শনিবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ


‘মহা’ নামক অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম উপকূলে গুজরাটের অভিমুখে এবং ‘বুলবুল’ নামক ঘূর্ণিঝ​ড়টি পূর্ব উপকূলের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ অভিমুখে অগ্ৰসর হচ্ছে।


১) ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ নামটি দেওয়া পাকিস্তানের ২) ‘মহা’ নামটি দেওয়া ওমানের।

উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোট ৭টি ঘুর্ণিঝ​ড় সৃষ্টি হয়েছে ভারতীয় উপকূল ও সন্নিহীত এলাকায় ।
সেগুলি হল —
১)পাবুক (নামটি লাওসের দেওয়া,জানুয়ারি মাসে এসেছিল),
২)ফণী (নামটি বাংলাদেশের দেওয়া, এপ্রিল​-মে মাসে এসেছিল),
৩)বায়ু (নামটি ভারতের দেওয়া,জুন মাসে এসেছিল),
৪)হিক্কা (নামটি মালদ্বীপের দেওয়া,সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এসেছিল),
৫)কিয়ার (নামটি মায়ানমারের দেওয়া,অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এসেছিল),
৬)মহা (নামটি ওমানের দেওয়া নভেম্বর মাসে ভারতে)
৭)বুলবুল (নামটি পাকিস্তানের দেওয়া ,নভেম্বর মাসে ভারতে)।

গত বছরেও এই দুই সাগর মিলিয়ে সাতটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। মৌসম ভবনের তথ্য বলছে, প্রায় ৩৫ বছর আগে, ১৯৮৫ সালে এক বছরে সাতটি ঘূর্ণিঝড় তৈরির নজির আছে। ২০১৩ সালে তৈরি হয়েছিল মোট পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়।


ওশানোগ্রাফি গবেষকদের মতে উত্তর ভারত মহাসাগরে জলের তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। তার প্রভাবেই পরপর তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। ২০০৫-এ অতলান্তিক মহাসাগরে এই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।


বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লুএমও) আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত আটটি দেশ। দেশগুলি হল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান। এই প্যানেলকে বলা হয় ইকনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দা প্যাসিফিক (এএসসিএপি)।


ঝড়ের নামকরণের এই রীতি কিন্তু খুব একটা পুরনো নয়। মাত্র ২০০০ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগে ঝড়গুলোকে নানা নম্বর বা বর্ণ দিয়ে শনাক্ত করা হত। কিন্তু সে সব নম্বর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ছিল। ফলে সেগুলোর পূর্বাভাস দেওয়া, মানুষ বা জাহাজ বা জলযানগুলিকে সতর্ক করাও কঠিন ছিল। ২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলিতে ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। আটটি দেশ মিলে মোট ৬৪টি নাম প্রস্তাব করে।


আরও দুটি ঝড় এখনও নামের তালিকায় রয়েছে। মহা ও বুলবুলের পর ‌, পবন এবং আম্ফান। এই নাম ফুরিয়ে গেলে আবার বৈঠকে বসে নতুন নামকরণ শুরু হবে। আরও সাতটি ঝড়ের পর বাংলাদেশ ফের চারটি ঝড়ের নাম দেবে। ভারতের তরফে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তাবিত নাম হল অগ্নি, আকাশ, বিজলি, জল, লহর, মেঘ, সাগর। এর আগে থেকেই ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়া এলাকায় ঝড়ের নামকরণ করা হত। ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হলেও অতলান্তিক মহাসাগরীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় হারিকেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বলা হয় টাইফুন।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন