, ১৩ জুন ২০২১; ৮:২৯ অপরাহ্ণ


অধ্যাপক মুইনউদ্দীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবাদপ্রতীম অধ্যাপক। জ্ঞানকান্ডের বিভিন্ন বিষয়ে তার রয়েছে মৌলিক অবদান। তাঁর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল সম্পন্ন করা বিশিষ্ট চিন্তক ও সংগঠক মাসুদ জাকারিয়া।

প্রশ্ন: ‘ফ্রিডম অব চয়েস’ ও ‘ডিটারমিনেজম’- এই দুইটার সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাই।

উত্তর: বাছনীর শক্তি, ‘ফ্রিডম অব চয়েস’ মানে হলো কর্মের স্বাধীনতা। মানে তুমি যেটা করতে চাও সেটা স্বাধীনভাবে করার সামর্থ্য।

‘ডিটারমিনেজম’ অর্থ হলো- যেটা স্বাধীনতার উল্টা, বাধ্যবাধকতা। এই কথাটা বের হয়েছে ত্বকদীরে বিশ্বাস থেকে। ত্বকদীর মানে হলো, আল্লাহ সৃষ্টি করে, প্রত্যেকটি সৃষ্ট জীবের কর্মধারা, ইচ্ছা এবং কর্মধারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহর যে নির্ধারনী, এটাকে ত্বকদীর বলা হয়। তো তুমি ত্বকদীরের বাইরে কোনকিছু করতে পারবে না। আল্লাহ তোমার জন্য যেটা নির্ধারন করে দিয়েছেন ‍সেটার মধ্যেই তোমার থাকতে হবে।

যেমন ধরো, একটা উদাহরণ, আল্লাহ একটা গরু সৃষ্টি করেছেন, গরুর জন্য, তার জান রক্ষা করার জন্য এবং তার প্রতিপালনের জন্য তার রিজ্বিক, রিজ্বিক মানে হলো তার বরাদ্দ, তার পাওনার বরাদ্দ নির্ধরণ করে দিয়েছেন। রিাজ্বক নির্ধারিত করে দিয়েছেন।এটাকে বলে ‘ডিটামিনেজম’। যেমন একটা গরুর জন্য তার রিজ্বিক ঘাসপাতার মধ্যে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সে হাজার চেষ্টা করেও তার শরীরকে মোটাতাজা করার জন্য গোস্ত খাইতে পারবে না। হ্যাঁ? তার রিজ্বিকের মধ্যে নাই।

একটা বিড়ালকে তার রিজ্বিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন, একটা বিড়াল, সে মাংস জাতীয়, রক্ত মাংস জনিত জিনিশ খাবে, এটা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ঘাস খেয়ে বাঁচতে পারবে না। এটা হলো ত্বকদীর।

প্রশ্ন: একটা সীমা?

উত্তর: না। কর্মধারা। এটা নির্ধারন কোরআন শরীফের মধ্যে বলেছেন, এখন তুমি সেটা বুঝতে চেষ্টা করো, তাহলে তোমার বুদ্ধিতে জিনিশটা আসবে। কোরআন শরীফের মধ্যে বলেছেন, আমি প্রত্যেকের ঘাড়ে একটি তৌক লাগিয়ে দিয়েছি, একটা বন্ধন লাগিয়ে দিয়েছি। ঘাড়ে। যেটা ঘাড়টাকে উঁচু করে রাখে, এরকম (অঙ্গভঙ্গি করে মাথা উপরে করে দেখালেন)। তো এই বন্ধনটা হইলো আসলে, স্বার্থের বন্ধন। একটা মশা থেকে আরম্ভ করে একটা মানুষ পর্যন্ত তার প্রথম জ্ঞান হলো স্বার্থজ্ঞান।

স্বার্থ কোনটা? যেটা তার শরীর-প্রান রক্ষা করে এবং তাকে তার ভবিষ্যতের জন্য তার গমনাগমন ব্যবস্থা করে। স্বার্থ- স্ব অর্থ। তো কোনো একটা প্রানী তার স্বার্থের বাইরে সহজে দৃষ্টিপাত করবে না। ওটা যদি করাতে চাও তাহলে তাকে টেনে ওইদিকে নিতে হবে। এটা তারে তৌক লাগিয়ে দিছেন। তারপর তাকে একটা অভিলাষের সীমা, সামনের দিকে, নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সে অভিলাষ করবে। স্বপ্ন দেখবে। কিন্তু তার একটা সীমা বদ্ধ করে দিয়েছেন- এটা সে কত্দূর আকাংঙ্খা করতে পারে, অভিলাষ করতে পারে, ডিজায়ার করতে পারে, সেটার একটা পরিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ঐ পরিসীমার বাইরে তুমি চিন্তা করতে পারবে না। যেমন তুমি সূর্যের মধ্যে গিয়ে বসবাসের চিন্তা করতে পারবে না- এটা তোমার পরিসীমার বাইরে। তোমার আকাংঙ্খার পরিসীমার এটা বাইরে। তুমি কত্দূর আকাংঙ্খা করতে পারবে এটার জন্য তোমাকে পেছনে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন, পেছনে আবার একটা পরিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এটা হলো অভিজ্ঞতার পরিসীমা। তোমার অভিজ্ঞতায় বলে দিবে তুমি কত্দূর অভিলাষ করতে পারবে। তোমার নিজের অভিজ্ঞতা, তোমার মা-বাপের অভিজ্ঞতা, তোমার বংশের অভিজ্ঞতা, তোমার জাতিগত অভিজ্ঞতা। হ্যাঁ? এইসব অভিজ্ঞতার বাইরে.. তো তোমার অভিজ্ঞতাই বলে দিবে যে তুমি কত্দূর চিন্তা করতে পারবে।

মানে, তুমি এটা চিন্তা করতে পারো যে, আমি যদি কোন রাজপুত্র হইতাম! ‍কিন্তু, তোমার অভিজ্ঞতা বলবে যে, হা হা সেটা তোমার আকাংঙ্খার পরিসীমার বাইরে। হু?

প্রশ্নকর্তা: জ্বি।

উত্তরদাতা: তো, আমার যে আকাংঙ্খা; আমার আকাংঙ্খা থেকে, অভিলাষ থেকে, আমার দৃষ্টি.. আমার দুরদৃষ্টি সৃষ্টি হয়; এবং অভিজ্ঞতা থেকে ঐতিহ্য সৃষ্টি হয়- প্রত্যেক প্রানী এই তিনটার মধ্যে চলে। ‘ইন্না জায়ালনা ফি আনাকিহিমম আগলালুন, ফাহিয়া ইলাল আসকানে, ফাহুম মকমুহুন, ওজায়ালনা মি বাইনা আইদিহিম ছাদ্দাম, ওমিন খালফাহিম ছাদ্দাম, ফাআকসাইনাহুম, ফাহুম মকমুহুন।’- এটা বলে দিয়েছেন। তোমাকেও দিয়েছেন। এর বাইরে, নির্ধারণের বাইরে, তোমাকে আরেকটা জিনিশ দিয়েছেন মানুষ হিসাবে। আল্লাহ নিজের রূহ থেকে একটা রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। পরমাত্মা থেকে মানবাত্মা আসছে। আত্মা। আত্ম আর আত্মা। তোমার মানে বাইরে শরীরটরীর এগুলা বাদ দিয়ে, তোমার যে এসেন্সটা, আত্মবোধ, আত্মটা হলো বোধ, না?

প্রশ্নকর্তা: জ্বি।

উত্তরদাতা: আত্মবোধ। আমার একটা সত্ত্বা, নিজস্ব যে আত্মবোধ থেকে সত্ত্বা হয়েছে। এটা মশা, গরু, প্রানী, হাতি ঘোড়া- এগুলোর মধ্যে নাই। ওগুলা সত্ত্বা না। ওগুলা হলো, প্রাণী। ওগুলা ঐ তিনটার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু, নিজে যে- আল্লাহ নিজের রূহ থেকে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন তোমাকে। তো, ‍রূহ তো হলো, এটা সৃষ্ট না, এটা আল্লাহর অংশ। এটা থেকে তোমার স্বাধীনতা উত্থিত হয়। এটার মাধ্যমে তুমি এই বেরিয়ারগুলো ছেদ করতে পারবে।

প্রশ্নকর্তা: রেরিয়ার?

উত্তরদাতা: এই যে তোমার পরিসীমা, এই পরিসীমাগুলার যে প্রতিবন্ধক, এটা ভেদ করতে পারবে। এটা ভেদ করার জন্য দেখো মানুষ পৃথিবী থেকে বের হয়ে অন্যান্য গ্রহের মধ্যে এখন ইয়ে পাঠাচ্ছে, অন্যন্য গ্রহের মধ্যে তারা তাদের যে বুস্টার্স(?), এগুলো পাঠাচ্ছে। মানে ছেদ করার চেষ্টা করতেছে, ভেদ করতে চেষ্টা করতেছে।তারা অনেকটা সাকসেসফুলও হইছে, না? (প্রশ্নকর্তা: জ্বি)। তারা চাঁদে গিয়ে হেঁটে আসছে। কিন্তু আল্লাহ তাদের জন্য চান্দে রিজ্বিক রাখে নাই। তাদের চাঁদে বাঁচতে হলে এখান থেকে রিজ্বিক নিয়ে যাইতে হবে- নাকের নিঃশ্বাস, খাদ্য, এগুলো এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে।

দুনিয়ার মধ্যে, আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের রিজ্বিক নির্দিষ্ট করে দিয়েছি।.. এর থেকে স্বাধীনতা আসে, আল্লাহ’র ফুঁকের থেকে। ঐটা স্থান নিয়েছে তোমার অন্তরের ভিতরে। অন্তরের ভিতরে মানে এটা তোমার মাথায় না। ঐ তিনটার কেন্দ্র হলো মাথা। মাথা মানে মস্তিস্ক। মস্তিস্ক ঐ তিনটাকে চালায়। কিন্তু, আল্লাহ যেটা ফুঁক দিয়ে তোমাকে দিয়েছে, এটা তোমার অন্তরের মধ্যে স্থান নিয়েছে। এইটা যেতেহু একটা আল্লাহর অংশ, তুমি এটাকে দেখো না। কোনখানে যে স্থান নিয়েছে এইটাও ‍তুমি জানো না। ‍তুমি বলো যে, আমার হৃদয়ের মধ্যে নিয়েছে। হৃদয়ের মধ্যে মানে হৃদপিন্ড না। মানে হৃদয়ের যে একটা কনসেপ্ট আছে, এই কনসপ্টের মধ্যে নিয়েছে। তার থেকে নির্গত হয়েছে বিবেক। বিবেকটা তুমি বুঝতে পারো, হ্যাঁ? (প্রশ্নকর্তা: জ্বি)। ঐটা তোমাকে সবসময় উপদেশ দিচ্ছে, ভালো, ভালো, ভালো। তুমি মন্দ কর্মের দিকে হাত বাড়াতে চাইলে ঐটাকে বাধা দিচ্ছে। তুমি গাঁজা খাইয়া বাধা ভেঙ্গে.., ঐ যে একটা মেয়েকে প্রতিপালন করেছে এক লোকে, তারপর সেটার সাথে জেনা করতে চেয়েছে, জেনা করতে না পেরে শেষে পর্যন্ত সে ছুরি মেরে মেরে ফেলেছে, না? (প্রশ্নকর্তা: জ্বি)। তো, বিবেকে বাধা দিছিলো, না?

তো বিবেকের বাধাটা না মেনে তুমি বিবেকের বিপরীতে আল্লাহ যেটা দিয়েছে তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য, শয়তান, তুমি শয়তানের আশ্রয় নিছো; তাহলে আল্লাহ তোমাকে বিচার করবেন, তুমি বিবেকের কথা মেনে চলেছো, নাকি শয়তানের আশ্রয় নিয়েছো। এই দুইটা পরিস্কার করার জন্য আল্লাহ রসুল পাঠাইছেন তোমার কাছে। রসুলের মাধ্যমে কিতার পাঠাইছেন। একশ চার খানা কিতাব, হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে এই পর্যন্ত, এসেছে বলে এই যে আমাদেরকে বলা হচ্ছে।

তুমি এখন, হেদায়েত, আল্লাহ’র যে প্রদর্শিত পূণ্যের রাস্তা, পূণ্যের পথে তুমি বিচরণ করতে পারো, এবং এটার জন্য রসুল তোমাকে গাইডলাইন দিয়েছে। এই গাইডলাইনগুলা সব কিতাবের মধ্যে আছে। বেদ, কোরআন, ঐ ইনজিল, যবুর, তো এগুলোর মধ্যে আল্লাহ যেটা নিজে থেকে বাইর করে রসুলের মাধ্যমে তোমাকে পাঠাইছেন। তো তোমার জন্য আল্লাহ পুরস্কার রাখছেন, যদি তুমি বিবেকের কথা অনুযায়ী ধর্ম্মের ফয়সালা মেনে চলো, রসুলের উপদেশ গ্রহণ করো, রসুলের অনুসরণ করো। তাহলে তোমার জন্য চিরস্থায়ী একটা বাসস্থান রাখেছেন, যেখানে তুমি সুখে থাকবে, আরামে থাকবে। আর যদি তুমি সেটা না মেনে শয়তানের রাস্তা অনুসরণ করো, তাহলে তোমাকে কষ্টদায়ক একটা জীবনব্যবস্থার মধ্যে তোমাকে বন্দী করে দিবেন। ..এটা পরীক্ষা করার জন্য।

পরীক্ষা হচ্ছে দুনিয়াতে, দুনিয়া খুব ক্ষণস্থায়ী। কেমন ক্ষণস্থায়ী এটা? এইটা সবসময় চলমান, সময়ের সাথে দুনিয়াটা হলো চলমান, এর মধ্যে তুমি কিছুক্ষণ বিচরণ করে যাচ্ছো, পিছন দিকে দেখো তোমার বাবা, তারপর তোমার দাদা, এই করতে করতে তোমার এককোটি, এক লাখ এক কোটি জেনারেশন গেছে। প্রত্যেকে বিচরণ করে গেছে। কতক্ষণ বিচরণ করেছে? সে এক মুহুর্ত বিচরণ করেছে, কারণ, প্রত্যেক মুহুর্তে হয়তো বেশি বুড়া হযে যাচ্ছে, ন হয়তো প্রত্যেকে মুহুর্তে একটু জোয়ান হয়ে যাচ্ছে, না? জোয়ান হলে তো ‍বুড়া হবে। তো এই মুহুর্তটা করক্ষণ? এই মুহুর্তটা, ধরো একদিন ধরি আমি, একদিনকে এখন ভাগ করলে চব্বিশ ঘন্টা, এক ঘন্টাকে ভাগ করলে ষাট মিনিট, এক মিনিটকে ভাগ করলে আবার ষাট সেকেন্ড। সেখানটায় ‍যদি তুমি আবার একহাজার ভাগ করো, তাহলে এই এক সেকেন্ডের একহাজার ভাগের এক ভাগে তুমি হয়ত একটু জোয়ান হয়েছো, নয়তো একটু বৃদ্ধ হয়েছো, সেটাকে ইচ্ছা করতে আরো ভাগ করা যাচ্ছে। তাহলে তোমার জীবনটা স্থিতিশীল কতক্ষণ? এক মুহুর্তও না, হ্যাঁ? এই সময়টা এমনকরে আল্লাহ তোমাকে করে দিয়েছেন, তো এই সময়টার মধ্যে তোমাকে পরীক্ষা করতেছেন। কেন পরীক্ষা করছেন? আল্লাহ বলেছেন, যে আমি একা একা ছিলাম, আর কেউ ছিল না। আমার মধ্যে একটা অভিলাষ জাগলো, যে আমি পরিচিত হবো। তো কিছু নাই, কোথায় পরিচিত হবো? নিজে পরিচিত হবার জন্য আমি বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করলাম এবং এই বিশ্বজগতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আমি আল্লাহ আল্লাহ জিক্বির ঢুকাইয়া দিলাম। আল্লাহ আল্লাহ জিক্বিরটা, আমি মানুষের মধ্যে রূহ ঢুকিয়ে দেয়ায় সে রূহের মাধ্যমে জিক্বিরটা করতে পারে।

রসুলুল্লাহকে বলেছেন, দেখো, যারা ঐ তিনটার মধ্যে চলতেছে, তাদের অন্তর্দৃষ্টি খুলবে না, বহিঃর্দৃষ্টির মধ্যে থাকবে, তোমার কথা তারা ধরবে না। যারা তাদের জিক্বির উপলব্ধি করে, আল্লাহ আল্লাহ জিক্বির যেটা সেটা যারা উপলব্ধি করে, তাদেরকে তুমি উদ্বুদ্ধ করো। তাদের তুমি প্রিচ করো, ধর্ম্ম প্রচার করো, তারা তোমার কথা শুনবে। আর, ওদের অন্তর্দৃষ্টি বাইর হবে না, ওরা পশু।যাদের অন্তর্দৃষ্টি বের হবে তুমি তাদেরকে প্রিচ করো, তারা তোমার কথা বুঝবে। কারণ, আমার বাণী তাদের অন্তরে বসবে। যাদের অন্তরে জিক্বির নাই তাদের অন্তরে বসবে না।

তো এটা করে এখন আল্লাহ চাইলেন, মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য। কে আল্লাহকে ভক্তি করে, কে আল্লাহকে ভালোবাসে এবং আল্লাহকে জানতে চায়। আল্লাহর পরিচয় চায়। হ্যাঁ? আল্লাহর পরিচিতি হাসেল করতে চায়, আল্লাহকে ভালোবাসতে চায়। কারণ ভালোবাসার জন্য আল্লাহ এটা সৃষ্টি করেছেন এবং এই ভালোবাসাটা পরীক্ষা করার জন্য এই বিশ্বব্যবস্থা তিনি পরিচিত করছেন। এটা হলো পরীক্ষার স্থল। (প্রশ্নকর্তা: জ্বি)। পরিস্কার হয়েছে তো? (প্রশ্নকর্তা: জ্বি)।এটা আমরা কোরআনশরীফ থেকে পাইছি।

প্রশ্নকর্তা: ফ্রিডম অব চয়েসের সীমা কতটুকু? ডিটারমিনিজম তো বুঝলাম, ডিটামিনিজম মানে হচ্ছে ওটার প্রান্তসীমা।

উত্তরদাতা: ওইতো প্রান্ত দুইটা। একটা হলো আকাংঙ্খা তোমার এক্সপেরিয়েন্স যেখানে নাই সেখানে তোমার ঐতিহ্য যেতে পারবে না। তো ঐতিহ্যের বাইরে তো তুমি ইমাজিন করতে পারবে না, আকাংঙ্খাও করতে পারবে না। তোমার বোধগম্য হবে না। তোমার যদ্দুর বোধগম্য হয়, ওদ্দুরের মধ্যে তোমার ফ্রিডম অব চয়েজ আছে। ওই ভালো কিংবা মন্দটা, তুমি হয়তো ভালোটা করতে পারবে নয়তো মন্দটা করতে পারবে। ভালো সৃষ্টি করতে পারবে না, মন্দও সৃষ্টি করতে পারবে না। তোমার অভিলাষ অনুযায়ী আল্লাহ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। সৃষ্টি হলো আল্লাহর হাতে। (প্রশ্নকর্তা: আমি চয়েস করতেছি)। তুমি চয়েজ..। আমার চয়েস হলো, এই নামাজের সময় হইছে আমি এখন মসজিদে যাবো, মসজিদে যেতে পারি। তাহলে আমার অভিজ্ঞতাটা মসজিদের সাথে হবে। এটা রেকর্ডিং হবে, ফেরেস্তারা রেকর্ড করবে। আর, এটা না করে আমি পেক্ষাগৃহে যাইতে পারি। সিনেমায় যাইতে পারি। তো সিনেমায় গেলে সিনেমা যেটা দেখলাম সেটার মধ্যে বিবেক আছে, আর যেদ্দুর বিবেক নাই, সেটা আমার পক্ষে কিংবা আমার বিরুদ্ধে রেকর্ডিং হইবো। তাহলে এটা আমার চয়েস। ওদিকেও যেতে পারি এদিকেও যেতে পারি, এটা হলো আমার ফ্রিডম অব চয়েস। ফ্রিডম অব একশন না।

প্রশ্নকর্তা: ফ্রিডিম অব একশন মানে?

উত্তরদাতা: কর্মের স্বাধীনতা। তুমি অভিলাষ করলে যে আমি এই কাজটা করবো। তোমার অভিলাষটা যদি আল্লাহ এপ্রুভ করেন, তাহলে আল্লাহ ঐ অপরচ্যুনিটিটা সৃষ্টি করে দিবেন। আর যদি এপ্রুভ না করেন, তোমাকে আল্লাহ বাঁচাতে চান, তোমাকে ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন, তাহলে তোমাকে ওটা করে দিবেন না, তুমি ওটা করতে পারবে না।

প্রশ্নকর্তা: এটা কি সম্পূর্ণ আল্লাহর উপর?

উত্তরদাতা: সৃষ্টি করাটা সম্পূর্ণ আল্লাহর উপরে। অভিলাষ করাটা..। তোমাকে ঐ যে ফুঁক দিয়ে তোমাকে নিজের রূহ থেকে রূহ দিয়েছে, সেখান থেকে তোমার ফ্রিডম অব চয়েস আসছে। গরুছাগলের এটা নাই।

(প্রথমপর্ব)

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন