ্ছেন না।’ তবে ডিন বিষয়টি জানেন বলে জানান নেহাল করিম। চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি (ডিন) জানেন। তার উচিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে একটি সমাধান বের করা।’

অন্যদিকে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনকে তার অনুষদে ক্লাস না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব বিভাগে ক্লাস হচ্ছে। তবে বাংলা বিভাগে ক্লাস হচ্ছে না জানালে কলা অনুষদের ডিন, এ বিষয়ে ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ক্লাস না হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানালেন ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। তবে এ বিষয়ে তার মতামত জানাননি তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিরোধী বা তাদের ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে সকলের প্রতি অনুরোধ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন