, ১৩ জুন ২০২১; ৮:০৫ অপরাহ্ণ


প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানা থাকায় বেশ ঝামেলায় পড়েছেন আমাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। তাঁর পুরো ব্যবসায় ওই পত্রিকার আঁচ লাগছে। নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, এখনকার ট্রাম্প যুগের ওয়াশিংটনে বেজোসের ওয়াশিংটন পোস্ট তাঁর বড় কোম্পানি আমাজনের জন্য জটিল এক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াশিংটনে বেজোসকে যে পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে, একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির নয়াদিল্লিতেও। মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত সপ্তাহে আমাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস ভারত সফরে এসে সে উত্তাপ টের পান। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর পরিবর্তে দু-চার কথা শুনিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর সম্পাদকীয় নীতির প্রতি ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দলের বিদেশবিষয়ক বিভাগের প্রধান বিজয় চৌথিওয়ালে বলেছেন, ওই পত্রিকার ভারতবিষয়ক সংবাদ পরিবেশনা নিয়ে প্রচুর সমস্যা রয়েছে।

১১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক বেজোস সম্প্রতি তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছিলেন। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময় চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেজোসকে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি মোদি। শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যই বেজোসের সঙ্গে দেখা করেননি।

সফরে এসে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে ১০০ কোটি ডলার (প্রায় ৭ হাজার ৯২ কোটি রুপি) বিনিয়োগ ও ১০ লাখ চাকরির সুযোগ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন বেজোস। এ ছাড়া ভারতের প্রশংসা করে বলেন, ‘যতবারই ভারতে ফিরে আসি, আরও বেশি করে দেশটির প্রেমে পড়ে যাই। ভারতীয়দের কর্মশক্তি, উদ্ভাবন ও সাহসিকতা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’

বেজোসের মুখে ভারত বিষয়ে প্রশংসা শুনে তাঁর উদ্দেশে চৌথাওয়ালে বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাজনের সমালোচনা করছি না। এমনকি আমি নিজেও ওদের নিয়মিত গ্রাহক। কিন্তু ভারত সম্পর্কে তিনি যে কথাগুলো বলেছেন, তাঁর উচিত দেশে ফিরে গিয়ে “ওয়াশিংটন পোস্ট”কে সেই একই কথাগুলো বলা।’

ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল দাবি করেছেন, বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করে বেজোস ভারতকে কোনোরকম অনুগ্রহ করছেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার গয়াল বলেছেন, ‘হতে পারে তারা ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। কিন্তু যদি দেখা যায় যে প্রতিবছর তাদের কোটি কোটি ডলার লোকসান গুনতে হচ্ছে, তখন বাজার থেকে সেই অর্থ কীভাবে তুলে নিতে হবে, সেটিও কিন্তু তাদের অজানা নয়। সুতরাং এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে বিনিয়োগ করে তারা ভারতকে কোনো প্রকার অনুগ্রহ করছে।’

আমাজন ও ফ্লিপকার্টের প্রতি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বড় ছাড় দিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের বিপন্ন করে এই মার্কিন সংস্থাগুলো ভারতীয় আইন ভাঙছে। পীযূষ গয়াল সে প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এ বিষয়ে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।

পরে অবশ্য দুজনই তাঁদের মন্তব্য সংশোধন করেছেন। তাঁদের দুজনের এই কঠোর সমালোচনা আমাজনকে নিয়ে ট্রাম্পের করা নানা টুইটের কথা মনে করিয়ে দেয়। ট্রাম্প প্রায়ই তাঁর প্রশাসনকে নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন ঘিরে বেজোসের সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের মতোই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার সমালোচনা করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন নাগরিকত্ব বিলের কড়া সমালোচনা করে তাকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে দাবি করায় মার্কিন সংবাদপত্রটির ওপর বিরাগভাজন হন মোদি।

অবশ্য ভারতে বিজেপির নেতাদের সমালোচনার উত্তর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকাটির জ্যেষ্ঠ সম্পাদক টুইটে লিখেছেন, ‘পরিষ্কার করার জন্য: জেফ বেজোস “ওয়াশিংটন পোস্ট”-এর সাংবাদিকদের কী লিখতে হবে, তা বলে দেন না। স্বাধীন সাংবাদিকতা মানে সরকারকে তুষ্ট করা নয়। ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যে আমাদের প্রতিনিধি ও কলাম লেখকদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।’ তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন