, ১ জানুয়ারি ২০২১; ১২:২২ অপরাহ্ণ


আমাদের উন্নয়ন গল্প নিয়ে অনেকেই বলেন, আচ্ছা এই ডাটা গুলো যদি ভুয়া হইতো তাহলে কি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ব্যাংক, এডিবি বা বাকি ডেভেলপমেনট পার্র্টনাররা ধরতো না ?

এই কথাটার তিনটা সাইড আছে।

আমাদের উন্নয়নের গল্প এবং প্রবৃদ্ধি ভুয়া না। আমাদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ উন্নয়ন এবং প্রবৃদ্ধি প্রতি বছর হচ্ছে। প্রতি বছর যে হারে মানুষ বারে, যে পরিমাণ লোক বিদেশে যায়, যে পরিমাণ অসুখের পেছনে খরচ হয়, যে পরিমাণ মানুষ সিন্ডিকেট গুলোকে দেয়- একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রবৃদ্ধি আমাদের অবশ্যই হচ্ছে।

প্রবলেম হচ্ছে এই নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রোথকে অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। আমি পারটিকুলারলি একটা প্রব্লেম দেখি, সেইটা হচ্ছে আমাদের প্রাইভেট সেক্টরের ইনভেস্টমেন্ট সরকারের হিসেবে মতেই অনেক কম। ফলে প্রাইভেট সেক্টরের গ্রোথ খুব অল্প হচ্ছে।

কিন্ত সরকার, এই গ্রোথটাকে আগের মত স্কেলে দেখাচ্ছে। একই সাথে গভর্নমেন্ট সেক্টরে সরকার আসলে, ঋণ করে, এবং জনগনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে খরচ করছে। ফলে, সরকারি সেক্টরে আসলেই খরচের একটা  হচ্ছে। এইটা অবভিয়াস। এখন প্রাইভেট সেকটরের ভুয়া প্রবৃদ্ধি এবং সরকারের আগের চেয়ে খুল্লাম খুল্লা, লুটের গ্রওথ নিয়ে, এখন একটা বিশাল অঙ্কের গ্রওথ দেখানো হচ্ছে সেইটাই প্রধান ফাঁকি। কিন্ত একেবারে গ্রওথ হচ্ছেনা, সেইটা কেউ বলছেনা। আমরাও বলছিনা।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবি এবং ডেভেল্পমেন্ট পার্টনাররা প্রায়ই সরকারি এই গ্রোথের ফাঁকি টাকে ধরে। মনে করুন, জিডিপি মাপতে দুইটা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, একটা হচ্ছে, ইঙ্কাম বেজড আরেকটা হচ্ছে এক্সপেন্ডিচার বেজড। এই দুইটা অঙ্কের হিসেবে একই দেখানোর কথা। আমরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মত, এক্সপেন্ডিচার বেজড হিসেব করি।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এই বছরের ফার্স্ট কয়ারটারলি রিভিউতে দেখিয়েছিল, আমাদের ইঙ্কাম এবং এক্সপেন্স বেজড হিসেবে বড় ডিফারেন্স আছে। তারা সেইটা প্রশ্ন করেছে কিন্ত কোন উত্তর পায় নাই। বিশ্বের অন্যান্য দেশে, ইকমিস্টরা এইটা ধরে ফারা ফারা করে দিত কিন্ত বাংলাদেশে সেই ধরনের হ্যাডাম ওয়ালা ইকনমিস্ট নাই। এই খানে বড় বড় ব্যাংকের সিনিয়র একজেকিউটিভদের ধরা হয় ইকনমিস্ট যাদের মূল দক্ষতা হইল, ঋণ বেচা। বাকি থাকে কিছু একাডেমিকস যারা চাইলেও, সরকারি চাকুরীর কারনে একটা লেভেলের উপরে কিছু বলতে পারেনা বা তাদের সেই রকম ডিটেল কাজের সুযোগ নাই।

আরো তিনটা একটা উদাহরন দেই, ২০১১ সালের আমাদের যে আদমশুমারি হলো তার পরে, এডিবি এবং অন্য ডেভেল্পমেন্ট পারটনাররা বললো, যে জনসংখ্যা এতো কম হতে পারেনা। তাই তাদের চাপে পরে একটা সার্ভে করানো হয়, বিডসকে দিয়ে। বিডস সার্ভে করে বলে যে, আমাদের আদম শুমারিতে ৪% মানুষকে ধরা হয় নাই। 

সেইটা পেপারে এসেছিল। কিন্ত, সেইটার ভিত্তিতে মূল ডাটা কারেক্ট করা হয় নাই।

দ্বিতীয় উদাহরণ হলো বাংলাদেশের ২০১৭ সালের ভাইটাল স্টাটিস্টিক্স ডাটা অনুসারে, ৯৮% মানুষ নিরাপদ পানি পান করে অন্য দিকে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের রিসেন্ট একটা সার্ভে যেইটা এই অক্টবরেই প্রকাশিত হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, এই দেশের ৯৩% মানুষ নিরাপদ পানি পায় না এর মধ্যে ৪১% মানুষ যে পানি খায় তাতে পায়খানার জীবাণু আছে।
কিন্ত প্রবলেম হচ্ছে এই গুলো নির্দিষ্ট এনজিও সার্ভে আর অফিসিয়াল স্টাটিস্টিক্স। এখন এই সার্ভে টা করেছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। কিন্ত মনে করে, ইউএনডিপি যদি মানব সম্পদ উন্নয়নের ডাটা ব্যবহার করে, তবে, তারা কোনটা ব্যবহার করবে, তারা ৯৯% ক্ষেত্রে অফিস্যাল স্টাটিস্টিক্সটা ব্যবহার করবে।

 

তৃতীয় উদাহরণ হচ্ছে, আমাদের যেই পরিমাণ ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে, সেই রেসিওতে এই পরিমাণ গ্রওথ হওয়ার কথা না, সেইটা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আজকে বেশ কয়েক বছর ধরে বলে যাচ্ছে। এবং এই টাই হচ্ছে, থারড প্রবলেম। আমাদের দেশের সকল বেজ ডাটা সরকারের কাছ থেকে আসে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুবই আগ্রহের সাথে জানার চেষ্টা করেছি, আমাদের মানব সম্পদ উন্নয়নে ডাটা এতো ভালো কিভাবে ?

আমরা সকল চিকিতসার জন্যে ইন্ডিয়া যাই, পৃথিবীর সব চেয়ে নোংরা এবং জঘন্য শহরে থাকি কিন্ত তবুও আমাদের চিকিতসার ইন্ডেক্স ভারত থেকে ভালো কিভাবে হয়, যেখানে আমি ভারত ঘুরে দেখেছি, সেই খানে সাধারণ একজন মানুষের জন্যে সরকারি খরচে কি সুন্দর চিকিৎসা আছে।

এই গুলো খুজতে গিয়ে একটা জিনিষ জাঞ্ছি, সেইটা হচ্ছে আমাদের মানব সম্পদ উন্নয়নের পুরো ডাটার একটা মাত্র সোর্স, সেইটা হচ্ছে, বিবিএস। এবং বিবিএসের হাউজহোল্ড ইঙ্কাম সার্ভে এবং ভাইটাল স্টাটিস্টিক্স। এখন বুঝতে হবে, আমারা এই আলোচনায় অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রের আলাপ করছি না। আমরা রাজনীতির আলাপ করছি। এবং এই রাজনীতি কিভাবে মিথ্যা বলে আমরা দেখি।

এদের মিথ্যা বলার ক্ষমতা এমন অসীম যে এরা এক দিকে হেলমেট বাহিনী এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যারা আহত হয়েছে, তাদের এরা অপরাধি করে।
ফলে আজকে উন্নয়ন দেখানো যখন এতো বড় একটা রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা যেই যুক্তি দিয়ে তারা একটা অবৈধ খমতা দখলের যুক্তি তইইর করতে পারে, তখন চিন্তা করে দেখেন তারা কি পরিমাণ মিথ্যা বলতে পারে। পদ্মা সেতু কত পারসেন্ট হইছে, তারা কত পারসেন্ট দাবী করেছে ?

কিন্ত যেইটা বোঝার বিষয় সেইটা হচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সহ ডেভেল্পমেন্ট পারটনাদের সরকারি ডাটার উপরেই নির্ভর করতে হয়।

চার নাম্বার বোনাস পয়েন্ট। পয়েন্ট টা হচ্ছে এই অধিকাংশ ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের স্বার্থ আছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখানোর। তারা সকলেই মূলত ঋণ বেচে। এমনকি তাদের ঋণের যদি ইফেক্টিভনেস দেখানো যায়, সেইটাতে কর্মকর্তারা বোনাস ও পায়। ফলে, বাংলাদেশের একটা ব্যাপক উন্নয়ন হইতেছে এইটা দেখানোতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা এডিবির স্বার্থ রয়েছে এবং তাদের কর্মকর্তাদের স্বার্থ রয়েছে।

কিন্ত মোস্ট ইম্পরটেন্টলি তারা একক ভাবে কোন সার্ভে করতে পারেনা, তাদের লোকাল পারটনাদের উপরে নির্ভর করতে হয়। কিন্ত লোকালি ভালো রিসারচ হচ্ছেনা, যার উপরে তারা দাড়াতে পারে। ফলে, তারা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার মত কিছু দাবী করার রিস্ক নেয় না। কারন সেই ক্ষেত্রে তারা কোন ব্যাক আপ পাবেনা এবং তাদের প্রাইমারী সারভে করার কোন ম্যাকানিজম নাই।

ফলে, তারা সব সময়েই সরকারি ডাটার উপরে নির্ভর করে এবং সন্দেহ গুলো ডিপ্লোমেটিক লাঙ্গুয়েছে কিছু কথা বলে, এগিয়ে যায়। কারন সেই সন্দেহ গুলো নিয়ে তেমন গভিরে যায় না। কারন তাদের যাওয়ার সুযোগ নাই।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন