শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১১:৪৬ অপরাহ্ণ


শহীদ মিনারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। আজ ১৫ জুলাই, রবিবার ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবনের সামনে শহীদ মিনারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পাশাপাশি অবস্থান নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও। পরে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে আমরা রাজু ভাস্কর্যের দিকে যাওয়ার পথে শিববাড়ি মোড়ে শেখ রাসেল টাওয়ারের সামনে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের লাঞ্ছিত করে।’

ফাহমিদুল হক আরোও বলেন, ‘নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের পক্ষে শিক্ষক হিসেবে পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এমন কর্মসূচি যদি আমরা করতে না পারি তবে জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জার। আমরা বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাবো।’

শিক্ষার্থী রাফিয়া তামান্না বলেন, ‘তারা প্রথম থেকে আমাদেরকে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা আমাদের শিক্ষকদের জামায়াত-শিবির বলে অপমান করেছে। আমরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় হামলা চালায়। সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করে। এসএম হলের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সায়েম সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে।’ এই বিষয়ে সাংবাদিকরা সায়েমের কাছে জানতে চাইলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।

আজকের এ হামলা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন আহমেদ লিখেন–

“মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাওয়া শিক্ষকেরা প্রশাসনিক নেতৃত্বে আছে বলেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউ নিরাপদ নই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুধু আমাদের নাজেহাল আর শারীরিক আক্রমন করেনি, ছাত্রলীগের তিনজন মাস্তান ভয় দেখানোর জন্য আমার বাসা পর্যন্ত মটর সাইকেলে চেপে আর দুজন পদব্রজে অনুসরণ করতে করতে এসেছে! এদের একজন আবার মোবাইল ফোন দিয়ে ক্রমাগত ছবি তুলছিলো!

আর “মহামান্য” প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বললেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যা খুশি তা করতে পারিনা! প্রক্টরিয়াল বডিকে না জানিয়ে কেন শহীদ মিনারে গেলাম?

ধিক্কার! ভেবে অনুতপ্ত হই কেন শিক্ষকতায় এলাম! আমাদের কেউ বা আমাদের পরিবারের কেউ কোন রকম শারীরিক বা মানসিক আক্রমনের শিকার হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি দায়ী থাকবে।”

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন