, ২০ জুন ২০২১; ৪:৪৩ অপরাহ্ণ


গত চারদিনের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার, দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ফের চলল গুলি। জানা গেছে, রবিবার রাতেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গত কয়েকদিনের মতো সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। সেই সময়েই রাতের অন্ধকারে একটি স্কুটারে করে এসে বন্দুক হামলা চালায় ২ সন্দেহভাজন। হামলাকারীদের মধ্যে একজন লাল জ্যাকেট পরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ নং গেটের কাছে গুলি চালায় বলে জানিয়েছে জামিয়া সমন্বয় কমিটির সদস্যরা। তবে ওই গুলি চালনার ঘটনায় কেউ আহত হননি বলেই জানা গেছে।

এদিকে শাহিনবাগে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ চলছে গত প্রায় ২ মাস ধরে। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় দিল্লির শাহিনবাগের অবস্থান-বিক্ষোভের অঞ্চলের থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। পুলিশ জানিয়েছে যে কিছু পড়ুয়া তাঁদের জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট লক্ষ্য করেই গুলি চালায় বন্দুকবাজ।

“প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ও ৭ নং গেটের কাছ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করবে। সেই বিষয়গুলিও এফআইআর-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”, জানান দিল্লি পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্তা জগদীশ যাদব।

ওই হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের কাছে জড়ো হওয়া মানুষজনের টুইট করা মোবাইল ভিডিওগুলিতে বন্দুকের গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায় এবং রাস্তার মৃদু আলোয় দেখা যায় লোকজন আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করছেন।

“জামিয়া নগরের পুলিশ আধিকারিকরা ওই জায়গায় গিয়ে এলাকাটি তল্লাশি করেছেন। যদিও সেখানে কোনও খালি বুলেট শেল পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, যে গাড়িতে করে হামলাকারীরা এসেছিল তা নিয়েও এক একজন এক একরকম বলছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন একটি স্কুটারে করে এসে ওই হামলা চালানো হয়, আবার অন্যরা বলছে যে হামলাকারীরা একটি চারচাকার গাড়িতে করে এসেছিল। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া সহ বহু মানুষজন থানার বাইরে জড়ো হন। তাঁদেরকেও ঘটনার সম্পর্কে আলাদা করে অভিযোগ জানাতে বলা হবে। আমরা তদন্ত করব”, জানান আরেক পুলিশ কর্তা কুমার জ্ঞানেশ ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতিতেই জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় রামভক্ত গোপাল নামে এক তরুণ। জখম হন জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। তারপর শনিবার দিল্লির শাহিনবাগের বিক্ষোভেও হামলার ঘটনা ঘটে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের জামিয়ায় গুলি চলল।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন