, ২০ জুন ২০২১; ২:৫৫ অপরাহ্ণ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার সংস্কার হবে না। তিনি এর পূর্বে এই সংসদেই ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকারি চাকুরিতে কোন কোটাই থাকবে না। তাছাড়া গতকাল সংসদে আন্দোলনকারীদের নিয়ে কঠোর মনোভাব এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তুকির খোটাও দিয়েছেন। 
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশ্লেষণপূর্বক মনে হচ্ছে সরকার মনে করেছে- ছাত্রলীগের হাতুড়ি অভিযান, ১৩ জন গ্রেপ্তার, ফেসবুক গ্রুপ হ্যাক এবং একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে আন্দোলনকে দমিয়ে ফেলেছে। এবং পাশাপাশি সরকার একটি গ্রুপে সংস্কারের বিরোধিতার দাবি নিয়ে মাঠে নামাতেও সক্ষম হয়েছে যারা প্রিলিমিনারি থেকেই কোটার দাবি জানিয়েছে। 
 
বাস্তবতা হল, সরকারও জিতেনি এবং আন্দোলনও শেষ হয়ে যায়নি। যেমন শেষ হয়নি ২০০৮ এবং ২০১৩ সালের আন্দোলন। প্রসঙ্গত সে আন্দোলনগুলোকেও ছাত্রলীগ কঠোরভাবে দমন করেছিল। কিন্তু ২০১৮ তে এসে এটা একটি গণআন্দোলনে রুপ নিয়েছে। এখন এই গণআন্দোলন ও জনভিত্তি দেখেও যদি সরকার দমনের নীতি নেয় তাহলে বুঝতে হবে এই সরকারের নুন্যতম আত্মবিশ্বাসটুকুও অবশিষ্ট নেই।
 
প্রধানমন্ত্রী পারতেন তার সংসদের ঘোষণাকে মার্জিত করে সংস্কারের একটা রূপরেখা দিতে। কিন্তু জাতির সামনে জাতীয় সংসদে তিনি একটি খেলা খেললেন। সবাই হাততালি দিতেই পারেন এই খেলার উতকর্ষতা বিচার করে কিন্তু মরালিটির মানদন্ডে তিনি দারুণভাবে পরাজিত হলেন। বলা যায় ছোট মাঠে বড় গোল খেলেন তিনি।
 
তবে আশার কথা হল, জনগণ এই খেলার রহস্য ধরে ফেলতে পেরেছে। ২০১৮ তে যদি এই অভ্যুত্থান থেমেও যায় তাহলে এর চেয়ে বড় শক্তি নিয়ে এই জনতা আবার ফিরে আসবে। সেই স্রোত ঠেকানোর সাধ্য এই সরকারের থাকবে না হলফ করে বলা যায়।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন