, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১০:৩৬ অপরাহ্ণ


ইবনে খালদুন (১৩৩২-১৪০৬) বর্তমান তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণকারী একজন সমাজতাত্ত্বিক, দার্শনিক ও ইতিহাসবেত্তা যিনি তার সময়কার মানুষের জীবন,ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ কাঠামোকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা আজো সমাজবিজ্ঞান গবেষণা ও চর্চায় অপরিহার্য টুলস হিসেবে বৈশ্বিকভাবে ব্যবহৃত। এই প্রবন্ধে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো বিশ্লেষণে ইবনে খালদুনের ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হবে।

সমাজকাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে খালদুন প্রথমেই মানব সমাজকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন। ১. Sedentary culture (স্থায়ী আবাসধারী সংস্কৃতি) ২. Bedouin culture (যাযাবর সংস্কৃতি)। ইবনে খালদুনের মতে, জীবিকা নির্বাহের ভিন্নতাই সমাজ – সংস্কৃতি ও সভ্যতার ভিন্নতা তৈরী করে যা কার্ল মার্কসের ভাষায় Means of production বা উৎপাদনের উপায় এবং উৎপাদন সম্পর্ক যা সমাজের সকল স্তরের কাঠামো তৈরী করে।

ইবনে খালদুনের লেখায় আরব বেদুইনের জীবন বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বেদুইনদের মূল পেশা ছিল কৃষি ও পশুপালন। পেশার তাগিদে মরুভূমির ডাকে ঘর ছাড়তে হতো তাদের। প্রকৃতির সাথেই ছিল তাদের সংসারের নিত্য যোগাযোগ আর মেলামেশা। প্রকৃতি যেহেতু সব সময়ই অনিশ্চিত, সেহেতু তাদের জীবনও দোলতো অনিশ্চয়তার দোলনায়। ফলে জীবন রক্ষার তাগিদে একে অপরের উপর নির্ভরশীল হতো। এর ভিত্তিতেই তাদের মধ্যে গড়ে উঠতো গোত্র। তাদের গোত্রীয় প্রীতি ছিল তীব্র। অস্তিত্ব রক্ষা কিংবা ক্ষমতা প্রদর্শনের খাতিরে গোত্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ হতো। নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিযেদেরকেই নিতে হতো। ফলে তারা অনেক সচেতন ও শক্তিশালী হয়ে উঠতো।

খালদুনের মতে রসুল মোহাম্মদ(সা) ইসলামের বৈশ্বিকতার সাথে যাযাবরদের গোত্রীয় প্রীতি ও নানান গুণগুলোর সম্মিলন ঘটিয়ে এর বিকাশকে আরো ত্বরান্বিত করেন এবং পৃথিবীময় ছড়িয়ে দেন।

নারীরা যেহেতু জীবিকা ও নিরাপত্তার দিক দিয়ে পুরুষের উপর নির্ভরশীল; ফলে এ সমাজে নারী অনেক অবহেলিত। আর এর কারণেই বেদুইন সমাজ পুরুষতান্ত্রিক। বেদুইন সমাজে গোত্র মুখ্য ,ব্যক্তি গৌণ। ফলে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ এ সমাজে তৈরী হয় না। অন্যদিকে স্থায়ী আবাসধারীদের নিজস্ব স্থায়ী রাষ্ট্র থাকে, তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষী থাকে, ফলে তারা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অসচেতন,যুদ্ধে নিজেরা অংশগ্রহণ করে না বলে তারা কম শক্তিশালী। এ সমাজে মানুষের আয় অনেক বেশী, ফলে তারা নিত্য প্রয়োজন মেটানোর পর অন্য দিকে মন দিতে পারে। আর এ জন্যই এ সমাজে শিল্প,সাহিত্যের চর্চা হয় বেশী। এ সমাজের মানুষ প্রয়োজনীয়তা মেটানোর পর বিলাসিতার দিকে ঝুঁকে। আর এর প্রভাব তাদের পোশাক,আসবাবপত্র, খাবার ও জীবনাচরণে দেখা যায়। এর ফলে বাহারি খাবারের হোটেল গড়ে উঠে। অতি ভোজনের ফলে নানান ধরনের রোগ তৈরী হয়। রোগ মুক্তির নিমিত্তে উন্নতি হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের,গড়ে উঠে হাসপাতাল। পোশাকি বিলাসিতার চাহিদা মেটাতে গড়ে উঠে শিল্প-কলকারখানা।এ সমাজের মানুষ গোত্রীয় রীতিকে ঝেড়ে ফেলে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের জয়গান গায়। তারা অনেক বেশী যৌক্তিক হয়ে উঠে।
আর এর ফলেই এ সমাজে জ্ঞান চর্চার জন্য স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠে।

বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা এ সমাজেই বেশী হয়।কারণ তারা কম সময়ে কম শ্রমে বেশী চায়।তারা সব কিছুকে একটা নির্দিষ্ট ব্যাকরণের মধ্যে নিয়ে আসতে চায়।আর এ জন্যই আইন, দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্বের বিকাশ হয়। আইন ও ব্যাকরণের জটিল জালে নিজেদের বন্দী করতে চায় এ সমাজের মানুষগুলো।এর ফলে তারা তাদের স্বাভাবিকত্ব হারিয়ে যান্ত্রিক কৃত্রিমতার সীমাবদ্ধ পুকুরে সাঁতার কাটে। অতিমাত্রার রাষ্ট্রীয় নির্ভরশীলতা এ সমাজের মানুষগুলোকে যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার নিজস্ব গুণগুলো নষ্ট করে দেয়।

ধর্ম চর্চায়ও এ দু’সমাজের অনেক ফারাক।
খালদুন উদাহরণ হিসেবে ইসলাম ধর্মকে এনেছেন।ইসলাম ধর্মের উত্থান হয় বেদুইন সমাজে (মক্কায়), বিকাশ হয় স্থায়ী আবাসধারী সমাজে (মদীনায়)। পরবর্তীতে ইসলাম অনুসারীরা স্থায়ী আবাসধারী সভ্যতা যেমন পারস্য, রোম, ইরাক এবং সিরিয়ানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, জয়লাভ করে। এবং ঐ সমাজেও ইসলামের বিকাশ হয়। ইবনে খালদুনের মতে- ইসলামের বেশীরভাগ পন্ডিত অনারব অর্থাৎ স্থায়ী আবাসধারী সমাজের।

বেদুইনরা ধর্ম চর্চায় বেশী গুরুত্ব দেয় বিশ্বাস, ভক্তি ও উৎসর্গকে অন্যদিকে স্থায়ী আবাসীরা গুরুত্ব দেয় চিন্তা, বুদ্ধি ও গবেষণায়। তারা ধর্মীয় বিধি-নিষেধ গুলোকে বস্তুজগতের ভাল-মন্দের মানদন্ড দিয়ে বিচার করে বেশী। খালদুনের মতে, সভ্যতার উত্থান হয় যাযাবর সমাজে এবং এর বিকাশ ও পতন ঘটে স্থায়ী আবাসধারী সমাজে। তার মতে এ দু সংস্কৃতির মিলন-দ্বন্দ্ব, সংযোজন, বিয়োজন ও সংশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি নতুন রূপ পায় ও এগিয়ে চলে।

ইবনে খালদুনের পরবর্তী সমাজতাত্ত্বিকরা তার সমাজ ব্যাখ্যার কাঠামো দ্বারা অনেক প্রভাবিত হয়েছেন।

আধুনিক পাশ্চাত্যের সমাজতাত্ত্বিক অগাস্ট কুৎ এর Positivism (দৃষ্টবাদ), এমিল ডুর্খেইম এর সমাজ বিন্যাসে Organic solidarity (জৈব সংহতি) ও Mechanical solidarity (যান্ত্রিক সংহতি), ম্যাক্স ওয়েবারের পুঁজিবাদের উত্থান দেখাতে গিয়ে Protestantism ও Catholic দের চিন্তাগত ফারাক, হেগেলের ঐতিহাসিক দ্বান্দ্বিকতাবাদ সবই ইবনে খালদুনের সমাজ ব্যাখ্যার কাঠামো দ্বারা প্রভাবিত। আর এ জন্যই বাংলাদেশের সমাজতাত্ত্বিক ড.রঙ্গলাল সেন ইবনে খালদুনকে বলেছেন,সমাজবিজ্ঞানের অঘোষিত জনক।

এবার নজর দেই বাংলাদেশের সমাজকাঠামোয়। বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোকে স্পষ্টত দু’ভাগ করা যায়, ১. গ্রামীণ সমাজ ও ২. শহুরে সমাজ।  গ্রামীণ সমাজকে ইবনে খালদুনের যাযাবর সংস্কৃতি ও শহুরে সমাজকে স্থায়ী আবাসী সংস্কৃতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। এতে যদিও পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোকে ধরা যায় না, তবে অনেকাংশই এর আওতায় আসে।

গ্রামীণ সমাজে জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস হল কৃষি, পশুপালন ও মৎস্য চাষ। কৃষি ও পশুপালনের তাগিদে তাদেরকে ঘর ছেড়ে জমিতে ছড়িয়ে পড়তে হয়, প্রকৃতির উপর নির্ভর করে তাদের কৃষি ও পশুপালন। প্রকৃতির ছন্দে তাল মিলিয়ে তাদেরকে জমিতে চাষ, বীজ বপন, ফসল মাড়াই ও গরু ছাগল-মহিষ চড়াতে হয়। প্রকৃতির ভাল আচরণ তাদের যেমন সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসে তেমনি তার বিরূপ আচরণ ভাগ্যে দুর্ভোগ নিয়ে আসে। বন্য, খরা, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় গ্রামীণ মানুষের দুর্ভোগের নাম, ধ্বংসের নাম।

তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিজেরা টিকিয়ে রাখতে পারে না, অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়, তাদের মধ্যে সাহায্য সহযোগীতার চর্চা হয়। এতে করে তাদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের গোষ্ঠী তৈরী হয়। ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্তিত্ব রক্ষা ও ক্ষমতা প্রদর্শনের নিমিত্তে বিবাদে লিপ্ত হয়। আর এতে করে তাদের মধ্যে গোষ্ঠী প্রীতির বিকাশ হয়। বিবাদে লিপ্ত হতে হলে শক্তির প্রয়োজন, পুরুষরাই এতে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। অর্থ উপার্জনেও পুরুষ এগিয়ে। ফলে গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতা, রাজনীতি, ধর্ম, শিল্প ও সংস্কৃতির নেতৃত্ব পুরুষের হাতে। ফলে এ সমাজ পুরুষতান্ত্রিক।

গোষ্ঠী ভিত্তিক বলে এখানে গোষ্ঠী মুখ্য ব্যক্তি গৌণ। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ এখানে তৈরী হয় না। এখানকার মানুষগুলো অনেক আবেগী হয়। পরিবার কেন্দ্রিক হয়, পরিবারের ইচ্ছাই ব্যক্তির স্বপ্ন, ইচ্ছা, আকাঙ্খা তৈরী করে, পরিবারই তা পূরণ করে।এখানকার মানুষগুলোর শিল্প সংস্কৃতি চর্চায় প্রকৃতির উপাদানের প্রাধান্য থাকে। যেমন-

 “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি,কেমনে আসে যায়”
“পাড়ে লয়ে যাও আমায়,আমি অপাড় হয়ে বসে আছি”

কবি জসিম উদ্দিন, লালন শাহ, আব্দুল করিমদের কবিতা ও গানগুলো প্রামীণ সংস্কৃতির বড় উদাহরণ। এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম ইসলাম হওয়ার পেছনেও এই গ্রামীণ অবকাঠামো ও তার সংস্কৃতি একটি বড় নিয়ামক।

গ্রাম সমাজ যে ইসলামকে খুব দ্রুতই নিজেদের সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছে এর বড় কিছু কারণ হলো ইসলামের উত্থাপনকারী সংস্কৃতির সাথে এখানকার গ্রামীণ সংস্কৃতির অনেক মিল। ফলে তারা আরবের নবী মোহাম্মদ ও তার অনুসারীদের খুব আপন করে নিতে পেরেছে।কোরআনের বেশীরভাগ উপমাগুলো এখানকার ভূগোলের সাথে মিলে, ফলে কোরআনকে তাদের খুব আপন মনে হয়েছে।

শাহজালাল,শাহপরান ও আরো অন্যান্য অলি,আউলিয়া দরবেশদের মাজার ও মাজারের প্রতি গ্রামীণ মানুষের ভক্তি এটাই প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের শহুরে সমাজটা মূলত গড়ে উঠে ইউরোপে শিল্পবিপ্লব ও নগরায়নের প্রভাবে। ইউরোপ শিল্পবিপ্লব ঘটানোর পর কাঁচামাল ও পণ্য বিক্রয়ের জন্য বাজারের সন্ধানে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।ইউরোপের উপনিবেশ হয়ে উঠে পুরো পৃথিবী। এশিয়া আফ্রিকার শহরগুলো যদিও ইউরোপের আদলে তৈরী তবু অনেক ফারাক বিদ্যমান। বাংলাদেশে শহর তৈরীর প্রাককালে গ্রামীণ জমিদারগণ তাদের জমি বিক্রয়ের টাকা দিয়ে শহরে শিল্পকারখানা নির্মাণ করে।

শহুরে সমাজে জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস কলকারখানা কেন্দ্রিক আয়। কলকারখানা চালানোর জন্য শ্রমিক দরকার পড়ে ফলে গ্রামীণ বর্গা চাষীরা শহরে পাড়ি জমায়। এখনো গ্রামের গরীব পরিবারের বাবা-ভাই-বোনগুলো পাড়ি জমায় শহরে। যন্ত্রের সাথে বসবাস করে শহুরে মানুষের মনস্তত্ত্বে পড়ে যান্ত্রিকতার প্রভাব। তারা হয়ে উঠে আবেগহীন, যৌক্তিক, হিসেবী। তাদের কাছে সময়ই অর্থ। শহুরে মানুষের আয় বেশী হয়, প্রয়োজনীয়তা মেটানোর পর অধিক অর্থ থাকে, ফলে ব্যাংক ব্যবসার সৃষ্টি হয়।

অধিক অর্থ আছে বিধায় তারা তখন প্রয়োজনের বাহিরে গিয়ে বিলাসিতায় মন দেয়। এ বিলাসিতা তাদের খাবার, পোশাক, বসবাসের স্থানে প্রভাব পড়ে। এর ফলেই ঢাকা শহরে গড়ে উঠছে নানান বিদেশী খাবারের হোটেল, আসবাবপত্রের দোকান, শপিংমল ও বহুতল দালানকোঠা। খাবারের বিলাসিতায় অতিভোজনে হচ্ছে নানান রোগ, উন্নতি হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞান, গড়ে উঠছে হাসপাতাল। অতি উচ্ছাকাঙ্খী হওয়ায় বাড়ছে প্রতিযোগিতা, বাড়ছে অপরাধ, বাড়ছে আইন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা।

শহরে প্রতিযোগিতা বেশী বিধায় এখানে ব্যর্থ মানুষের সংখ্যা বেশী। এজন্যই শহরে অনেক পাগল এবং হতাশাগ্রস্ত লোক দেখা যায়। শহরে অপরাধ প্রবণতা বেশী বলে জেলখানার সৃষ্টি শহরেই হয়।

শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় তারা সময় দেয় ফলে গড়ে উঠছে স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরী ও বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের ধর্ম চর্চাতেও পড়ে যান্ত্রিকতার প্রভাব। তারা ধর্মকে বুঝে যুক্তি ও বাস্তবতা দিয়ে, ধর্মীয় বিধি-নিষেধগুলোকে বস্তুজগতের ভাল-খারাপের মানদন্ড দিয়ে মাপে। ফলে শহরে নাস্তিকতার জন্ম হয়। যেটা গ্রামে সচরাচর দেখা যায় না।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নানান উৎসবে শহরের মানুষ গ্রামে যায়, গ্রামের মানুষ আবার শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থ আয়ের জন্য শহরে আসে। এতে করে দু’সমাজ কাঠামোর মানুষের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া হয়। একজন অন্যজনের ভাল দিক ও খারাপ দিক সম্পর্কে জানে। নিজেদের ভেতর পরিবর্তন ও পরিমার্জন ঘটে। এ মিলন-দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে সমাজ নতুন রূপ পায়।

এই আলোচনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, ইবনে খালদুন আরব বেদুইন সমাজ যে কাঠামোতে ব্যাখ্যা করেছেন, যেভাবে ব্যবচ্ছেদ করে জীবনাচরণ ও সংস্কৃতির উৎসমূল খুঁজে বের করেছেন ঠিক সে ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো আজো সমান প্রাসঙ্গিক, বিশেষত বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোয়।

 

  • তথ্যসূত্র:
    ১) The Muqaddimah(An intoduction to History) Ibn Khaldun.Translation -Franz Rosenthal.
    ২) ইবনে খালদুন সমাজবিজ্ঞানের অঘোষিত জনক। – রঙ্গলাল সেন।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন