, ১ জানুয়ারি ২০২১; ৩:১৮ অপরাহ্ণ


মাহতাবুর রহমান সিআইপি

বিভি রিপোর্ট : অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ টানা ষষ্ঠবারের মতো সিআইপি(কমার্শিয়াল্লি ইম্পোর্টেন্ট পারসন) নির্বাচিত হলেন বিশেষায়িত ব্যাংক এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং আল-হারামাইন পারফিউমস গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান। গত নভেম্বরে সরকার এ বিষয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করেছে।

২০১৭ সালে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী ক্যাটাগরিতে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচিত হয়েছেন তিনি । ২০১৭ সালে বৈধ চ্যানেলে অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারীদের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী।

মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান  ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালেও সিআইপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মতো সিআইপি নির্বাচিত  হলেন তিনি।  এছাড়াও সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী হিসেবে ২০১৩-২০১৭ পরপর ৫ বার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদক বেস্ট রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি । দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সিলেটের কৃতি সন্তান মাহতাবুর রহমান  সম্প্রতি প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের গোল্ডকার্ড ভিসাও অর্জন করেন।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নাটেশ্বর গ্রামের এই উদ্যোক্তার ব্যবসায়ীক জীবন শুরু বাবা মওলানা কাজী আবদুল হকের হাত ধরে। জানাযায়, তাদের বাড়ির আশেপাশের এলাকায় প্রচুর পরিমাণে আগর কাঠ হত। এই আগর কাঠ থেকে অনেক সুন্দর আতর তৈরী হতো। কিন্তু বাংলাদেশে আগর কাঠের বাজার ছিল না। তবে ভারতসহ আশপাশের দেশগুলোতে আগর কাঠের বাজার ছিল। ১৯৫৬ সালে মাওলানা কাজী আবদুল হক প্রথম সৌদি আরবে যান হজ করতে, তখন তিনি সঙ্গে করে বেশ কিছু আগর কাঠ নিয়ে যান। সৌদি আরবের বাংলাদেশিদের কাছে আগরের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় আবদুল হক ১৯৭০ সালে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীতে সুগন্ধির ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে প্রথম বাবার সাথে সৌদি আরবে যান মাহতাবুর রহমান। তখন থেকেই বাবার ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন তিনি।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মাহতাবুর রহমানকে। খুবই অল্প সময়ে সুগন্ধির ব্যবসায় দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) তিনি প্রথম শোরুম খোলেন ১৯৮১ সালে। পরবর্তীতে ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে দুবাইয়ে ১১ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর সুসজ্জিত প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেন। ১৬ হাজার ২১৫ বর্গমিটারের জায়গার ওপর কারখানা স্থাপন করেন। কারখানাটিতে এখন প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি ও ভারতীয়। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের সবদেশে এই ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন মাহতাবুর রহমান।

আর বর্তমানে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে মাহতাবুর রহমান নাসিরের আল্ হারামাইন পারফিউমস্। নারী-পুরুষের রুচি ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভিন্ন ভিন্ন ঘ্রাণের সুগন্ধি প্রস্তুত করে বিশ্ব জয় করেছে বাংলাদেশের এই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে বেশ সুনামের সঙ্গে অভিজাত ব্র্যান্ডের আতর বাজারজাত করছে, যা সেখানকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও উচ্চ শ্রেণির ক্রেতাদের শৌখিন জীবনযাপনের অত্যাবশ্যকীয় প্রসাধনীতে পরিণত হয়েছে। মন মাতানো ঘ্রাণ ও বাহারি মোড়কে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মোহনীয় এই সুগন্ধি।

এই সুগন্ধি বিক্রি করেই আল্ হারামাইন পারফিউমস্ গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান আজ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি।

ফেসবুকে মাহতাবুর রহমান সম্পর্কে একজন লিখেছেন – “নিঃসন্দেহে একজন পরিচ্ছন্ন, ক্লিন ইমেজের, প্রাতঃস্মরণীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক। কর্পোরেট দুনিয়ার জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আজ দেশের টানে সুদূর স্বর্গরাজ্য দুবাই, UAE থেকে সমাজের দুঃখী মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। নিরন্তর সেবা দিয়ে চলেছেন, বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন জনকে।

অত্যন্ত সদয়, পরিশ্রমী, আন্তরিক, উদার, শিক্ষিত, সজ্জন ও সুশীল মানুষ। চিত্ত, বিত্ত, বৈভব ও রুচির অপূর্ব সমন্বয় এই নিবেদিত প্রাণ মানুষটির অবয়বে, আদর্শে ! বাড়িয়ে বলা নয়, সত্যিকারের একজন দেশপ্রেমিক, একজন খাঁটি নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন পরোপকারি মানুষ, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন একজন কীর্তিমান জনাব মাহতাবুর রহমান।”

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন