মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ


ছবিঃ সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ের পার্ক এজেন্সি জানিয়েছে যে,ভয়াবহ খরার মধ্যে দু’শর অধিক হাতি মারা গেছে, এবং ভিড় লাঘব করার জন্য প্রাণীদের স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জিম্বাবুয়ে জাতীয় উদ্যান এবং বন্যজীবন পরিচালনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র তিনাশে ফারাও বলেছেন, অক্টোবরের পর থেকে ‘হাওয়াঞ্জ জাতীয় উদ্যানে’ কমপক্ষে ২০০ হাতি মারা গেছে এবং অন্যান্য পার্কগুলিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জিরাফ, মহিষ এবং ইম্পালা (হরিণ) সহ অন্যান্য প্রাণীও মারা যাচ্ছে, যা একমাত্র বৃষ্টি ফিরলেই পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।

তিনি আরও জানান যে, টহল বা গেম ড্রাইভের সময় হাতিগুলিকে সহজেই লক্ষ্য করা যায়, তবে কিছু প্রজাতির পাখি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কারণ তারা কেবলমাত্র গাছের উচ্চতায় প্রজনন করতে পারে এবং হাতিরা সেই গাছগুলিকে ছুঁড়ে ফেলেছে। অনেক প্রাণী জিম্বাবুয়ের পার্কগুলি থেকে খাদ্য এবং জলের সন্ধানে আশেপাশের সম্প্রদায়ের দিকে বিপথগামী হচ্ছে। পার্ক এজেন্সি জানিয়েছে যে, এই বছর কেবলমাত্র প্রাণীদের সাথে সংঘর্ষে ৩৩ জন মারা গেছে।

সংস্থাটি বলেছে যে, তারা দক্ষিণ-পূর্বের ‘সেভ ভ্যালি কনসার্ভেন্সি’ থেকে ৬০০টি হাতি, সিংহের দুটি দল এবং অন্যান্য প্রাণী খোলামেলা ভাবে অন্য কোন পার্কে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ফারাও জানিয়েছেন, এক দল বন্য কুকুর, ৫০ টি মহিষ, ৪০টি জিরাফ এবং ২ হাজার ইম্পালা স্থানান্তরিত করা হবে। প্রাণীগুলি তাদের পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যদি তার সমাধান না করা হয়, তবে এই বাস্তুতন্ত্রের উপর নির্ভর করে প্রাণীদের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।

জিম্বাবুয়ের আনুমানিক ৮৫,০০০ হাতি রয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশ বোতসওয়ানাতে এর পরিমাণ ১৩০,০০০ এরও বেশি। জিম্বাবুয়ে জানিয়েছে যে, তাদের বন্য হাতির সংখ্যা বাড়ছে এবং তা সংরক্ষণে জন্যে তারা লড়াই করছে। খরা ক্ষতিগ্রস্থ পার্কগুলিতে হাতিগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।এজন্য তারা হাতি রফতানি করার অনুমতি দিতে চায়। পার্ক এজেন্সি অনুসারে, দেশটি মূলত চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১৬ থেকে এ পর্যন্ত ১০১  টি হাতি রফতানি করেছে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন