শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১১:০৫ অপরাহ্ণ


Photo: Jonoporisor

রিপোর্ট: আয়মান রাহাত

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি স্বাধীনতা উত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক চার ভিপি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সাবেক এই চার ছাত্রনেতারা হলেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও স্বাধীন বাংলাদেশে ডাকসুর প্রথম ভিপি জনাব মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর দুইবারের ভিপি জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি জনাব সুলতান মুহম্মদ মনসুর এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উপদেষ্টা ও নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা ও তৎকালীন ডাকসুর ভিপি জনাব আমানুল্লাহ আমান। রাজধানীর বাংলামটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘জনপরিসর’ কর্তৃক আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় সাবেক এই ছাত্রনেতারা তাদের এই অভিমত তুলে ধরেন।

কোটা সংস্কারের দাবিকে যৌক্তিক দাবি করে একাত্মতা ঘোষণার পাশাপাশি সাবেক এই ছাত্রনেতারা আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর সরকারের দমন-নিপীড়নমূলক আচরণ, পুলিশি হামলা এবং তিন ছাত্রকে চোখ বেঁধে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গভীর রাতে অভিভাবকদের ডেকে এনে তিন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। ভিসির বাসভবনে হামলার প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বক্তারা সরকারের প্রতি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে তা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

Photo: Jonoporisor

জনাব মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমাদের জনগোষ্ঠীকে অগ্রসর করতে হলে প্রশাসন পরিচালনা হতে হবে মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে। তিনি বলেন ৫৬ ভাগ কোটা রাখার মাধ্যমে দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে। কোটা বাতিল নয়, বরং সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করায় ছাত্রছাত্রীদের তিনি অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই দাবি শুধু ছাত্রছাত্রীদের দাবি নয়, এই দাবি দেশের ষোলকোটি মানুষের। এছাড়াও তিনি কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার নিন্দা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেস্টরুম কালচারের মাধ্যমে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উপর নিপীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানান।

Photo: Jonoporisor

জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই ছাত্র অভ্যুত্থানের চাপে সংসদে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা দাবি না মানার জন্য সুচিন্তিত কৌশলমূলক অবস্থান। তিনি দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণার মাধ্যমে এই যৌক্তিক দাবির বিপরীতে আরেকটি আন্দোলন তৈরি হওয়ার উস্কানি দিয়েছেন। তিনি আন্দোলনের সাথে জড়িত ছাত্রছাত্রীদের সুপরিকল্পিত উপায়ে এই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনাব সুলতান মুহম্মদ মনসুর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মধ্যরাতে অভিভাবকদের ডেকে এনে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দিয়ে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি নজির স্থাপন করেছে। তিনি দাবি করেন বর্তমানে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরকম একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পেরেছে। তিনি গত ২৮ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়াকে অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি করে বলেন, ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে না দেওয়া বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ।

Photo: AM

জনাব আমানুল্লাহ আমান বলেন কোটা সংস্কারের দাবিতে এই যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ছাত্রছাত্রীদের ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশে কমিটির তিন ছাত্রনেতাকে চোখ বেঁধে তুলে নেওয়া হল। তিনি বলেন, সরকার যেকোনো ভিন্নমত দমনের উদ্দেশে গুম, খুনের মাধ্যমে যে কৌশল জারি রেখেছে এটি তারই একটি ধারাবাহিকতা।

Photo: Jonoporisor

উক্ত আলোচনা সভায় বক্তারা সরকারকে ছাত্রছাত্রীদের এই যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আন্দোলনের সাথে জড়িত ছাত্রছাত্রীদের উপর চলমান দমনমূলক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করে নিরাপত্তা প্রদানের আহ্বান জানান। এছাড়াও তারা অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন