রবিবার, ১৯ জুন ২০২১; ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত তুহিন ফারাবির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার শরীরে খিচুনি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এ হামলায় ডাকসু ভিপি নুরুল হক ও তার সঙ্গে থাকা অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

পরে ভিপি নুরুল হক, নুরুল হকের ঘনিষ্ঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এপিএম সোহেলকে কেবিনে নেয়া হয়েছে। নুরুলের ছোট ভাই আমিনুরকে এখন রাখা হয়েছে ওএসই (ওয়ান স্টপ এমার্জেন্সি) তে।

আর ধানমন্ডির চার্টার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র তুহিন ফারাবিকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে। তুহিনের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলের ক্যাজুয়ালটি ব্লকের আবাসিক সার্জন মো. আলাউদ্দিন বলেন, ফারাবির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার শরীরে খিচুনি হচ্ছে। তিনজন জরুরি বিভাগের আইসিইউতে রয়েছেন। বাকি ২০ জনকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা রুবেলও যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হামলার প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কাল সোমবার দুপুরে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ডেকেছে।

এদিকে ডাকসু ভবনে ভিপি নুরের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, ‘ঢাবিকে যারা অস্থিতিশীল করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনোভাবেই ঢাবির পরিবেশ নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। দোষীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করা হবে। তারা যেই মঞ্চেরই হোক, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’

রোববার রাতে ঢাকা মেডিকেলে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখে বের হওয়ার পর এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমরা ছুটে এসেছি তাদের দেখতে। হামলা যে এত বর্বর হয়েছে বুঝতে পারিনি।’

নানক আরও বলেন, ‘হাসপাতালে বহু জরুরি রোগী আছে। কিন্তু কেউ কেউ হাসপাতালে বসে স্লোগান দিচ্ছে। যারা স্লোগান দিচ্ছে তাদের কুমতলব রয়েছে। তাদের বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা স্লোগান দিচ্ছে এরা কারা, তারা কি চায়? এদের উদ্দেশ্য কি? এ বিষয়গুলো আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ থাকবে সব বিষয় খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যাতে কেউ কোনো মঞ্চই গোলযোগ করতে না পারে।’

এর আগে ডাকসু ভিপি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় নুরসহ আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে নিয়ে মেডিকেলে যান তারা। তারা আহত নুরুল হক নুরকে দেখতে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন এবং ‘ভুয়া-ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ৫ থেকে ১০ মিনিট বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় তাদের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। শেষ পর্যন্ত বাধা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এই দুই নেতা ভিপি নুরকে দেখতে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দেন তারা।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন