মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৮:২০ পূর্বাহ্ণ


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকায় সামবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন ইসলামিক দল ও সংগঠন। তারা বাংলাদেশে মোদির আগমন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। মোদির সফরের বিরুদ্ধে আরো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

দলগুলোর নেতারা নয়া দিল্লিতে মুসলিম নিধনের জন্য মোদিকে দায়ি করেন এবং তাকে মুসলিম হত্যাকারী হিসেবে আখ্যা দেন। তারা ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-কে সাম্প্রদায়িক আইন হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৭ মার্চ মোদির বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে।

সমাবেশগুলোতে নেতারা বলেন, নরেন্দ্র মোদির প্রত্যক্ষ মদদে ভারতের পুলিশ এবং উগ্রহিন্দুরা দিল্লিতে মুসলিম গণহত্যা চালিয়েছে। মুসলমানদের ঘর-বাড়ী মসজিদ মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেছে সেই মোদি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবে আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ তা বরদাশত করবে না। মুসলমানদের হত্যা ও তাদের ওপর নির্যাতনকারী মোদিকে কিছুতেই বাংলাদেশে আসতে দেয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে তাকে প্রতিহত করা হবে। মুসলমানদের রক্তে হাত রাঙিয়ে হিন্দু জঙ্গি মোদি কিছুতেই বাংলাদেশে আসতে পারবে না।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের আহ্বান- দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে এরপর তৌহিদী জনতা মোদির মতো খুনিকে বাংলার মাটিতে পা রাখতে দেবো না। আমরা আগেও এ কথা বলেছি, আজও বলছি। তাই বলব আমাদের প্রিয় নেতার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করুন। তা না হলে এদেশে যদি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।

ভারতে মুসলিম হত্যা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গতকাল উত্তাল ছিল সারা বাংলাদেশ। গতকাল বাদজুমা লাখ মুসল্লি রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভে যোগ দেন। মুসল্লিদের কন্ঠের আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে বায়তুল মোকাররম ও এর আশপাশের এলাকা। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তারা খুনি মোদিকে প্রতিহত করারও ঘোষণা দেন।

বায়তুল মোকাররম ছাড়া রাজধানীর লালবাগ এবং মিরপুরেও মোদি বিরোধী বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মুসল্লি।

মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে ইমলামী সমমনা দলগুলো আগামী ১২ মার্চ সারাদেশে বাদ আসর মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের আমির ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। ঢাকায় তাদের মানববন্ধন হবে যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত এবং সদরঘাট থেকে টঙ্গি পর্যন্ত। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৩ মার্চ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া রাজধানীতে জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশ দিল্লিতে মুসলমান হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে।

ঢাকার বাইরে ভারতে মুসলিম গণহত্যা-নির্যাতন ও মসজিদ-মিনারে অঙ্গিসংযোগের প্রতিবাদে বন্দরনগরী চট্টগ্রামও ছিল উত্তাল। সিলেটের রাজপথে নামাজ শেষে নেমে আসে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি। মুসল্লিরা আবু জাহেলের উত্তরসূরী সন্ত্রাসী নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ করে তার দুগালে জুতা নিক্ষেপ করেন। এ ছাড়া রাজশাহী, বগুড়া, ময়মনসিংহসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল, সভা-সমাবেশ, রাস্তা অরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বাদজুমা দেশের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে মুসল্লি জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ করেন। প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তাগণ ভারতে ক্ষমতাসীনদের মদদে মুসলিম নির্মূলের ঘৃণ্য ও জঘন্য অপতৎপরতা রোধে জাতিসংঘসহ বিশ্ববাসীকে একযোগে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

জুমার নামাজ শেষে উত্তর গেটে সমমনা ইসলামী দলের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, নরেন্দ্র মোদির প্রত্যক্ষ মদদে ভারতের পুলিশ এবং উগ্রহিন্দুরা দিল্লিতে মুসলিম গণহত্যা চালিয়েছে। মুসলমানদের ঘরবাড়ী মসজিদ মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেছে সেই মোদি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবে আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ তা বরদাশত করবে না ।

তিনি বলেন, দেশের জনগণের মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মোদি যাতে বাংলাদেশে আসতে না পারে এ জন্য আমরা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার সংঘাতের পথ পরিহার করে মোদির আমন্ত্রণ বাতিল করবে। যদি বাতিল না করে তাহলে আমাদের ঈমানী দায়িত্ব হবে মোদিকে যে কোনভাবে প্রতিহত করা। পরে বায়তুল মোকাররম থেকে বিশাল মিছিল পল্টন মোড় হয়ে কাকরাইল মোড় দিয়ে বিজয় নগরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর রুখে দিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ক্ষোভ-বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। শুক্রবার নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে হেফাজতে ইসলাম মহানগরীর এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, দিল্লীর মুসলমানদের রক্তের দাগ না শুকাতে বাংলাদেশে খুনি মোদির আগমন এদেশের তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না। তারা এ আমন্ত্রণ অনতিবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন