শনিবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ


বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন গল্পের সব চেয়ে বড় ফাকি হলো, জাতীয় সঞ্ছয়পত্র। জাতীয় বাজেটকে অনেকে ভাবেন রাষ্ট্রের বাজেট। বস্তত রাষ্ট্রের কোন বাজেট নাই, বাজেট হইলো সরকার নামের প্রতিষ্ঠানটার বাজেট। এই প্রতিষ্ঠানটাকে যে কোন প্রতিষ্ঠানের মত খরচ করতে হলে আয় করতে হয়।
বাংলাদেশ সরকার দেখায় যে তার আয় বারতেছে কারন কারন দেশের অর্থনীতির সাইজ বাড়তেছে। কথাটা সত্য। অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনীতির সাইজ বাড়ছে।

কিন্ত অর্থনীতির সাইজ যেই হারে বারতেছে, সরকার তার থেকে অনেক বেশী গতিতে তার খরচ বাড়াইতেছে। ফলে, এই দুইটার মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হইছে। তাই, বাংলাদেশের সরকারের তার নিজের খরছের বড় একটা অংশ আন্তেছে ঋণ কৈরা। এবং এই ঋণ এখন তারা ব্যাঙ্কিং সিস্টেম থেকেও বেশী করেনা, বিদেশ থেকেও আনেনা।

তাদের মূল আয়ের সোর্স এখন সঞ্চয় পত্রের ঋণ। শেয়ার মার্কেট পতনের পরে যখন মার্কেট স্ট্যাগ্নেন্ট হয়ে গেলো তখন ব্যাংক গুলোর ঋণ দিতে পারলো না, ফলে, তাদের কাছে এক্সেস মানি হয়ে যাওয়াতে ডেপোজিটের হার কমায় দিলো। এই সময়ে, পেনশনারদের রক্ষার নাম দিয়ে, সরকার মার্কেট রেট থেকে বাড়তি রেটে, হাজার হাজার কোটি টাকা সঞ্চয় পত্রে জমা করতে রাখল।

তো সঞ্চয় পত্রে সারা দেশের মানুষ যে টাকা জমা করে, সেইটা যায় কোথায় ? সেইটা সরকার সঞ্চয় পত্র থেকে ঋণ করে এবং তার থেকে তার অতিরিক্ত খরচ মেটায়। প্রতি বছর নতুন নতুন যে, সঞ্চয় জমা হচ্ছে সেই খান থেকেই সে আগের বছর গুলোর সুদের টাকা ফেরত দেয়। কিন্ত এই প্রতিষ্ঠানটার কোন আয় নাই।

এইটা জাস্ট বাংলাদেশ সরকারের সোনার ডিম। যেইটার থেকে সরকার, গত বছর প্রায় ৪৬, ৫৩০ কোটি ঋণ করেছে। এই বছরেও প্রতি মাসে, ৫০০০ কোটি টাকা করে নিচ্ছে। ফলে কিন্ত এই গুলো জমতেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বার আপডেট মতে, সঞ্চয় পত্র থেকে, সরকারের মোট ঋণ এখন ২৪২,৮০২ কোটি টাকা। 

এইটা অনেক বড় অঙ্কের একটা টাকা। এবং শুধু সঞ্চয়পত্র নয়, সরকার আরো বিভিন্ন সোর্স থেকে এখন এমন পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে যা মাত্র ১০ বছর আগের আমাদের মোট বাজেটের সমান। সেইটাকে এখন আবার উন্নয়ন নামে চালানো হইতেছে। একটি পারস্পেটিভ যদি আনি গত বছর আভ্যন্ত্ররিন এবং বিদেশী সোর্স থেকে সরকারের মোট ঋণ ছিল, ৮০ হাজার কোটি টাকার মত। যেখানে ২০০৮ সালে তত্তাবধায়কের শেষ বছর সরকারের মোট বাজেট ছিল, ৮০ হাজার কোটি টাকার মত।

বিষয়টা এই জন্যে বললাম যে, বিগত ১০ বছরে আমাদের সরকারের কাছ থেকে কোন জিনিষটা পেয়েছি বা কোন সার্ভিসটা ভালো পাচ্ছি ? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মানুষ খেটে খুটে আগাইছে কিন্ত আমাদের সরকার রয়ে গাছ্যে আগের মতই লুটের এবং খরুছে এবং অদক্ষ। আজকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ করে, ২০০৮ সালে, সেই পরিমাণ ছিল, তার মত বাজেটের সমান।

এই সঞ্চয়পত্র থেকে কিন্ত সরকারকে, ১০% বা তার চেয়ে বেশী হারে ঋণ দিতে হবে এবং এই সঞ্চয়পত্র গুলো এক সময়ে ম্যাচুর হলে, সরকারকে, তার মূলটাও ফেরত দিতে হবে। খুব খেয়াল করবেন, বাৎসরিক সুদ না, মূল টাকাটাই কিন্ত আগামী দুই তিন বছর নাগাদ ফেরত দিতে হবে, যেইটা সরকার অনুতপাদনশীল খাতে খরচ করে ফেলছে।

কারন সঞ্চয় পত্রের বেশীর ভাগ ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদী। ফলে, সরকারের এক্সেসিভ বিঞ্জ সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়ার যে অভ্যাস সেই গুলো এখন ম্যাচুর হওয়া শুরু হবে, এবং আগামী বছর গুলোতে আভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ আমাদের সরকারের বাজেটে অনেক বড় একটা খরছ হিসেবে যোগ হবে, কারন, সরকারকে তখন এই পুরো টাকাটা ফেরত দিতে হবে। আবার এই একই সময়ে সরকারের অন্য খরচ ও বেড়ে গ্যাছে। ফলে সরকারকে জনগণের উপরে নিশপেশন বাড়ায় দিতে হবে। এবং আরো বেশী বেশী ঋণ করতে হবে।

এইটা একটা ডেঞ্জারাস সিনারিও এবং এই আলাপের পলিটিকাল ইম্প্যাক্ট ও আছে। যারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকার, ২০০১৪ থেকে, ২০১৮ যেভাবে চালাইছে, সেই ভাবে আগামী বছর গুলোতে চালায় যেতে পারবে, আই এম সরি পারবেনা।

এতো বছরের ফাইনান্সিয়াল মিস ম্যনেজট্মেন্ট খুললাম খুল্লা দুর্নীতি এবং দেশের বাহীরে অর্থ পাচার, এলিটদের খুশী করার জন্যে তাদের বিভিন্ন ইন্সেন্টিভ দেয়া, সরকারের প্রতিষ্ঠানদের ইচ্ছা মত খরচ বাড়ানো- কিন্ত, একই সাথে কর্ম সংস্থান হীন উন্নয়ন ফলে জনগজনের অবস্থার অবনমন -এর ইম্প্যাক্ট আসতেছে।

এবং এইটা শুধু আওয়ামী লীগ নয়, আগামী যে কোন সরকারের জন্যে সরকার চালানো খুব দুষ্কর হয়ে যাবে। কিন্ত, আজকে আমরা একটা ভয়ংকর অসুরের হাতে পড়েছি এবং আমাদের সরকারকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা এতো কম এর দায়ে এরা উন্নয়ন গল্প সাজিয়ে সব শুধু লুটে নিচ্ছেনা না মাত্রাতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে আমাদের ভবিস্য্যত সম্ভাবনাকেও ধ্বংস করছে, যার দায় এই দেশের প্রতিটা মানুষকে নিতে হবে। কোন অল্টারনেটিভ নাই।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন