, ২০ জুন ২০২১; ৩:২৮ অপরাহ্ণ


ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ছবিঃ মসিউর রহমান

আবারো হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক এবং ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ভারতীয় ছাত্র জনতার সাথে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশ করার সময় এ হামলার শিকার হন নুর।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ ও তাঁদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার দুপুরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছেন ভিপি নুরুল আর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নুরুলদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে পূর্বঘোষিত সংহতি সমাবেশ করতে নিজের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে যান ডাকসু ভিপি নুরুল হক৷ তখন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপসম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে মঞ্চের নেতা-কর্মীরা সেখানে যান। এনআরসি ও ক্যাবকে ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ উল্লেখ করে তাঁরা নুরুলকে কর্মসূচি করতে নিষেধ করেন। এ সময় ভিপি নুরুলের সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তা মানতে অস্বীকৃতি জানালে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা তাঁদের মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন৷ দুই পক্ষে কিছুক্ষণ হাতাহাতিও হয়। পরে মঞ্চের নেতা-কর্মীরা চলে গেলে নুরুল তাঁর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করেন।

এছাড়া তার সাথে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন সহ আরো ৭ জন আহত হয়েছে। এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্ছ। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্ছ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক একেএম জামালের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে অধ্যাপক জামাল ভোলার একটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনোয়ন চেয়ে ব্যার্থ হন।

ভারতের পার্লামেন্টে পাসকৃত নাগরিকত্ব বিল সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সংহতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল। এর কারণে ভারত তার ভূখন্ড থেকে বাঙ্গালি মুসলমানদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেওয়ার রাস্তা নির্মাণ করছে। এই আইনের বিরোধিতা করা এবং সংহতি প্রকাশ করা তাই জাতীয় স্বার্থেই দরকার।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা রাজু ভাস্কর্য থেকে চলে যাওয়ার পর এক লিখিত বক্তব্যে এনআরসি ও ক্যাব নিয়ে ভারতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি–পেশার মানুষের প্রতি সংহতি জানান ডাকসু ভিপি নুরুল হক। ইংরেজি ভাষায় দেওয়া ওই বক্তব্য নুরুল বলেন, অসাংবিধানিক এনআরসি ও ক্যাবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও জাফরানি গুণ্ডা বাহিনী হামলা চালিয়েছে। গত রোববারের ওই ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ভারতের সর্বত্র কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের ফ্যাসিস্ট চরিত্রকে আরও সংহত করতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার এমন ঘৃণ্য ও মানবতাবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করতে চাইছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ডাকসু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছে।

এরকম একটি সমাবেশে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরো বিতর্কিত হলো। বিজয়ের মাসে একটি জাতীয় স্বার্থে সংহতি যেখানে সবাইকে এক করতে পারত সেখানে তারা এই সমাবেশে হামলা করে নিজেদেরকে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলেই প্রমাণ করল।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন