মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৫:১২ অপরাহ্ণ


ভারতে একই সঙ্গে বিপুল উৎসাহে প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হল, আবার তার সঙ্গে চলল প্রতিবাদও। গেরুয়া, সাদা, সবুজ পোশাক পরে, জাতীয় পতাকা তুলে, তিনরঙা বেলুন ওড়ানোর পাশাপাশি পোস্টারও থাকল, ‘সিএএ, এনআরসি নয়।’

প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথের প্যারেড যখন চলছে, তখন সেখান থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরের দিল্লির শাহিনবাগের রাস্তা জুড়ে শুধু লোক আর লোক। আর তাদের অধিকাংশের হাতে জাতীয় পতাকা। বারবার আন্দোলিত হচ্ছে সেই পতাকা।

রাস্তার শুরুতে বিশাল একটা পোল লাগানো হয়েছে। সেখানে রোহিত ভেমুলার মা রাধিকা ভেমুলা জাতীয় পতাকা তুলতেই হাততালিতে ফেটে পড়ল শাহিনবাগ। আর জাতীয় পতাকা, আন্দোলিত হাতের মধ্যে দিয়ে উঁকি মারছিল পোস্টারগুলি। সেখানেও তিন রঙে আঁকা ভারতের ম্যাপ। তার সঙ্গে লেখা ‘নো সিএএ, নো এনআরসি।’

প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করে এমন প্রতিবাদ কমই দেখেছে দিল্লি। শুধু শাহিনবাগ নয়, দিল্লির খুরেজিতেও একইভাবে প্রতিবাদ হয়েছে। মুম্বইয়ের নাগপাড়া এলাকায় প্রজাতন্ত্র দিবসের রাত থেকে শুরু হয়েছে অবস্থান প্রতিবাদ। মুম্বইয়ের শাহিনবাগ।

কলকাতায় দক্ষিণের গোলপার্ক থেকে উত্তরের শ্যামবাজার পর্যন্ত মানব শৃঙ্খল হয়েছে। মাঝখানে পার্ক সার্কাসও ছুঁয়ে গিয়েছে সেই মানব শৃঙ্খল। পার্ক সার্কাসকে বলা হচ্ছে কলকাতার শাহিনবাগ। কেরলে তো ৬২০ কিলোমিটার জুড়ে মানব শৃঙ্খল করেছে ক্ষমতাসীন সিপিএম কর্মী ও সমর্থকরা। এমনকী অ্যামেরিকার ৩০টি শহরে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ হয়েছে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে।

এ বিষয়ে ঐতিহাসিক এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুগত বসু বলেন, ‘এই প্রতিবাদ অভিনব। আমার যেটা সব চেয়ে ভালো লাগছে, তা হল, আমাদের সংবিধানের স্পিরিট সাধারণ মানুষ তুলে ধরছেন। আমাদের সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ ইংরেজ আমল থেকে নেয়া। তার অপব্যবহার করে সরকার আসল নীতিবোধকে ধ্বংস করতে চাইছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জরুরি অবস্থা, কেন্দ্র কী করে রাজ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তা নিয়ে সাবধান থাকা দরকার। সামনের দিনে এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে ও সুযোগ এলে পরিবর্তন করতে হবে। যে ভাবে বিশেষ করে যুব সমাজ সংবিধানের আসল কথা বুঝে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।’

সরকার অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, তারা শাহিনবাগের দাবি মানবে না। তারপরেও প্রতিবাদ কমছে না। বরং তা দিনে দিনে তীব্র ও অভিনব রূপ নিচ্ছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন