, ১৩ জুন ২০২১; ৮:৩৪ অপরাহ্ণ


মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে স্থগিত হয়ে রয়েছে। নেপালের সাথে চুক্তি করলেও তারা বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ব্যাপারে এখনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ অবস্থায় মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা শ্রমিক সঙ্কটে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানি শ্রমিক সঙ্কটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো বন্ধের পথে। তারা দ্রুত এ থেকে উত্তরণে বিদেশী শ্রমিক (বাংলাদেশ) আমদানি শুরুর ওপর সরকারকে চাপ অব্যাহত রেখেছেন।

এসব তথ্য জানিয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ীরা তাদের সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, সোর্স কান্ট্রিভুক্ত ১৪টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশীরাই বেশি পরিশ্রমী। মালয়েশিয়ার উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অনেক। তাদের দিয়ে যেকোনো কঠিন কাজ করিয়ে নেয়া যায়। তারাও চাচ্ছেন শ্রমিক আসা শুরু হলে যেন বাংলাদেশ থেকেই আসে আগে।

তারপরও কেনো খুলছে না মালয়শিয়ার শ্রমবাজার???

যারা মানবসম্পদ রপ্তানির সাথে নিয়োজিত তারা ভালো করেই জানেন যে কেনো চাহিদা থাকা স্বত্ত্বেও মালয়শিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের মন্ত্রীপর্যায়ের লোকজন সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে মাত্র ১০ টি এজেন্সিকে মালয়শিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর একচেটিয়া অধিকার দিয়েছিল। এর সাথে যুক্ত ছিল বাংলাদেশেরই কতিপয় ব্যক্তিবর্গ যাদের মালয়শিয়ার নাগরিকত্ব ছিল এবং তারা তৎকালীন নাজিব সরকারকে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ প্রদান করেছিল। তাই যখন দূর্নীতির দায়ে মালয়শিয়ায় নাজিব সরকারের পতন ঘটে তখন নতুন সরকার এসে দূর্ণীতির তদন্ত করে এবং নাজিব সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত করে। একই সাথে অনিয়ম ও দূর্ণীতির দায়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এখন কেউ যদি বলে মালয়শিয়া বাংলাদেশের শ্রমবাজার কেনো বন্ধ করল? এর উত্তর হলো – বাংলাদেশ সরকার মালয়শিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দূর্ণীতির আশ্রয় নিয়েছে, নীতিবিরুদ্ধ কাজ করেছে। একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজারকে ধ্বংস করে সেখানে একচেটিয়া রাজত্ব কায়েম করেছে যেটির মাধ্যমে তারা শ্রমিকদের শোষণ করেছে। কারণ যেকোন বাজারের বৈশিষ্ট্যই হল যখন সেখানে পূর্ণ প্রতিযোগিতা বিরাজ করে তখন বাজার দাম কমে যায়। সবাই ক্রেতা পাওয়ার জন্য যথাসম্ভব দাম কমিয়ে দেয়। এটাই বিশ্বের সব বাজারের নিয়ম। যেকোন গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হল যথাসম্ভব প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। এর একটা প্রমাণ পাবেন বাংলাদেশ সরকারের একটি অফিসই আছে “বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন” নামে যার কাজ হলো বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে সহযোগিতা করা।

আচ্ছা ঠিক আছে, মালয়শিয়া সরকার বাজার বন্ধ করে দিল। এখন বাংলাদেশ সরকারের কি দায়িত্ব ছিল? বাংলাদেশ সরকারের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব ছিল ঐ ১০ টা লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা, তাদের মালিকদের বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত করা এবং এই প্রক্রিয়ায় যে সম্পদ (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) অর্জিত হয়েছে সেগুলোকে রাষ্ট্রীয় অনুকূলে নিয়ে আসা।
কিন্তু সরকার কি করেছে? এই ১০ টা লাইসেন্স বহাল তবিয়তে আছে, এক মালিক মন্ত্রীকে আরো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হয়েছে এবং সবচেয়ে আশংকার কথা হল, মালয়শিয়া সরকারের সাথে দরকষাকষিতেও এই লাইসেন্সগুলো অংশগ্রহণ করছে! উলটো তারা সিন্ডিকেটটা একটু বড় করে এখানে আরো ২০০ টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করছে।
এখন আপনি বলেন, আপনি অপরাধীকে শাস্তি দিবেন না, তাদেরকে আদর করে রাখবেন আবার আপনার অধিকার চাইবেন। কোন যুক্তিতে মালয়শিয়া সরকার এটা মেনে নিবে? মজার ব্যাপার হল এই কারণ এবং যুক্তিগুলো ওপেন সিক্রেট হলেও আপনি কোন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় এগুলো নিয়ে ধারাবাহিক ও শক্ত কোন আলোচনা দেখবেন না। দেখবেন সবাই শুধু নিউজ করছে, বাজার বন্ধ হয়ে গেছে; বাজার খুলতে পারে; দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়শিয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।

মূল সমস্যা নিয়ে এখানে কোন আলোচনা নেই। বাংলাদেশ সরকার রেমিটেন্সের দিকে তাকিয়ে থাকে সবসময়। কিন্তু রেমিটেন্স আর্নাররা যেন সতীনের ছেলে, ছেলের ইনকামের দিকে তাকানো যাবে কিন্তু ছেলেকে কোন সুবিধা দেওয়া যাবে না। কতিপয় লুটেরার কাছে আজ জিম্মি সরকার।

যাই হোক, আমরা চাই মালয়শিয়ার শ্রমবাজার খুলুক, লক্ষ লক্ষ উত্তরবঙ্গবাসী যারা মালয়শিয়ার জন্য মুখিয়ে আছে তারা ও তাঁদের পরিবার তাঁদের অমানুষিক কষ্টের বিনিময়ে চারটা খেতে পাক।

কিন্তু প্রবাসী শ্রমিকের এই সংগ্রামে সরকারের কোন অবদান নেই। বরং সরকারের বিভিন্ন বাধা ও চাঁদাবাজি(প্রতিটি শ্রমিকের কাছ থেকে বিএমইটি ম্যানপাওয়ার কার্ডের জন্য কয়েক হাজার টাকা চাদা নেয়) স্বত্তেও তারা এই দেশকে দিয়ে যাচ্ছে। এই মানুষের জন্য হলেও মালয়শিয়ার শ্রমবাজার খুলুক।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন