শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১১:৫৯ অপরাহ্ণ


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন কে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিক দাবি, যে দাবির সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ একমত প্রকাশ করেছেন সে সংস্কারের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় নেমেছিলেন।

সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিনের চাকুরি হারানোর ঘটনা এই প্রথম নয়।  ২০০২সালের ৮জুন টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে বুয়েটের তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের
ছাত্র মুকির নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস.এম হলের টগরের নেতৃত্বাধীন একটা অংশের তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয় বুয়েট ক্যাম্পাসে। এই বন্দুকযুদ্ধের মাঝখানে পড়ে বুয়েটের ছাত্রী ‘৯৯ ব্যাচের সাবেকুন নাহার সনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের দুই গ্রুপের মারামারি ও গোলাগুলির ক্রসফায়ারে পড়ে হারিয়ে যায় সনির জীবন।

এরপরে বুয়েটে সন্ত্রাস বন্ধ ও সনি হত্যার দাবিতে চলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং আন্দোলন। সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থিদের উপর পুলিশি প্লাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারপন্থী প্রশাসনের মদদে শিক্ষার্থীদের উপর চলে নির্যাতন। প্রায় ৪মাস ধরে চলে এই আন্দোলনে তখনকার বুয়েটের শিক্ষক নাসির উদ্দিন সক্রিয় অংশগ্রহণ করে বুয়েট থেকে চাকুরিচ্যুত হন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য প্রথমবারের মতো চাকরি হারালেন এ যুগের শামসুজ্জোহা।

যেখানেই অন্যায় সেখানেই স্যারকে দেখা গিয়েছে সক্রিয় ভূমিকায়। ২০১১সালে ২৭/৪ ধারা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো অধ্যায়। শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে নিজের টাকায় কোন সরকারি ভর্তুকি ব্যতিরেকেই। এটা ছিল জগন্নাথকে প্রাইভেটে রুপান্তরিত করার ষড়যন্ত্র। এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান নাসির উদ্দিন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের লিড দিয়ে যিনি রাতের মধ্যেই প্রশাসনকে বাধ্য করায় ২৭/৪ ধারা বাতিল করাতে। যার ফলস্বরুপ শিক্ষার্থীরা এখন মাত্র ৩ হাজার টাকায় এক সেমিস্টার পড়াশোনা শেষ করতে পারছে।

২০১৪ সালের হল আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ

নাসির উদ্দিন স্যারের জন্য ২০১৪ সাল খুবই ভয়াবহ। ২৩শে ফেব্রুয়ারি হল আন্দোলনে যখন জগন্নাথের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত, তখন প্রশাসনের নির্দেশে গুলি চালানো হয়। নিজের পিঠে ৪৩ টা ছোররা গুলি লাগে স্যারের সারা শরীরে।যা এখনো উনার শরীরে লেগে আছে। কোন শিক্ষক সেইদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে না থাকলেও এই একটা মানুষ ছিলেন।

২০১৫ সালের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট আন্দোলনেও অনলাইন, অফলাইন, টকশোতে সরব ছিলেন নাসির আহমেদ।

এবারকার কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে ছিলেন। প্রতিদিন প্রতিটা কর্মসূচীতে যোগ দেন। অংশ নেন বিক্ষোভ মিছিলে। আহত শিক্ষার্থীকে নিজ দায়িত্বে বাসায় পৌছে দিয়েছেন। যখন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় ষড়যন্ত্র, ঢাবিতে যখন আন্দোলনকারীরা নিরাপত্তা শংকায়, তখন ঢাবিতে এসে শিক্ষকদের সাথে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন নাসির আহমেদ।

 

তাঁর শিক্ষার্থীরা অধ্যাপকের নাম দিয়েছেন এই যুগের ড.শামসুজ্জোহা। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি পিতৃতুল্য, ছাত্রবন্ধু এবং আন্দোলনের প্রেরণাদায়ক।

ছাত্রসমাজ আশা করে অধ্যাপক নাসির উদ্দিন স্যারকে সসম্মানে তাঁর পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন