রবিবার, ১৯ জুন ২০২১; ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ


বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে লাখ লাখ বাংলাদেশি। যারা বেশিরভাগই চাকরি, ব্যবসা বা উপার্জনের জন্য প্রবাসে থাকছেন। এর বাইরে পড়ালেখা বা প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে কিছু বাংলাদেশি।

সারাবিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সিংহভাগ বসবাস করেন মধ্যপ্রাচ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে প্রায় ২৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস। এর মধ্য সৌদি আরব প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, কুয়েতে ছয় লাখ, কাতারে তিন লাখ, ওমানে ১৭ লাখ, বাহরাইনে এক লাখসহ ইরাক, লিবিয়াসহ ও অন্যান্য দেশে বেশ কিছু বাংলাদেশি রয়েছে।

মূলত যারা বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করার পর অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের প্রবাসী বাংলাদেশি বলা হয়। ভালো পরিবেশে বসবাস করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও পরিবারকে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী করার আশায় বাংলাদেশিরা প্রবাসে পাড়ি জমায়।
কিন্তু দক্ষতা ও উপযুক্ত কাজ না জানার ফলে অনেক সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ ও বেতন পান না। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য না থাকার কারণে এ সমস্যায় পড়তে হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে বেশি বেতন পাওয়া এমন কিছু পেশা রয়েছে। তবে এসেব পেশায় কাজ করতে গেলে মোটামুটি দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। বেশি বেতন পাওয়া যায় এমন উল্লেখযোগ্য পেশাগুলো হলো, টাইলস ফিক্সিং, রড বাইন্ডিং, শাটারিং, পাইপ ফিটিং, ওয়েল্ডিং ও ফেব্রিকেশন, অটো মেকানিকস, ড্রাইভিং, প্যাটার্ন মেকিং, হাউস কিপিং, কারপেন্ট্রি, মিড লেভেল গার্মেন্ট সুপারভাইজিং, সুইং মেশিন অপারেটিং, ব্লক-বাটিক, ইলেকট্রিক্যাল মেশিন মেইনটেন্যান্স, রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং, সুইং মেশিন অপারেশন্স, মেকানিকসসহ, প্লাস্টিক টেকনোলজি, কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, গ্রাফিক, ওয়েব ডিজাইন।

তবে এসবের সঙ্গে যে দেশে যাবেন সে দেশের ভাষাটা আয়ত্ব করতে পারলে বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ভাষা জানলে নিজের দক্ষতা সহজে উপস্থাপন করা যায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ভালো চাকুরি পাওয়া ও বেশি মুজুরি পাওয়া সম্ভব।

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বেশিরভাগ কোর্সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় অষ্টম শ্রেণি।কিন্তু জনশক্তি রপ্তানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সুবিধা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্র না থাকায় বিদেশে পাঠানোর মতো দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে পারছে না বাংলাদেশে।
বিশ্ব শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বাংলাদেশের এ বিষয়ে খুব একটা তোড়জোড় নেই। বিএমইটি কিছু দক্ষ কর্মী তৈরি করলেও রিক্রুটমেন্ট ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়ছে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কম বেতনে নিতে পারে বলে তারা অদক্ষদের পাঠাতেই বেশি আগ্রহী। এ নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য এক দিকে সরকারের পলিসির পরিবর্তন করতে হবে, অন্যদিকে জনশক্তি আমদানিকারক দেশ ও রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ও সম্পর্ক বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে অল্প শিক্ষিত ও অদক্ষ লোকদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেশি। এ সুযোগও নিচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। তারা অদক্ষদের বিদেশে পাঠাচ্ছে, নিজেরা ট্রেনিং সেন্টারও খুলছে না। তাই সরকারকেই প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন