, ১৩ জুন ২০২১; ৭:৫৭ অপরাহ্ণ


কোটা সংস্কারের সিদ্ধান্ত একটা সিম্পল সিদ্ধান্ত ছিল। একটা লজিকাল সিদ্ধান্ত ছিল। ছাত্র ছাত্রীদের গনদাবীর মুখে, সেইটা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখাতে ছাত্ররা যখন ছোট খাট একটা গনবিস্ফোরণ ঘটায়, সেইটা তখন শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইগোর ইস্যুতে পরিনত হয়।

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত গ্রহনের একটা পরিষ্কার রুপ হচ্ছে, তিনি কখনো দেখাতে চান না যে, তিনি চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন তিনি সংসদে ঘোষণা করেন, সব কোটা বাতিল হবে। অদ্ভুত।

কেউ সব কোটা বাতিল চায়নি,প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে অবাঙ্গালি উপজাতি এবং প্রতিবন্ধীদের কোটা সংরক্ষণ সমাজের সকল শ্রেণির মধ্যে ব্যাপক জনসম্মতি আছে। কিন্ত, বলা হলো সেইটাও বাতিল করে দেওয়া হবে। এবং এখন তাই হয়েছে।

কিন্ত তারপরে যে হাতুড়ি, বাটালি নির্যাতন চলেছে। ডিবি দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং জেল মামলা চলেছে তাতে এইটা পরিষ্কার- সরকার দেখাতে চেয়েছে- আমরা দাবী মেনেছি কিন্ত আমরা বাধ্য হই নাই। ইচ্ছা হইছে, মারছি। পাড়ায় যে বড় মাস্তানটা থাকে, তাকে যখন জোর করে , চাদাবাজির জন্যে রাস্তা ব্লক করে দেয়া ফুটপাথের উপরে তৈরি সামিয়ানা গনদাবীর মুখে সরাইতে বাধ্য করা হয়, তখন, সে সেই সামিয়ানা সরায় কিন্ত, তারপরে সে শোধ নেয়, কারা কারা সেই দাবিতে নেতৃত্ব দিছে তাদের উপরে।

এখন সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে, প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির সব কোটা বাতিল করেছে। তারপর পুলিশ এবং হাতে গোনা কয়েক জন ছাত্র দিয়ে শাহবাগ সিজ করে দেখাতে চাচ্ছে সেই খানে ব্যাপক আন্দোলন হচ্ছে। সরকারের এই দাবী পুরন, কোন পক্ষকে সন্তুষ্ট করেনি, কিন্ত সবাইকেই শাস্তি দিয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারিরা শুধু মাত্র প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণী নয় সব শ্রেণীতেই সংস্কার চেয়েছে। ফলে, প্রথম এবং দ্বিতীয় বাদে সকল পদে, ঠিকই ৫০% এর অধিক কোটা বহাল থাকলো। উচু পদের চাকুরীর জন্যে প্রতিবন্ধী এবং প্রান্তিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্যে যে সংরক্ষণ ছিল, সেইটা বাতিল হলো। সুবিধাবঞ্ছিত জনগোষ্ঠীকে প্রেফারেন্স দিয়ে এগিয়ে আসার সুযোগ দেয়ার রাষ্ট্রীয় কমিট্মেন্ট সেইটা থেকে রাষ্ট্র সরে আসলো, কারো দাবী ছাড়াই।

রাস্তা ব্লক করে, মানুষকে হয়রানি শুরু হলো। এই যে সাফারিং, এই গুলোর কোন দরকার ছিলনা। বিভিন্ন মত পথের লোক দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য পাবলিক কমিশান করে, তাদের প্রস্তাব অনুসারে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে নিলে, কারো ইগোতে আঘাত লাগতো না, কেউ তেমন সংক্ষুব্ধ হতো না, একটা লজিকাল, রাশনাল সলিউশান মোটামুটি সবাই মেনে নিত।

কিন্ত এখন কি হল ? এখন সবাইকে ঘুরায় দেয়া হইল। রাষ্ট্র এই ভাবে চালানো যায়না। রাষ্ট্র কোন ছেলে খেলা না। কিন্ত আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার কাছে এই দেশ হইল বাপের তালুক। এই খানে উনারা যা ইচ্ছা তা করতে পারেন, তাতে কত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে কি ইম্প্যাক্ট আসলো সেইটা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নাই।

যদি এই খানে স্টেক থাকতো কিংবা আসলেই কিছু হারানোর থাকতো তাহলে কথা ছিল যে সরকারের অনেক কিছু লুজ করছে তাই, তারা এই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে, একটা লজিকাল ওয়েতে কোটা সংস্কার করলে কারো কোন ক্ষতি হতো না।

আর কোটা পদ্ধতি সংস্কার করলে তো তো শুধু হবেনা। যারা ছাত্র টিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে তাদের বিচার করতে হবেনা ? সেই ছেলেতো এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। যাদের সিদ্ধান্তে নির্যাতিত ছাত্র ছাত্রীদের হস্পিটাল থেকে বঞ্ছিত করা হয়েছে, তাদের বিচার করতে হবেনা ? যে রাষ্ট্র নায়ক এই ভাবে খামখেয়ালিপনা দিয়ে দেশ চালায়, তার বিচার করতে হবেনা ? এতো গুলো হলে গুলি হলো হামলা হলো, যেই গুলোর ভিডিও আমরা শেয়ার করেছি তার বিচার কতে হবেনা ? যে ছাত্রীটিকে নির্যাতনের কারনে হলে পা কেটে রক্ত বের হলো তার উপরে করা অপরাধের বিচার করতে হবেনা?

এই ধরনের একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে সবাই যে বিপদে ফেলে, তার দেশ চালানোর কোন অধিকার নাই। ব্যক্তিগত ইগো এবং ক্ষমতা ধরে রাখার উদগ্র বাসনা এবং প্রতিহিংসা পরায়নতা দিয়ে জনগনকে এই ভাবে স্লো টর্চার করে এই ভাবে রাষ্ট্র চালানোর কোন ইতিহাস আধুনিক বিশ্বে চোখে পরেনা।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন