, ২০ জুন ২০২১; ১০:১০ অপরাহ্ণ


ছবিঃ সংগৃহীত

বেহাল অর্থনীতি, কাশ্মীর পরিস্থিতি ও রাফাল নিয়ে যুগ্ম সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবিতে বিরোধীরা যে সরব হবে, পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগের দিন তা স্পষ্ট হয়ে গেল। সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ সরাসরিই প্রশ্ন তুললেন, কেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে? কেন তাঁকে ও সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে সংসদের অধিবেশনে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না?

এই প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে বিরোধীরা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, শীতকালীন অধিবেশনে তাঁরা কোন কোন বিষয়কে বড় করে তুলে ধরতে চাইছেন। কাল সোমবার থেকে এই অধিবেশন শুরু হচ্ছে। চলবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভোটের ফল বেরোনোর পর বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার যে সম্পর্কহানি ঘটেছে, তা আরও গভীর হতে চলেছে। আজ রোববার এনডিএ শরিকদের যে বৈঠক ডাকা হয়, শিবসেনা তাতে গরহাজির থাকে। শুধু তা–ই নয়, সংসদে ইতিমধ্যেই তারা বিরোধী বেঞ্চে বসার আবেদন জানিয়ে সভাধ্যক্ষদের চিঠি পাঠিয়েছে। পরিস্থিতি যা, তাতে মনে হচ্ছে, আপাতত বেশ কিছুদিনের জন্য এই বিভেদ চূড়ান্ত হতে চলেছে।

সংসদে কাশ্মীর নিয়ে সরকারকে কিছুটা ব্যতিব্যস্ত হতে হবে বলেই ধারণা। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা অধিকার খর্ব করার পর থেকে উপত্যকা আজ পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। সকাল-সন্ধ্যা কিছু সময়ের জন্য বাজার খোলা ছাড়া জনজীবন বিপর্যস্তই বলা যায়। ইন্টারনেট পরিষেবা এখনো চালু হয়নি। চালু হয়নি পোস্টপেইড মোবাইল পরিষেবাও। রাজনৈতিক দলের নেতারা এখনো গৃহবন্দী। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি কাউকে গ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও এভাবে সেখানে পঞ্চায়েতের ব্লক পর্যায়ের কর্তাদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; এখন তোড়জোড় চলছে বিধানসভার ভোট গ্রহণের।

এই অবস্থায় আজকের সর্বদলীয় বৈঠকে গুলাম নবী আজাদ কাশ্মীর নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। বৈঠকে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিশেষ কোনো জবাবদিহি করেননি। তাঁদের একটাই কথা, যা করা হয়েছে, তা জাতীয় স্বার্থে।

এবারের অধিবেশনের আকর্ষণ নাগরিকত্ব আইন সংশোধন বিল। গত অধিবেশনে এই বিল লোকসভায় পাস হলেও রাজ্যসভায় আনা হয়নি। এই বিলে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যেসব অমুসলিম নাগরিক ভারতে আশ্রয় প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই বিলের বিরোধিতা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দল এর বিরোধিতা করছে। গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল এই বিলের বিরোধিতায় উত্তাল। উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও। কারণ, ভারত এই বিল পাস করলে বাংলাদেশে তার বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মহারাষ্ট্র বিধানসভার নির্বাচনের পর সরকার গড়া নিয়ে বিজেপি-শিবসেনার মধ্যে যে দূরত্ব দেখা দিয়েছে, তাতে মনে করা হচ্ছে, এই জোট থেকে তাদের বেরিয়ে আসা আপাতত চূড়ান্ত। দলের নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, আগের এনডিএর সঙ্গে এখনকার এনডিএর তফাত আকাশ-পাতাল। যিনি এনডিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই লালকৃষ্ণ আদভানিই সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন কে আহ্বায়ক, তা–ই কেউ জানে না। এনডিএ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিবসেনার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরবিন্দ সাওন্তও পদত্যাগ করেন। আপাতত শিবসেনা মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন