মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ


এই লেখাটি যখন লেখা হচ্ছে নাসির আব্দুল্লাহ সেসময় খোলা আকাশের নিচে ২৪ তম রাতযাপন করছেন। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার বিরুদ্ধে গত জানুয়ারীর শেষদিক থেকে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ পড়ুয়া এই তরুণ লাগাতার অবস্থান করছেন।

একই ঘটনার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়েছিলেন আরো একজন আপাতত তিনি নেই । তাদের দাবী লম্বা কিংবা কঠিন কিছু নয় কেবল সীমান্তে নির্বিচারে মানুষ হত্যার সমাধান চান তারা। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে একই দিনে পাঁচ জন বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফেব্রুয়ারিতেও ইতোমধ্যে একজন নিহত হয়েছে। বছর জুড়ে এই সংখ্যাটি যে আরো বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। এই আশংকা থেকেই সীমান্ত হত্যার বিচার এবং বন্ধের দাবীতে নাসিরের এই প্রতিবাদ । আলাদা করে হয়তো বলার দরকার নেই একই দাবী দেশের নাগরিকদেরও।

নাগরিক অনূভুতি রাষ্ট্রকে ছুঁতে পারছেনা

রাজুর ভাস্কর্যের সম্মুখে নাসির যেখানে বসেছেন প্রতিদিনই সেখানে অসংখ্য মানুষ আসেন। সংখ্যাটা বিশাল নয় তবে ভীড় প্রতিদিনই বাড়ছে। ভীড়ে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ আছেন। কেউ সংহতি জানাচ্ছেন আবার কেউ এই লড়াইয়ে পাশে থাকারও ওয়াদা করছেন। নাসিরের সহযোদ্ধারা আগতদের জন্য একটি খাতার ব্যবস্থা করছেন যেখানে সীমান্তে ভারতীয় রক্ষী বাহিনীর এই হত্যাযজ্ঞের ব্যপারে নিজেদের ভবনাকে লিখে রাখার ব্যবস্থা আছে।

বহিটা খুলে নামগুলো দেখতে গিয়ে কিছু জিনিস চোখে পরলো । আগতদের মাঝে বিপুল সংখ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ তরুনীদের পাশাপাশি স্কুল-মাদ্রাসা পড়ুয়া কিশোররাও আছেন । তাদের সংখ্যাটাও চোখে পড়ার মত। আছেন আরো বিভিন্ন মানুষ। তাদের শ্রেণীর যেমন বৈচিত্র আছে বৈচিত্র আছে তাদের চিন্তায়ও। যেমন কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রিক্সা চালক ইসাহাক মিয়াকে পাওয়া গেলো।

নাসিরের সাথে সংহতিতে বলছিলেন “ বাজান ভালো কাম করতেছেন। ইন্ডিয়া অনেক মানুষ মাইরতেসে হুনসি।” আবার খাতা খুজে পাওয়া গেলো শাব্বির আহমাদকে। কাকরাইলের একটি কওমী মাদ্রায় পড়েন। নাসিরের সংহতি লিখেছেন “ আল্লাহ মানুষদের হত্যাকারীদের কঠিন আজাব দেবেন। বর্ডারে হত্যার বিচার হতে হবে।”এরকম আরো বহু লেখাই চোখে পরলো। সকলে দেখার দৃষ্টি একই না হলেও  আকাঙ্ক্ষাটা প্রায় একই রকমই।

একটি গনতান্ত্রিক সমাজে সকল দাবীর ন্যায্যতা শতভাগ। এবং রাষ্ট্রের জন্য এগুলো সাধ্যতীতও নয়। খাতা খুজে অসংখ্য মন্তব্য পাওয়া গেলো যেখানে তরুণ প্রবীনরা সমান ভাবেই এই হত্যাযজ্ঞ থামাতে রাষ্ট্রের নজর চান। রাষ্ট্রও সেটা বোঝে । যদিও মনোযোগবিহীন হয়েই থাকতে চাইছে সে। তাই নামে আর ভাবনায় খাতার কথাগুলো কোথাও যেনো একটা বদ্ধ অবস্থার আর্তনাদ আবার কোথাও যেন শপথ হয়েও চোখে আটকায়।  কিছুক্ষন সময় নিয়ে নিজেকেও প্রশ্ন করতে হয় , কোনো রাষ্ট্র কি নাগরিক বেদনার এই জমাট প্রকাশকে অস্বীকার করে আদৌ আইনত বৈধতা নিয়ে টিকে থাকতে পারবে?

“বন্ধুরাষ্ট্র” শব্দগুচ্ছের সাথে সীমান্ত হত্যার পরিসংখ্যান মিলছেনা

বছরের মাত্র এক মাস অতিক্রম হলো। এরই মধ্যে ১০ জনের অধিক বেসামরিক মানুষ বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হয়েছে। মৃত্যুর কারন হিসেবে সংবাদ মাধ্যম সরাসরি গুলির কথা উল্লেখ করছে,  সামরিক ভাষায় যাকে বলে শ্যুট টু কিল। বরাবরই এখানকার কূটনীতিক এবং নীতিনির্ধারকদের মুখে ভারতের সাথে বন্ধুত্ব উন্নত থেকে উন্নততর হবার কথা শোনা গেলোও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ক্যাজুয়ালিটির সংখ্যাটা কিন্তু সাধারণ কোনো যুদ্ধের মতই। প্রবল উত্তেজনা চলছে এমন শত্রুভাবপন্ন দেশের সীমান্তেও যেখানে এরকম হত্যা বিরল সেখানে ‘বন্ধুরাষ্ট্রের’ বিশেষনে বিশেষায়িত প্রতিবেশির কাছ থেকে ক্রমগত লাশ উপহার আসছে নিয়মিতই। এটি সমানভাবে  উদ্বেগ এবং বিস্ময়ের। 

দক্ষিন এশিয়া বিষয়ক রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের কাছেও তাই এটা অবাক হবার মত। তার মতে –“ যুদ্ধ বা কোনরূপ সংঘাতপূর্ণ বৈরি অবস্থা ছাড়া বিশ্বের আর কোন সীমান্তে এত দীর্ঘসময় ধরে বছরের পর বছর ধারাবাহিকভাবে লাগাতার বিনাবিচারে এত বিপুল  বেসামরিক  নিরস্ত্র  মানুষ জবাবদিহিহীনভাবে খুন হয় না– যা ঘটছে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ’র দ্বারা।” ( ২৪ জানুয়ারী, বক্তার ফেসবুক পাতা )

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রকাশিত প্রতিবেদনও তার কথাই সায় দিচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গত ১৯ বছরে তাদের হিসেবে ১১৪৪ জনের বেশি কেবল হত্যাকান্ডের স্বীকারই হয়েছে। বিভিন্ন উপায়ে নিপীড়িত মানুষের সংখ্যাটা এর চারগুনেরও বেশি। এক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো বিএসফের অস্ত্রের বিপরীতে ভিক্টম সকলেই সম্পূর্ন রকম নিরস্ত্র ছিলো।

তাদের পক্ষ থেকে বারবার এসকল মৃত্যুকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” বলা হলেও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) থেকে প্রকাশিত  ‘ট্রিগার হ্যাপি’ নামে প্রতিবেদন সে মতের সাক্ষ্য দিচ্ছেনা। বরং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ  বিএসএফ  গ্রেপ্তারের চেষ্টা না করে বা সতর্ক ছাড়াই করেই নির্বিচারে গুলি চালায়। তবে যারা কদাচিৎ গ্রেফতার হন তাদের অভিজ্ঞতা আরো ভায়াবহ। সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে কবির হোসেন (৩২) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিককে মুখে এবং পায়ুপথে পেট্রল দিয়ে হত্যার পত ঘটনাও ঘটেছে।

রাজনীতিতে ভারতের উপস্থিতির বৈচিত্র আছে কিন্তু ভারত নীতি অভিন্ন

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সামরিক জান্তা শাসন সহ জনগন তিনটি ভিন্ন শাসক গোষ্ঠির শাসন প্রত্যক্ষ করেছে। তবে শাসন বদলালেও সীমান্ত হত্যার চেহারা বদলায়নি মোটেই। বলা বাহুল্য এসকল সীমান্ত হত্যা-সংঘাতের জন্য ভারতকেও কোনো জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়নি। ফলে এগুলো যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কামাই তাতে এখন সন্দেহ রাখা দায় হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতপন্থী কিংবা ভারতবিরোধী শব্দগুচ্ছ বরাবরই জনপ্রিয়। আর তাই স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা তার পরবর্তী দেশীয় রাজনীতিতে ভারতের পরোক্ষ উপস্থিতি প্রশ্নহীনভাবেই স্বাভাবিক ধরে নেয়া হয়। তবে সেটা বর্তমান সরকারের আমলে অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে গেছে।

সরকার যে ভারত প্রসঙ্গে অস্বস্তিকর পক্ষপাত রাখছে তাই নয় বরং সীমান্ত হত্যার মত স্পর্শকাতর ঘটনায় বিচারের দাবীতেও শক্ত অবস্থান রাখতে পারছেনা। এ প্রসঙ্গে ০৭ জানুয়ারি ২০১১ সালে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর-দিনহাটা সীমান্তের খিতাবেরকুঠি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সদস্যদের দ্বারা ফেলানী খাতুনকে হত্যা এবং লাশকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ করা দরকার । ঘটনার জন্য বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের জওয়ানদের দায়ী করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলেও অস্বাভাবিক ভাবে প্রধান অভিযুক্তকেই খালাস দেয়া হয়। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অবস্থান পর্যালোচনার জন্য এটি একমাত্র না হলেও একটি বড় নোকতা।

নীতিগতভাবে আওয়ামীলীগ সরকার যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতেও ইচ্ছুক নয় তার বড় উদাহরন হতে পারে চলমান সীমান্ত হত্য প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের বয়ান। যেখানে কোনো রাখডাক না রেখেই শর্তহীনভাবে ভারত রাষ্ট্রকে দায়মুক্তি দেয়ার প্রতিযোগিতা চেষ্টা করলেও চোখ এড়ানো যাচ্ছেনা ।

যেমন খাদ্যমন্ত্রীর “সীমান্তে গরু আনতে গিয়ে নিহত হলে দায় নেবে না সরকার” (প্রথম আলো, ২৫ জানুয়ারী) কিংবা সীমান্ত ইস্যুতে দায়িত্বশীল খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃদু “লজ্জিত” হওয়া অন্তত এটা প্রমান করছে সরকার সীমান্ত হত্যা রোধে কোনো রকমই মনোযোগী নয়। দশক ধরে চলমান এই বিবাদটি সমাধানেও আগ্রহী নয়।  ফলে ভারতের জবাবদিহিতার প্রশ্নটি এখানে আসছেইনা।  

বিরোধীরাও সীমান্ত হত্যা কিংবা ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনিচ্ছুক

জরুরী কথা সীমান্ত হত্যা কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের উপস্থিতি প্রসঙ্গে শাসক শ্রেনীর অবস্থান ধরে আলাপ করলে সকল বিষয় বোঝা যাবেনা। বস্তুত বিএনপি, জামায়াত সহ সংসদীয় ধারার ছোটখাটো বামপন্থী দলও ভারত প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতির বাহিরে কোনো কার্যকারী ভুমিকা রাখতে ইচ্ছুক নয়। বামপন্থী সশস্ত্র ধারার কিছু দল এই প্রসঙ্গে সোচ্চার হলেও বাস্তবিক পরিস্থিতিতে নীতিনীর্ধারনে তাদের প্রভাব নেই বললেই চলে। ফলে কাজের কাজ কিছু হচ্ছেনা।

শাসক শ্রেনীর বাহিরে সব থেকে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতার কাছাকাছি নেই প্রায় দেড় দশক ধরে। তাদের প্রধান নেত্রী এ মূহুর্তে কারাগারে আছেন, সংসদেও তাদের উপস্থিতি স্মরণকালের সর্বনিম্ন। নেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলনেও তারা জনগনকে টানতে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে তবুও সীমান্ত হত্যর মতো সরাসরি নাগরিক ইস্যু নিয়ে কার্যকরী আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে সুফল এনে দিতে পারতো। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সিমান্তের ঘটনাবলি নিয়ে তাদের অবস্থান প্রমান করে এই ইস্যুতে আন্দোলনের মত কোনো কর্মসুচিতে তারা ইচ্ছুক নন। ফলে তাদের অবস্থান “নিন্দা” “প্রতিবাদ” এবং “উদ্বেগের” মত শব্দেই আটকা পরে আছে।        

আগ্রহী নয় ইসলামীক দলগুলো বা বামপন্থী দলগুলোও। সংসদীয় বামদের সব থেকে বড় কেন্দ্র সিপিবি বরাবরই আওয়ামীলীগ ঘেষা হিসেবে পরিচিত তাই ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে তারা কোনো উপস্থিতি রাখছেনা। একই অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামীও। যদিও বিগত বছরগুলিতে সরকারী দমনে তাদের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক । সব মিলিয়ে সরকার আর বিরোধী কোনো পক্ষই ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে প্রবল অনিহা দেখাচ্ছে।

বাকি রইলো কেবল নাগরিক সংহতি; নাসিরের কামনা সেটিই

শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নয় সাধারন মানুষও  বুঝতে পারেন দেশে আপাতত কোনো  বিরোধী রাজনীতি নেই। যেটুকু বেঁচে আছে সেটিও কেবল প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা এজাতীয় কিছু নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যেই। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবেই নাগরিক মনে প্রতিরোধের সাহসের পারদের নিম্নগতিই থাকার কথা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আছেও।

তবে নাসির এমনটি মানতে নারাজ। তাই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতেও দ্বিধা করেছেন না। আইনত দাবীটা সরকারের কাছে জানালেও সীমান্ত হত্যা রুখে দিতে আকাঙ্ক্ষা করছেন নাগরিক সংহতিই। যতটা এদেশের মানুষের কাছে ততটা সীমান্তের ওপারের সচেতনদের নাগরিকদের কাছেও; তার ভাষায় “সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ কেবলমাত্র বাংলাদেশ কিংবা ভারতের তরুণদের প্রতিবাদ নয়, একই সঙ্গে ভারতের এবং সারা বিশ্বের তরুণ এবং মানবাধিকারে বিশ্বাসী ব্যক্তিদেরও প্রতিবাদ। ভারতের যেসব তরুণ দেশকে ভালবাসে তাদের উচিত অবিলম্বে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার দাবি তোলা।”

নাসির ঘোষনা করেছেন সীমান্ত হত্যার বিচার এবং বন্ধ হবার আগ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবার। কাজটি যে কঠিন তিনিও জানেন । এরমধ্যে প্রশাসন থেকে তার মা-বাবাকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও শোনা গেছে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নিদারুণ নিরবতা যেন সবকিছুকে আরো কঠিন করে তুলছে। যদিও আলাপে মনে হলো নাসিরের মনোবল তাতে বিন্দুমাত্রও কমেনি। তিনি লড়াই করছেন। নাগরিকদের বুকে আশাও জাগাচ্ছেন।

কর্তৃত্ববাদী শাসনের এই বদ্ধ সময়ে নাসিরের এই হিম্মত অবশ্য নতুন সময়েরও বার্তা দিচ্ছে। সন্দেহ নেই “বন্ধুরাষ্ট্র” ন্যারেটিভে সীমান্ত হত্যাযজ্ঞ, অসম চুক্তি আর পানি-বাণিজ্য সহ দেশের স্বার্থবিরুদ্ধ বিষয়ে রাষ্ট্রকে সামনে অসংখ্য নাসিরকে সামাল দিতে হবে। ইতিহাস বলে নাগরিক মনস্তত্ব পড়তে না পারাও রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য সমান আত্মঘাতি। ঠিক সীমান্তে নিজ দেশের নাগরিক হত্যার বিপরীতে চুপ থেকে ভারতকে জবাবদিহিতা বিহীন প্রানঘাতী বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে লালনের মত।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন