, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৯:৩১ অপরাহ্ণ


…ইফতেখার আহমেদ খান

সামাজিক পরিবর্তন সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক পরিক্রমা। সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। বলা যায় পরিবর্তনই সমাজের ধর্ম। সামাজিক পরিবর্তনের মৌলরূপ হলো এর গুণগত পরিবর্তন। পরিবর্তনের পরিক্রমাই আদিম মানুষ পূর্বের বর্বর অবস্থা হতে পরিবর্তন হয়ে আধুনিক যুগের এই অবস্থায় উপনীত হয়েছে এবং অনাগত ভবিষ্যতের দিকে ধাবমান রয়েছে।

সমাজ বলতে বোঝায় পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মিথষ্ক্রিয়ার সমষ্টি। পারস্পরিক নির্ভরশীলতা মিথস্ক্রিয়ার উদ্ভব ঘটায়। এই আন্তঃব্যক্তিক মিথস্ক্রিয়া আবর্তনশীল। সুতরাং দেখা যায় সমাজ সর্বদাই পরিবর্তনের পরিক্রমায় ঘূর্ণয়মান। সমাজবিজ্ঞানীগণ নানা প্রকরণে সামাজিক পরিবর্তনকে ব্যবচ্ছেদ করেন। যেমন মৌলিক এবং কাঠামোগত পরিবর্তন। মরিস গিনসবার্গ বলেছেন- সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনই সামাজিক পরিবর্তন। তার অভিমত অনুসারে যে সমস্ত পরিবর্তন সমাজের রূপান্তর ঘটায় তাই সামাজিক পরিবর্তন।

কাঠামোগত পরিবর্তন বিষয়টি আসলে কী?

আদিম সমাজে যখন পরিবার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি তখন মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকত। নির্দিষ্ট কোন নিয়ম-পদ্ধতি, স্বামী-স্ত্রী, সংসার এই জাতীয় কাঠামোর অস্তিত্ব ছিল না। কালক্রমে সময়ের আবর্তে নারী-পুরুষের পারস্পরিক প্রজননকর্মের একটি সামাজিক বৈধ ধারণা জন্ম নিল এবং পরিবার ব্যবস্থা গড়ে উঠল। এটা একটা কাঠামোগত পরিবর্তন।

জীবনের আগের কাঠামোটি পরিবর্তন হয়ে নতুন কাঠামো পরিবার ব্যবস্থা গড়ে উঠল। ঠিক তেমনি রাষ্ট্রবিহীন প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ নানা পর্যায় অতিক্রম করে রাষ্ট্র গঠন করল- এটিও মানবসমাজের একটি কাঠামোগত পরিবর্তন।

এ প্রসঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী হবহাউসের ব্যাখ্যা উল্লেখ করা যায়। তার দেয়া ব্যাখ্যাটি মূলত গুণগত পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। সমাজবিজ্ঞানী হবহাউসের মতে সামাজিক পরিবর্তন সংঘটিত হয় মানুষের মানসিক উন্নতির সঙ্গে। মানববিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয় নীতিধারা ও আইনকানুন।

তিনি সামাজিক পরিবর্তনের পাঁচটি পর্যায়ের উল্লেখ করেন। এগুলো হলো- ১. অনক্ষর সমাজে ভাষার প্রকাশ ২. প্রাচীন প্রাচ্য যথা মিসর ব্যাবিলন ও চীনে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার বিকাশ ৩. পরবর্তীতে প্রাচ্যে এ চিন্তার প্রতিফলন ৪. প্রাচীন গ্রিসে সুসংহত ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার উন্মেষ ৫. ষোড়শ শতাব্দী হতে আধুনিক যুগের সূচনা। উল্লেখ্য, আধুনিকতার শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের উদ্ভূত বাস্তবতাকে মার্কসীয় চিন্তাবিদগণ একেবারেই অহেতুক বিবেচনা করে রেখেছেন।

গবেষণা পদ্ধতি মতে যা ঘটে তাই ঘটনা (What really happened is fact)। সেই সূত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় একটি ঘটনা। এই ঘটনা একটি বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে তারা একেবারেই অহেতুক ধরে রেখেছেন। এক্ষেত্রে আমি যদি বলি ষোড়শ শতকে ইউরোপে ঘটে যাওয়া রেনেসাঁর আরেকটি নমুনা হলো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উদ্ভব। রেনেসাঁর পাদপ্রদীপের মূলে রয়েছে পোপের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে উদারতার বর্জধ্বনি। ইউরোপ অবৈজ্ঞানিক ছিল মূলত খ্রিস্টধর্মের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। অর্থাৎ শাসনে ধর্মের ব্যবহার এবং ধর্মমুক্ত শাসনই হলো রেনেসাঁ বা আলোক উদয়।

ঠিক তেমনি পাকিস্তানের শাসনের সঙ্গে বিষয়টি মিলে যায়। পাকিস্তানী শাসকগণ মধ্যযুগের ইউরোপের মতো ধর্মভিত্তিক অবৈজ্ঞানিক শাসনের সূত্রপাত করেছিল। সেই সূত্রে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ জাতীয়তার আন্দোলন এবং এর ভিত্তিতে এর উদ্ভব নিঃসন্দেহে একটি নবরেনেসাঁ।

১৯৪৭ সালের ধর্মভিত্তিক দেশ ভাগ সার্বভৌম দুই দেশের ধর্মভিত্তিক উত্থান কোনক্রমইে রেনেসাঁ হতে পারে না। যুক্তির মানদন্ডে বাংলাদেশের উদ্ভব একটি রেনেসাঁ এবং এটি একটি সামাজিক পরিবর্তন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ তার উদ্ভূত বাস্তবতা দিয়েই বিরাট আকারে সামাজিক পরিবর্তন বয়ে এনেছিল। উল্লেখ্য, উদ্দিষ্ট পরিবর্তনটি নিমিষেই গতি হারায়। বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের ব্যাখ্যার আদলটি কোন্ আঙ্গিকের মাধ্যমে করা যায় সেটার সুরাহা করাও এক দুরূহ কাজ।

সমসাময়িক বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোথাও কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে ভাবনা জাগে। একটি সরল উদাহরণ- ২০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি চালু হওয়ার ফলে সামাজিক পরবির্তনটা কী হয়েছে? তাৎক্ষণিক উত্তরÑমানুষ আগের চেয়ে অনেক সহজে দ্রুত সময়ে পরস্পর যোগাযোগ করতে সক্ষম হচ্ছে। এই উত্তর কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। যোগাযোগের পরিণামটা কি সেটা হলো এর বিজ্ঞানভিত্তিক উত্তর। অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক সুবিধা বয়ে এনেছে সত্য। সেইসব সুবিধা কিন্তু সর্বজনীন হয়নি। মোবাইল প্রযুক্তির আগে যারা অর্থের রাজা এবং অর্থের প্রজা, মোবাইল প্রযুক্তির পরেও রাজা এবং প্রজা একই আছে। কোন পরিবর্তন নেই। কাজেই মোবাইল প্রযুক্তি গুণগত কিংবা কাঠামোগত কোন পরিবর্তন সাধন করেনি।

এছাড়াও সমসাময়িক বাংলাদেশে প্রযুক্তির উল্লম্ফন ব্যবহার একটি সামাজিক গতিশীলতা তৈরি করেছে সত্য। সেই গতিশীলতার পরিণাম মূল্যায়ন করে সামাজিক পরিবর্তনের হিসাব করতে হবে। আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে পত্র প্রেরণে অনেকটা সময় লাগত। এখন ই-মেইলের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই সেই পত্র প্রেরণ হয়ে যায়। এতে বিষয়সমূহের দ্রুত সুরহা সম্ভব হয়। সময়, অর্থ, শ্রম সবকিছুরই সাশ্রয় হয়। ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটিত কোন বিষয় কিন্তু রাষ্ট্রের বাস্তবতায় খুব বেশি ব্যাখ্যা করা যায় না। ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টির কোন ক্রিয়ার গুণগত কিংবা সংখ্যাগত প্রভাব যখন রাষ্ট্রে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয় তখনই সে বিষয়টি রাষ্ট্রের আঙ্গিকে মূল্যায়ন করা যায়।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ই-গভর্নেন্স নামক সাম্প্রতিক ধারণাটি। প্রযুক্তি যখন শাসনে প্রযুক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রাপ্যতায় জনগোষ্ঠীর সহজগম্যতা নিশ্চিত হয় তখনই কেবল বলা যাবে ই-গভর্নেন্স সার্থক হয়েছে এবং প্রযুক্তি একটি গুণগত পরিবর্তন বয়ে এনেছে, যার দ্বারা সমাজ উপকৃত হয়েছে। কোন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোন সংস্থা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে ভাল লাভ বয়ে এনেছে কিংবা ভাল কাজ করেছে এটা প্রযুক্তির একটি পরিণাম সত্য; কিন্তু এটা একটা সঙ্কীর্ণ পরিণাম। এই পরিণামের মাধ্যমে ঘটিত পরিবর্তনটি তেমন ধর্তব্য নয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে গভর্নেন্স বা শাসন উপকৃত হলেই সেটা কেবল সামাজিক পরিবর্তন।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দেশী-বিদেশী সংস্থা, সংগঠন কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লাভালাভের খতিয়ানটি সামাজিক পরিবর্তন নয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে মাঠ প্রশাসনে রাষ্ট্রীয় নির্দেশটি যত দ্রুতই পৌঁছে যাক সেখান থেকে নির্দেশটি জনগণের কাছে পৌঁছতে শ্রম, সময় ও পয়সা আগের মতোই লাগে। কাজেই প্রযুক্তি আমাদের দেশে সেই অর্থে এখনও সামাজিক পরবির্তন বয়ে আনেনি।

রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজধানী শহর থেকে জেলা-উপজেলা, এমনকি আরও প্রান্তে ঝলমলে বিপণি বিতান বাংলাদেশে একটি নয়া দৃশ্যায়ন। কেরোসিনের আলোয় সন্ধ্যাপ্রদীপ, উনুনে গাছের ডালের আগুন এসবের স্থলে অধিকার নিয়েছে বিদ্যুতের ঝলক- এটি একটি সামাজিক পরিবর্তন। শহরে এবং গ্রাম উভয় স্থানে গৃহকর্মীর দুষ্প্রাপ্যতা সামাজিক পরিবর্তনের আরও একটি নমুনা।

১৯৯০ ও তার আশপাশের সময়ে গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে কৃষি মজুরের সারাদিনের মুজরি ছিল ২০ টাকা। ২০১৫ সালের মধ্যে এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০-৬০০ টাকায়, যতদূর জানি এখন ৭০০ টাকা। পরিবর্তনটি লক্ষণীয়। তাছাড়া ছয় মাসের বা এক বছরের বন্ডমজুরি ধারাটি কিন্তু একদম নেই। বিয়ের আয়োজনে কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবহার শহরে তো বটেই গ্রামাঞ্চলেও বিস্তার লাভ করেছে। শিল্পপণ্যের মূল্যের চেয়ে কৃষিপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কেজি ইলিশের দাম দিয়ে খোদ ঢাকা শহরেই ছেলেমেয়েদের দুটি জিন্সের প্যান্ট কেনা যায়। এ বাস্তবতায় বললে ভুল হবে না বাংলাদেশ তার হাজার বছরের কৃষি সমাজের রূপান্তর ঘটিয়ে শিল্প সমাজের দিকে মোড় নিচ্ছে। কিংসলি ডেভিস বলেছেন- সামাজিক পরিবর্তন বলতে সমাজের গঠন ও কর্মধারার পরিবর্তনকে বোঝায়। বাংলাদেশের সমাজের এই নবরূপায়ণের লক্ষণটি কিংসলি ডেভিসের সংজ্ঞায় দাঁড় করানো যায়। কেননা কৃষি সমাজের কর্মধারা আর শিল্প সমাজের কর্মধারায় বিস্তর তফাত।

মহামতি অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের একটি বক্তব্য- একটি সমাজ কোথায় যাচ্ছে তা বোঝা যায় সেই সমাজের মানুষ কি খাচ্ছে আর কি পরছে তা দেখে। তার বক্তব্যের ধারায় যদি খাওয়া এবং পরা বিষয় দুটি বাংলাদেশের বাস্তবতায় ব্যাখ্যা করা যায় তবে এখানেই আমাদের সামাজিক পরিবর্তনের একটি নমুনা দেখা যাবে।

যেমন রাজধানী শহর থেকে শুরু করে এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রাম পর্যায়েও ফাস্টফুড সংস্কৃতি একটি বড় মাপের সামাজিক পরিবর্তন। শিল্পবিপ্লব পরবর্তী ইউরোপে উৎপাদন ব্যবস্থায় বিরাট আকারের পরিবর্তন সাধিত হওয়ায় সেখানকার সমাজচিত্র পুরোটাই বদলে যায়। দ্রুত নগরায়ণ ও এর ফলে ক্রমবর্ধমান কর্মকাঠামোর বিস্তার এবং গতির পরিণামে ফাস্টফুড সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। লক্ষণীয়, আমি বলেছি গড়ে ওঠে, গড়ে তোলা হয় বলিনি। আমাদের দেশের ফাস্টফুড সংস্কৃতি ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও এগুলো গড়ে ওঠেনি, গড়ে তোলা হয়েছে। দেশীয় ও বিশ্ব বণিকগোষ্ঠীর মুনাফার স্ফিতিকরণের লক্ষ্যভেদী টার্গেটের বাস্তব শিকার বাংলাদেশের ফাস্টফুড সংস্কৃতি। ফাস্টফুড শপে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য খোদ ঢাকা শহরের ছেলেমেয়েরা সংসারে পিতামাতার ওপর অত্যাচার চালায়। এটা হাস্যকর নয়ত কি যে, এক কাপ চা একটি ফাস্টফুড শপে ৭০ টাকা, যা পাশের টং দোকানে ৬ টাকা।

পাঠ বা পড়া বা অধ্যয়ন ব্যতীত এই বিশ্ব সংসারকে জানার-বোঝার আর কোন অবলম্বন আছে কি? একজন ব্যক্তি তার জীবনের নানাবিধ অভিজ্ঞতার পথরেখায় আত্মাভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। ব্যক্তির সেই আত্মাভিজ্ঞতার সঙ্গে বিস্তৃত বিশ্ব সংসারের নানাবিধ ধারণা যুক্ত হলেই কেবল ব্যক্তির অভিজ্ঞতা সর্বজনীনতা লাভ করে এবং তা দর্শনে রূপ নেয়। এই দর্শনের স্বাদ পেতে হলে পড়তে হবে। এ কারণেই হয়ত মহানবীর (সা) ওপর ঐশী নির্দেশ এসেছিল ‘পড়’।

এক সময় আমাদের বিদ্যুতবিহীন গ্রামবাংলায় সমিতি করে পড়ার একটি ধারা তৈরি হয়েছিল। অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন সেই ঘটনা। পড়া আর অধ্যয়নের মাঝে তফাত আছে। পড়া মানে শুধু পড়া আর অধ্যয়ন মানে পড়া এবং তার অনুশীলন করা। ইন্টারনেট প্রযুক্তির পড়া অনুশীলন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তার পরিমাণ সংখ্যাগত ও গুণগত উভয় দিকেই অত্যন্ত নিম্নমানের। এটি একটি পর্যবেক্ষণ।

প্রযুক্তি, নগরায়ণ, বহুবিধ কর্মপরিধি, উৎপাদন পদ্ধতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঘটমান নিয়ত পরিবর্তনের রূপরেখাটির বাস্তবতা অস্বীকার করার কোন জো নেই সত্য; কিন্তু একটি সমাজ তার কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়েছে তা তখনই বলা যাবে যখন দেখা যাবে সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সামাজিক ন্যায্যতা এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন। ন্যায্যতাবিহীন সামাজিক পরিবর্তন একটি অসাড় পরক্রিমা, যার প্রতিনিধিত্ব করছে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন