, ২০ জুন ২০২১; ১১:০৫ অপরাহ্ণ


ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে ১০ দিন ধরে চলা বিক্ষোভকালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে, চলছে গণগ্রেফতার-আটক। এমন পরিস্থিতিতেও জন দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের।

বরং বিক্ষোভ দমাতে ইন্টারনেট বন্ধ, ১৪৪ ধারা জারির পর এবার টেলিভিশনে জাতীয়তাবাদবিরোধী সংবাদ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববারও তার ভাষণে জনগণকে এই আইন মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে আইন বাতিলের দাবিতে ধরনায় বসছে কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা গান্ধী পরিবার।

আলজাজিরা ও রয়টার্স বলছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। বেশির ভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটছে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোয়। সেখানে বিক্ষোভ দমাতে কঠোর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশেই নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। নিহতদের বেশির ভাগই তরুণ। বিক্ষোভে পুলিশকে নির্বিচারে গুলি চালাতে দেখা গেছে। ‘মেরে ফেল সবকটাকে’ বলেই গুলি চালানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। মুজাফফরনগরে বিক্ষোভে সমর্থন দেয়া ৬০ জনেরও বেশি দোকানির দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

লখনৌতেও এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে বিক্ষোভকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের ঘোষণা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী। রাজ্যটির বিভিন্ন স্থানে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, উত্তর প্রদেশ প্রশাসন রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পাঠানো প্রতিনিধি দলকে রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। লখনৌ বিমানবন্দরেই তাদের ঘিরে ধরে পুলিশ।

এরপর বাসে তুলে রানওয়ের ওপর ফাঁকা জায়গায় নেয়া হয়। সেখানেই ধরনায় বসে পড়েন তৃণমল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদী, প্রতিমা মণ্ডল, মুহাম্মদ নাদিমুল হক ও আবির বিশ্বাস। এদিন পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি ও রাজস্থানে রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা।

দেশজুড়ে এই পরিস্থিতিতে আজ ধরনায় বসছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিল্লির রাজঘাটে ধরনায় কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও ছেলের সঙ্গে যোগ দেবেন। যোগ দেয়ার কথা রয়েছে রাহুলের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরও।

আন্দোলনে যাচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনও (এমআইএম)। দলটির নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও মর্যাদার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে ভারতীয় মুসলিমদের। মোদিভক্তদের বলে রাখি, কাগজপত্র হাতে নিয়ে আপনাদেরও কিন্তু লাইনে দাঁড়াতে হবে।

এ অবস্থায়ও আইন বাস্তবায়নের পক্ষে অনড় বিজেপি সরকার। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববারও দিল্লিতে এক জনসভায় বলেন, সংসদে সংসদ সদস্যরা এই আইন পাস করেছে, এটাকে সম্মান করতে হবে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্য তিনি যথারীতি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোকে দায়ী করেন। তার ভাষায়, আইন নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মোদি যখন বিতর্কিত আইনের পক্ষে তার বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখনও দিল্লি, কলকাতা, রাজস্থানসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছিল।

টেলিভিশনে নিষেধাজ্ঞা : ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক নির্দেশিকায় বলেছে, সংবাদমাধ্যম বিশেষত নিউজ চ্যানেলগুলোয় এমন কোনো সংবাদ পরিবেশন করা যাবে না, যা দেশবিরোধী মনোভাবকে উসকে দেয়। বিক্ষোভের কিছুদিন আগেও এ ধরনের নির্দেশিকা দিয়েছিল কেন্দ্র।

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোনো কোনো টিভি চ্যানেল বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মেসেজিং অ্যাপে বেগবান হচ্ছে প্রতিবাদ : হংকংয়ের চলতি গণআন্দোলনের পর ভারতেও প্রতিবাদে নামা তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অফলাইন মেসেজিং চ্যাট অ্যাপ।

পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দমাতে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল ডাটা পরিষেবা বন্ধের পর ব্রিজ-এফ, ফায়ার-চ্যাট মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনসহ এই ধরনের আরও অ্যাপে পরস্পরকে বার্তা ও সংবাদ ছড়াচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

এসব অ্যাপের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে থেকে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদানপ্রদান ও ফোন কল করতে পারেন। এজন্য কোনো ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজন নেই।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন