শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১১:২৮ অপরাহ্ণ


সংস্কার বিষয়ে মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর দেয়া একটি ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীও উচ্চ আদালতের রায়ের উদাহারণ দিয়েছেন। এর ফলে শিক্ষিতজনদের মধ্যেই এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নিবন্ধন ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারী চাকুরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু মামলা করার অভিজ্ঞতার সুবাদের বিষয়টা পরিস্কার করার তাগিদ অনুভব করছি।

প্রথমত- যে রিট মামলার কথা বলা হয়েছে তা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল কিংবা সংস্কার চেয়ে দায়ের করা হয়নি। সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সময়ে সময়ে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারী করে থাকে। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে জাতীয় মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়ার বিধান চালু আছে অনেক দিন থেকে। উচ্চ আদালতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল যেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলেও পদ খালি রাখা হয়। আদালত সেমতে নির্দেশনা প্রধান করে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী না থাকলেও সেসব খালি পদে মেধা তালিকা থেকে যেন নিয়োগ দেয়া না হয় তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়েরও দাবী ছিল। সেমতে বিধি সংশোধন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে সুবিধা দিয়ে প্রথমে কোটা ব্যবস্থা চালু হলে পরে তাদের সন্তানদের জন্যেও এই সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয় যা যৌক্তিক ছিল বলে মনে করি। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১১ সনে নাতী পতিদেরও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয় যা নিয়ে আপত্তির শুরু। এর ফলে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাই। অগ্রণী ব্যংকে নিয়োগের একটি মামলায় আমি নিজে এখনো ভুগছি। সন্তানরা থাকা সত্তেও নাতী পতিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত- উচ্চ আদালত সরকারের “নীতি” সংক্রান্ত কোন বিষয় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এটা সরকারের স্বাধীনতার প্রশ্ন। তাই আদালতের রায় থাকা সত্তেও সরকার নতুন করে ৬ মার্চ ২০১৮ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারী করে। এটি করার এক্তিয়ার সরকারের রয়েছে।

তৃতীয়ত – কোটা সংস্কার বিষয়ে ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং আদালত সেটি সরকারের পলিসি সংক্রান্ত হওয়ায় এবং প্রিম্যাচিউর আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দেন।

কোটা সংস্কারের প্রশ্ন যৌক্তিক তাই সংস্কার হওয়া জরুরী কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী কিংবা আদিবাসী কোটা কোন কারণেই বাতিল চাই না।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন