রবিবার, ১৯ জুন ২০২১; ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ


 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্যের অভিযোগে কারাগারে আটক খ্যাতনামা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি চেয়ে খোলাচিঠি লিখেছেন অর্থনীতিতে নোবেলবিজয়ী জোসেফ স্টিগলিস। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত চিঠিতে অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিস ছাড়াও আরও ১২ জন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব শহিদুলের গ্রেফতারকে বেআইনি ও নেক্কারজনক আখ্যা দিয়েছেন।

গার্ডিয়ানের মূল রিপোর্টটি পড়তে পারেন এখানে

শহীদুল আলমের গ্রেফতারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিধি ও মানবাধিকারের বৈশ্বিক ঘোষণা, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক বিধি, এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছেন তারা। তারা বাংলাদেশ সরকারকে সিদ্ধান্তটি দ্রুত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আটক শহিদুল আলম নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আদালতে নেওয়ার সময় তিনি খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটছিলেন। তাঁকে খালিপায়ে আদালতে উঠানো হয়েছে। সে সময় তিনি বলেছেন, আমি একজন আইনজীবী চেয়েও পাইনি। আমাকে বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে। আমার রক্তমাখা পাঞ্জাবি ধুয়ে তা আবার পড়ানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সরকারের নিন্দনীয় দমননীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এব্যাপারে বিবৃতি দেওয়ার কারণে শহিদুলকে সাদা পোশাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের ঘটনাকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ও এর সমর্থক বাহিনীর চলমান বেআইনি ও সহিংস কর্মকাণ্ডের নজির আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাবার বুলেট ব্যবহারের সমালোচনাও করা হয়েছে চিঠিতে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগের কথাও বলা হয়েছে তাতে।

খোলাচিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিস ছাড়াও ভারতের পিপল’স সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বিনায়ক সেন, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গায়ত্রী চক্রবর্ত্তী স্পিভাক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুডিথ বাটলার ও অ্যাঙ্গেলা ডেভিস রয়েছেন। এছাড়া মার্কিন ভাষাবিদ ও রাজনীতি বিশ্লেষক নোম চমস্কি, ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়সহ বিশ্বের খ্যাতনামা লেখক-সাংবাদিক-শিল্পীরা তাকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের ‘অপরিহার্য উপাদান’ আখ্যা দিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনভাবেই  গণমাধ্যমের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। শহিদুলের ঘটনাকে ‘তার ওপর নিষ্ঠুর আচরণ’ আখ্যা দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, এই ধারার কর্মকাণ্ড মুক্ত গণমাধ্যমের অধিকারকে নস্যাৎ করে। তারা বলেছেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এর নিন্দা জানাই’।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন