মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৬:০২ অপরাহ্ণ


আজ থেকে ত্রিশ বছর পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে শিক্ষাবিদ ও গবেষক বিনিময় শুরু হয়। মূলত তার পর থেকেই চীনা একাডেমিকরা ভৌতবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও অংকশাস্ত্রে বিশ্বে শীর্ষ অবদান রাখতে শুরু করে। এতে শংকিত হয়ে একাডেমিক সহযোগিতা কমানোর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যে নীতি তা চীনাদের থামাতে পারবে না।

দশকের পর দশক ধরে চীন যে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে তার প্রধান উপায় ছিল কৃষিশ্রমিককে কারখানার দিকে ধাবিত করা। এই করে করে যখন দেশটি লুইসিয়ান (আর্থার লুইসের বিখ্যাত দ্বৈত অর্থনীতি ধারণা যেখানে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়) টার্নিং পয়েন্ট ছুঁয়ে ফেলতে শুরু করে তখন থেকেই এই রূপান্তর আর সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে না। আর তখনই চীন সরকার তার বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর আরেকটি প্রকোষ্ঠ উম্মোচন করে।

এই প্রচেষ্টার একটা ফল আজ আমরা দেখি বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে ১১ টি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা করে নেওয়া।

নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিঙ্গন্যান এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড ফ্রিম্যান বৈশ্বিক সায়েন্টিফিক আউটপুটে চীনের অবদান নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা করেছেন। তারা হিসাব করে দেখেছেন ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভৌতবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও অংশশাস্ত্রে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে চীনের অবদান চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং ২০১৬ সালের মধ্যেই চীনের অবদান যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এই লেখকদ্বয় দাবি করেন এই হিসাবটি চীনাদের অবদানকে খাটো করে দেখছে কারণ এখানে লেখকের ঠিকানাকেই তার অরিজিন কান্ট্রি হিসেবে দেখা হয়েছে। এতে করে অনেক চীনা গবেষক বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত অবস্থায় যে গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন তা চীনের হিসাবের ঝুলিতে পড়ছে না। তাছাড়া চীনা ভাষায় অনেক মূল্যবান গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে যেগুলোও হিসাবের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

গবেষকদ্বয় এই ফ্যাক্টরগুলো বিবেচনায় নিয়ে দেখেছেন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে চীনের অবদান বৈশ্বিক পরিমন্ডলের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি।

তাছাড়া চাইনিজ গবেষণাপত্রের গুণগত মানও বৃদ্ধি পাচ্ছে যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের চেয়ে চাইনিজ গবেষকরা অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে আছে। একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায় সাইটেশনের দিক দিয়ে চীনা গবেষকরা খুব দ্রুতই বৈশ্বিক নেতৃত্বে চলে আসবে। ২০১৬ সালের হিসাবে দেখা যায়, পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক জার্ণাল, নেচার এবং সায়েন্সের মোট অথরের ২০ শতাংশই চীনা যেটি ২০০০ সালে ছিল ১০ শতাংশ।

এই অভিনব অর্জন অবশ্য বিশ্বের অনেকেরই মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে চীনের সাথে তাদের একাডেমিক সহযোগিতার ফলেই চীন আজ তাকে টপকাচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র চীনাদের ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করছে। তাঁদের স্টাডি ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে বেশ রক্ষণশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই চীনা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র যতোই চেষ্টা করুক না, ফ্যাক্ট হল চীনের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে গিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও চীনের বৈশ্বিক নেতৃত্বে আসাটা এখন একটি ঐতিহাসিক সত্য।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন