বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৫:৪৭ অপরাহ্ণ


ছবিঃ- (সংগৃহীত) বিএমএতে প্রশিক্ষণ শেষ করা একজন ফিলিস্তিনি ক্যাডেট।

১৯৯৭ সালে ইয়াসির আরাফাতের বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের সাথে তাঁর একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্যালেস্টাইনের ত্রিশজন ক্যাডেটকে প্রশিক্ষণ এবং কমিশন প্রদানের কথা ছিল। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি দেখে ইয়াসির আরাফাত হয়তো স্বপ্ন দেখেছিলেন, একদিন ফিলিস্তিন স্বাধীন হবে এবং এই প্রশিক্ষিত সামরিক অফিসারদেরকে দিয়ে একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী করবেন।

চুক্তি অনুযায়ী বিএমএ ত্রিশজনকেই প্রশিক্ষণের জন্য গ্রহণ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাত জন ক্যাডেট টিকে ছিল এবং এদেরকে কমিশন দেয়া হয়। কমিশন প্রাপ্তির পর এরা সবাই প্যালেস্টাইনের ব্যাটেল ফিল্ডে ফিরে যায়।বিএমএ তে সাতজন ফিলিস্তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, এই খবর ইজরাইলের মোসাদ জানতো। মোসাদ গোপনে তাদের খবরাখবর যথাসম্ভব সংগ্রহ করে চলে। কিন্তু বিএমএর মত সুরক্ষিত জায়গায় মোসাদের কিছুই করার ছিল না এটা তারা বেশ ভালো ভাবেই জানতো। মোসাদ উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে থাকে। একসময় ট্রেনিং শেষে ফিলিস্তিনে ফিরে যায় একদল সু প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি দেশপ্রেমিক যুদ্ধা।

ট্রেনিং শেষে সদ্য কমিশন প্রাপ্ত অফিসারেরা লেবানন হয়ে ফিলিস্তিনে নামার সাথে সাথে ইজরাইলি গোয়েন্দা সংস্হা মোসাদ তাদের ছয়জনকে ধরে ফেলে এবং অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়া সপ্তম ছেলেটির নাম ছিল মেহের। বক্সিং এ ছেলেটি ছিল বিএমএর ক্যাডেটদের জন্য আতংক। অসাধারণ ফিজিক্যাল ফিটনেস সহ সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতার মেহেরের অনেকগুলো রেকর্ড ছিল বিএমএ তে। এই ঘটনার ছয় মাস পর সপ্তমজন-মেহেরও ধরা পড়ে মোসাদের হাতে। এবং তাকেও হত্যা করা হয় খুবই নির্মমভাবে। সাতজন ক্যাডেটের মৃত্যুর খবর আসার পর চট্টগ্রামের বিএমএ-তে এক দিনের শোক পালন করা হয়েছিল।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন