, ১ জানুয়ারি ২০২১; ২:৫২ অপরাহ্ণ


নাগাদের অন্যতম প্রধান দাবি আলাদা পতাকা ও আলাদা সংবিধান মেনে না নেয়ার ব্যাপারে ভারত সরকারের কঠোর মনোভাবের কারণে নাগা স্বাধীনতাকামী গ্রুপ এনএসসিএন (আইএম)-এর কয়েকজন শীর্ষ নেতা ক্যাডারসহ চীনের ইউনান প্রদেশে গিয়েছেন বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খবর রয়েছে। নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াই শুরু করার জন্য চীন সরকারের সমর্থন আদায় করা তাদের লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, গ্রুপটির যেসব নেতা চীন গিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক নাগা আর্মি চিফ ফুনতিং শিমরাং ও তার দুই সহযোগি দলের ডেপুটি কমান্ডার হানসি ও আবসালোম আসিসি।

শিমরাং ও তার সহযোগীদের সঙ্গে প্রায় একশ’ ক্যাডারও চীন গিয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র দাবি করে।

শিমরাং ও তার সহযোগীরা ইউনানে তাদের সমর্থন-ভিত্তির সঙ্গে সংলাপে বসার চেষ্টা করছেন বলে বিদ্রোহী গ্রুপটির সূত্র থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা নাগাদের দাবি দাওয়া ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনা করবেন।

তবে এনএসসিএন(আইএম)-এর বর্তমান প্রধান এন্থনি শিমরায় বিদ্রোহীদের সদরদফতর ক্যাম্প হেবরনেই রয়েছেন বলে সূত্র দাবি করে। একজন শীর্ষ নেতা বলেন শিমরায় হেবরনেই রয়েছেন।

এনএসসিএন (আইএম)-এর এক শীর্ষ নেতা আরো বলেন যে শিমরাং ও তার কমান্ডাররা ক্যাম্প হেবরনে নেই। তবে তিনি গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী শতাধিক এনএসসিএন (আইএম) ক্যাডারের ইউনান যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি জানান প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম।

এদিকে, এনএসসিএন (আইএম)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের ক্যাডাররা ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে শিবির স্থাপন করতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। গত মাসের শেষ দিকে এনএসসিএন (আইএম) সাধারণ সম্পাদক টি এইচ মুইভা এবং নাগাল্যান্ডের গভর্নর ও মধ্যস্থতাকারী আরএন রাভি’র মধ্যে আলোচনাকালে যখন রাভি জানিয়ে দেন যে নাগা চুক্তি হতে হবে ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে এবং নাগাদের আলাদা পতাকা ও সংবিধানের দাবি মেনে নেয়া হবে না – তখন থেকেই নাগা বিদ্রোহীরা সীমান্তে শিবির স্থাপন শুরু করে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি সই না হলে নিরাপত্তা বাহিনী দমন অভিযান শুরু করবে বলে নাগা বিদ্রোহী গ্রুপটি আশংকা করছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোও জোর দিয়ে বলছে যে বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সব ধরনের পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, চীনের সমর্থন আদায়ের জন্য শিমরাংয়ের ইউনান প্রদেশ সফরে তাৎপর্য রয়েছে। কারণ ২০১৭ সালের এপ্রিলে দি উইকের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে নাগা-আর্মির সাবেক প্রধান বলেন যে তাদের আন্দোলনকে ভারত সরকার সবসময় ‘অভ্যন্তরিণ সমস্যা বলে’ ঢাকা দিতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু নাগা সংগ্রামের শুরুর দিকে তারা যখন আর কোন উপায় না দেখে চীনের কাছে গেলো তখনই কেবল সরকারের কানে পানি যায়।

বহু দশকের পুরনো এই সমস্যার দ্রুত একটি সমাধান কামনা করে শিমরাং বলেন, নাগা আর্মি যদি আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করে তবেই শুধু ভারত তৎপর হবে।

শিমরাং বলেন, তখন যদি কোন সমঝোতা না হতো তাহলে আন্দোলন ক্ষয়ে যেতো না। এখন মাত্র ৩০ থেকে ১০০ লোক অবশিষ্ট থাকলেও আমরা আবার শুরু করতে পারবো।

ওই সাক্ষাতকারের দুই বছর পর মনে হচ্ছে শিমরাং তার কথা বাস্তবে পরিণত করতে চলেছেন। তবে এখন আগের মতো চীনকে বুঝানো কতটা সহজ হবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কারণ রাভি চাচ্ছেন শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করতে।

এনএসসিএন(আইএম) তার অবস্থান পরিবর্তন করে ভারত সরকারের প্রস্তাব মেনে নেবে, নাকি বিদ্রোহের পথে ফিরে যাবে সেটাও দেখার বিষয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সব কছিু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন