শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১০:৪২ অপরাহ্ণ


রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাত

রাকিব হাসানঃ কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের কিশোর আলোর সিগনেচার ইভেন্ট ‘কিআনন্দ’ চলার সময়ে রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাত ইলেকট্রিক শকে আহত হয়৷ পরে হাসপাতালে নেয়ার পরে আবরার মারা যায়।

এই ঘটনা কোন মিডিয়ায় এখনো আসেনি। কারণ পুরো ঘটনাটিই সেন্সর করা হয়েছে। অগত্যা ফেসবুকে তিন চারজনের স্ট্যাটাস পড়লাম। কয়েজনকে জিজ্ঞেস করে ঘটনাগুলা একটার সাথে আরেকটা মেলানো হলে যা দাঁড়াল তাই লিখছি।

১) পুরা প্রোগ্রাম জুড়ে সিকিওরিটি প্রটোকল মানা হয় নাই। লাইভ ইলেকট্রিক ওয়্যার ছড়ানো ছিল। এমন একটা তার থেকেই শক লাগসে।

২) শক খাওয়ার পরে ছেলেটাকে পাশের সোহরাওয়ার্দী হসপিটালে না নিয়ে দূরে মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে, কারণ ফেস্টের স্পন্সর নাকি কোন এক মেডিক্যাল কলেজ আর হাসপাতাল। স্পন্সরের ইন্টারেস্ট ক্ল্যাশ নাকি করে এইজন্যে এই কাজ। রিমেম্বার, ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা না করে ছেলেটাকে কাছের হাসপাতালে নিলে হয়তো সারভাইভ করতে পারত! নিজেদের বাচাতে স্রেফ মেরে ফেলল অর্গানাইজাররা, কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার!

৩) ছেলেটা জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার সময়ে তারা ‘কিআনন্দ’ উদযাপন করে গেছে। কাউকে ঘুণাক্ষরেও জানতে দেয়া হয় নাই। একটা দুর্ঘটনা ঘটার পরেও তারা কন্টিনিউ করসে বাকি বাচ্চাদের কথা চিন্তা না করে। কনসার্ট করেছে সিকিওরিটি এনশিওর না করে।

৪। ভলান্টিয়ারদের বাই ফোর্স ঘটনা চেপে যেতে বলা হয়েছে! মিডিয়াতেও এই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দিবে আর কি! আনিসুল হকরা যে নিজেদের স্বার্থের জন্যে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের ইউজ করতে দ্বিধাবোধ করে না এইটা জানা ছিল। কিন্তু এরা যে একটা বাচ্চার জীবনের বিনিময়ে কিআনন্দ মারিয়ে পিশাচের সমপর্যায়ে নামবে, এইটা কল্পনাতেও আসে নাই!

৫) একটা ফেস্টে একটা বাচ্চা ইলেকট্রিফাইড হইসে মানে রিস্ক আছে যে অন্যান্য বাচ্চারাও সেইম জিনিসের শিকার হইতে পারে! কিন্তু কিয়ের কি? নিজের স্বার্থ আগে!আমি দুর্ঘটনা বলতে নারাজ কারণ এইটা ইররেসপন্সিবিলিটি, মার্ডারের সমতুল্য! খামখেয়ালি প্লাস স্বার্থের কারণে ক্লাস নাইনের বাচ্চাটার জীবন গেল!

৬) এখন কি হবে! আনিসুল হক একটু পরেই একটা আবেগঘন স্ট্যাটাস মারাবেন এবং কেইসটাকে ইনিয়ে বিনিয়ে হালকা করার চেষ্টা করবেন! সেই সাথে কিআর সাথে জড়িত কিছু পান্ডা প্লাস ভলান্টিয়ার এই ঘটনা প্লাস অর্গানাইজারদের ডিফেন্ড করে সোশ্যাল মিডিয়া ভরায়ে ফেলবে। কেই স্বেচ্ছায় করবে কেউ অনিচ্ছায়! সেই সব পোস্টের মধ্যে একটা সুর কমন থাকবেঃ

কিআ অনেক করেছে শিশুদের জন্যে, আজ একটা অনাকাংখিত ঘটনায় সবাই কিআর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, গুজব ছড়িয়ে জল ঘোলা করছে ইত্যাদি ইত্যাদি! কেউ একজন কিআনন্দ এর ফেসবুক ইভেন্ট পেইজে পোস্ট দিয়েছিল ক্ল্যারিফিকেশান চেয়ে! বাকস্বাধীনতা চর্চা মারিয়েছেন তারা, নগদে পোস্টটা ডিলিট করে দিয়েছেন! মানে, আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে যেন এইটা নিয়ে কোন ভয়েস না উঠে! কারণ অনেক এনটিটি জড়িত!মানে, ফেস্টিভাল > মানুষের জীবন!বাচ্চারা, তোমাদের সেলিব্রিটি, আইকনদের চিনে নিও!

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন