মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৯:২২ পূর্বাহ্ণ


ইমরান খান সম্প্রতি পাকিস্তানের প‌্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তার আগে হয়েছেন ভারতে নরেন্দ্র মোদি । ইমরান খানের একটা প্লেবয় ইমেজ আছে আমরা জানি ! তিনবার বিয়ে আর তার রোমান্স কাহিনী সর্বজনবিদিত ! নরেন্দ্র মোদির সাংসারিক জীবন কিছুটা জটিল কারন তিনি তার স্ত্রী কে ত্যাগ করেন নি অথচ তার স্ত্রীর সাথে তার কয়েক যুগ ধরে কথা নেই এমনকি দেখাও নেই । তারপরেও সে নাকি তার স্ত্রী ! আর তার এই স্ত্রী তার জন্য মানত(প‌্রার্থনা) করে যাচ্ছে বছরের পর বছর ! আর কোন রকম দায়িত্ব পালন না করেই মোদি সে প‌্রার্থনার ফলাফল ভোগ করে যাচ্ছে আর এরকমটা মনে হয় শুধু  উপমহদেশেই সম্ভব যেখানে স্বামীরা এখনও ‘পতিদেবতা’ হয়ে বসে আছে !

কয়দিন আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঘোষনা দিয়েছেন যে তিনি আজীবন চীনের প্রেসিডেন্ট থাকবেন । ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা নামের এক লেখক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ঘোষনা দিয়েছিলেন  পৃথিবীতে লিবারেল ডোমেক্রেসির জয় হয়ছে । গনতন্ত্র পৃথিবীর এখন সবচেয়ে সেরা শাসন ব্যবস্থা । গনতন্ত্রের চেয়ে ভালো শাসনব্যবস্থা পৃথিবীবাসীর জন্য আর কিছু নেই ! অথচ সেই গনতন্ত্রের ফাঁক ফোকর দিয়েই শি জিন পিং হয়ে গেলেন চীনের এক নায়ক । শি জিন পিং চীনের একনায়ক নির্বাচিত হওয়ার আগে ক্ষমতায় কিন্ত এসেছিলেন এই গনতন্ত্র দিয়েই । আর সেই গনতন্ত্রকে হত্যা করেই আজ তিনি হলেন চীনের মহানায়ক । প‌্রথম আলোতে চীনের কংগ‌্রেস নির্বাচনের পর একটা কলাম ছিলো যার হেডলাইন ছিলো এরকম  চীন পেলো একনায়ক ! আসলেই তো শি জিন পিং হলো উদাহরণ  অগ্রাসী এক একনায়কের কোন একনায়িকার নয় !

পৃথিবীর প্রধান দেশ (প্রধান বলতে আমি আয়তনে বড় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যারা এখন প্রধান ভূমিকা পালন করে তাদের কথা বলতে চাইছি) আমেরিকা, রাশিয়া, ভারত আর চীন। খুব খেয়াল করে তাদের নেতাদেরকে  লক্ষ্য করেছেন কেউ ? লক্ষ্য করলে দেখবেন যে তারা কত বেশি পৌরুষত্বের মহিমার শক্তিতে উজ্জ্বল । শক্তি আর ক্ষমতাকে তারা কীভাবে ব্যবহার করছে ! এইসব নেতারা পুরুষদের মত ব্যবহার করে, পুরুষদের মত ভাবে, পুরুষদের মত হুংকার দেয় এবং পুরুষালী ভঙ্গিতে তারা যুদ্ধের ঘোষনা দেয় । এই সব নেতারা তাহলে কি করছে !

তারা পৃথিবীকে সেই পুরনো কাঠামোতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । তারা  জনসংখ্যার অর্ধেক  অথাৎ শুধু পুরুষদের স্বার্থ সংরক্ষণ করছে । আমরা যদি তাদের ব্যাক্তিগত জীবনের দিকে নজর দেই তাহলেও দেখবো তারা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কি পরিমান নারী বর্জিত ।

আমেরিকায় ফাস্ট লেডি বলে একটা পদ আছে যারা সাধারনত প্রেসিডেন্ত্রের স্ত্রী হয়ে থাকে। আমার ধারনা এই পদটা তৈরি করা হয়েছিল কারন মনে করা হয়েছিলো স্ত্রী অন্তত তার স্বামীর জীবনে প্রভাব রাখবে । তার কঠিন সময়ে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময়ে তার  হাত ধরবে । আচ্ছা আপনাদের মেলিনিয়া ট্রাম্পকে দেখে কি কখনও মনে হয়েছে এই নারী তার স্বামীর সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে ! কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বামীর পাশে গিয়ে দা্ঁড়ায় ?কয়েকদিন আগে একটা নিউজে দেখলাম সে তার স্বামীর হাতই ধরে না প্রকাশ্যে ! আমি জানি না নিউজটা কতটুকু সত্য কিন্ত যা রটে তার কিছু তো ঘটের মতো করে যদি মনে করি এটা আংশিক সত্য তাহলে যে নারী তার স্বামীর হাতই ধরে না, ধরতে চায় না সে তার স্বামীর সাথে কোন সিধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে এরকম ভাবাটাই তো অবান্তর । এবার একটা শক্তিমতী রানীর উদাহরণ দেই। এখন বলতে পারেন নারী রেখে রানী কেন ! কারন এই রানী প‌্রথমত নারী তার নিজের শক্তি আর বুদ্বির আলোকে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন তাই !

বাদশাহ হুমায়ন সম‌্রাট বাবরের ছেলে একবার এক নারী কে বিয়ে করতে চাইলেন কিন্তু সে নারী  বিয়ের কথা শুনে বেঁকে বসলো । সে কিছুতেই সম‌্রাট হুমায়ন কে বিয়ে করবে না ! তখন সে নারীর কাছে কারন জানতে চাওয়া হলে সে জানালো আমি এমন কাউকে বিয়ে করবো যার হাত চাইলেই যখন তখন  ধরা যায় । আমি এমন কাউকে বিয়ে করবো না যাকে দেখলেই কুর্নিশ করতে হয় । এই মহীয়সী নারীটি ছিলেন হামিদা বেগম বাদশাহ হুমায়নের স্ত্রী ,মহামতি আকবরের মা ।  (বাদশাহ নামদার, হুমায়ুন আহমেদ)

আমাদের পৃথিবীটা আসলে রয়ে গেছে এরকমই আমাদের নারীরা  তাদের স্বামী কে কুর্নিশ করে তার হাত ধরে না অথবা চাইলেও নারীরা তার স্বামীর হাত ধরতে পারে না ! আমরা হয়  শাষিত হই অথবা শোষিত হতে ভালোবাসি !

তবে এই নৈরাশ্যের পৃথিবীতে একমাত্র আশার আলো হয়ে আছে জাস্টিন ট‌্রুডো ! ট‌্রুডোর বাজেটর নাম হলো Feminist Budget policy এবং এটাই মনে হয় পৃথিবীর প‌্রথম নারী বান্ধব বাজেট। এছাড়াও কানাডা পিতৃত্বকালীন ছুটি ঘোষনা করেছে যাতে সন্তানের দায়িত্ব মায়ের সাথে পিতাও গ‌্রহন করতে পারে ! আর ট‌্রুডোর পারিবারিক ছবি দেখেছেন ?কত সুন্দর আনন্দে ঝলমলে করা একটা সুখী পিতা আর স্বামীর ছবি !

শেষ করছি ইলিনয় রুজভেল , ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এর স্ত্রীর একটা উক্তি দিয়ে –

নারীরা হচ্ছে টি ব্যাগের মতো, তুমি কখনই জানবে না তারা কতটা শক্তিশালী যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি তাকে গরম পানিতে ফেলবে ! তাই যেই মেলেনিয়া ট‌্রাম্প প‌্রতিনিয়ত আমাদের কাছে ট‌্রলের শিকার হচ্ছে আমরা আসলে জানি না সে কতটা শক্তিশালী কারন ট‌্রাম্প এখনও তাকে গরম পানিতে ফেলেনি !

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন