মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৪:২৬ অপরাহ্ণ


ছবিঃ সংগৃহীত

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রেললাইনে পাথর সরবরাহ ও স্টেশন পরিষ্কারের নামে ৪০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭ সালে বিভিন্ন স্থানে রেললাইনে সামান্য কিছু পাথর ফেলে এবং এক বছর ধরে ভিম ও ব্লিচিং পাউডার না কিনেই গোপনে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। এর বাইরে আরো কয়েকটি বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারেও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র এটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, ২০১৭ সালে রেললাইনে পাথর সরবরাহের নামে কয়েক কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। রেলের গতি বাড়ানোর নামে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়। এরপর এ অঞ্চলের বিভিন্ন লাইনে ১০-৩০ কিলোমিটার হারে গতিও বাড়ানো হয়। কিন্তু বছর না যেতেই একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আবার ট্রেনের গতি কমাতে বাধ্য হয়। এ নিয়ে রেললাইন সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠে। দুদক জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। এখন সেগুলো নিয়ে চলছে অনুসন্ধান।

সূত্র জানায়, রেললাইন সংস্কারের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের স্টেশনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার নামেও টেন্ডার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। অথচ স্টেশনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে ব্লিচিং বা ভিম পাউডারসহ অন্যান্য মালামাল কোন অর্থ বছরে কেনাই হয়নি। এ বিষয় নিয়েও সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে।

তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘কাজ না করে বিল পরিশোধের কোনো সত্যতা নেই। পাথর সরবরাহ করার পরেই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যারা ঠিকমতো পাথর সরবরাহ করেনি এমন ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বিলও আটকে দেয়া হয়।’ কিন্তু তিনি চলে যাবার পর ওই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করার কথা শুনেছেন বলে জানান এই প্রকৌশলী।

উল্লেখ্য, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ২৩১টি স্টেশনের ৯২টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আর ৫৮টি ক্ষয়িষ্ণু। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন প্রায় ৫০টি। এর মধ্যে ১০টি স্টেশন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আওতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। বাকি ৪০টি স্টেশন প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিকের আওতায়। অন্যদিকে এই ৪০টি স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল উদ্দিন সরকারের দপ্তর থেকেও কেনাকাটা করা হয়। এসব অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।

তবে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল উদ্দিন সরকার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এছাড়া প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি। দুদক রাজশাহী সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম রেলের পাথর সরবরাহসহ বেশকিছু অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পরেই কথা বলা যাবে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন