মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১; ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ


আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ৪০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় বাবদ। অবশিষ্ট ২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে নির্বাচনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য। তবে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র আভাস দিয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের মোট বাজেটকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ভাগে রয়েছে নির্বাচন পরিচালক ব্যয়, যার মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন খরচ অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, নির্বাচনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য রাখা হয় খরচের দ্বিতীয় অংশ।

ইসির বাজেট শাখার উপসচিব এনামুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই সিটির নির্বাচনী ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত বাজেট কত হবে, তা আগামী ২২ জানুয়ারি কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকের পর জানা যাবে।

এনামুল আরও বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী বাজেট উপস্থাপন করা হবে। তার ওপরই নির্ভর করবে, চূড়ান্ত বাজেট কত হবে। তবে ওই বৈঠকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাজেট উপস্থাপন করা হলে নির্বাচনী ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসির বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পরিচালনা খাতের জন্য বরাদ্দ ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্যই বরাদ্দ থাকছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এই বাজেট থেকেই একেকজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পাবেন চার হাজার টাকা, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা পাবেন তিন হাজার টাকা করে এবং একেকজন পোলিং এজেন্ট পাবেন দুই হাজার টাকা।

এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে দুই সিটির ১২৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোট ৩৬ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। একেকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিনের দায়িত্ব পালনের জন্য পাবেন ৬ হাজার টাকা। ফলে পরিচালন বাজেট থেকে তাদের পেছনে ব্যয় হবে দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

এদিকে, নির্বাচনের কাজে মনিহারি দ্রব্যের জন্য এক কোটি টাকা, ফুয়েলসহ পরিবহনের জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে আরও খরচ হবে ২৫ লাখ টাকা। এর বাইরে নির্বাচনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং (ইভিএম) মেশিনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে নিয়োজিত থাকবেন দু’জন করে সেনাবাহিনীর সদস্য। তাদের ব্যয়ও পরিচালনা খাতের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। এ বাবদ মোট খরচ হবে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা। আর অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র নির্মাণ, মালামাল পরিবহনসহ অনুষাঙ্গিক ব্যয় রয়েছে আরও ৮০ লাখ টাকা।

এদিকে, ইসির বাজেট শাখা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। তবে কোন বাহিনীর জন্য কত টাকা বরাদ্দ হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিটি কেন্দ্রে কতজন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবেন, এসব বিষয় চূড়ান্ত করার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যয় চূড়ান্ত হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে এ বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে। ওই বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনী তাদের বাজেট উপস্থাপনের পর কমিশন এই খাতে ব্যয় চূড়ান্ত করবে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন