, ১৩ জুন ২০২১; ৯:১৪ অপরাহ্ণ


একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একাত্তরের বদর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুপরোয়ানা মঙ্গলবার সকালে তাকে পড়ে শুনিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর আগে লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যুপরোয়ানাটি সোমবার মাঝরাতে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। কারাগারের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহার এখন ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন না করলে যে কোনো দিন রায় কার্যকর হতে পারে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করে সাজা কমানোর নজির নেই। এর আগে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সব যুদ্ধাপরাধী পুনর্বিবেচনার আবেদন করেও সর্বোচ্চ সাজার রায় বদলাতে পারেনি।

পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলেও অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন আজহার। তিনি যদি প্রাণভিক্ষা না চান এবং চেয়েও যদি ক্ষমা না পান তাহলে রায় কার্যকরের ক্ষণগণনা শুরু হবে।

রায় কার্যকরের আগে তিনি শেষবারের  মতো পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। ২০১২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মগবাজারের বাসা  থেকে আজহারকে গ্রেফতারের পরের বছর ১২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে তার বিচার শুরু হয়।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আজহারের মৃত্যুদেন্ডর রায় ঘোষণা করে। একই সঙ্গে তাকে ৩০ বছরের কারাদ  দেওয়া হয়।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর তার সেই সাজা বহাল রাখে আপিল বিভাগ। আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১৫ মার্চ প্রকাশিত হয়। রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে  পৌঁছানোর পর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এরপরই মৃত্যুপরোয়ানা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, একাত্তরে জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের জেলা কমিটির সভাপতি আজহারুলের নেতৃত্বেই বৃহত্তর রংপুর এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, বাড়িঘরে লুটপাট-অগ্নিসংযোগসহ বর্বরতা চালানো হয়।

রায়ে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা ও নিজেই ১৪ জনকে খুনের অপরাধে তাকে মৃত্যুদ  দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করেন এই আজহারুল।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন