মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১:২০ পূর্বাহ্ণ


বৃটিশ প্রমোদতরী এম এস ব্রেমারে কমপক্ষে ৫ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী অবস্থান করছিলেন। এছাড়া ৫২ জন যাত্রীর মধ্যে এই রোগের লক্ষণ আছে। ৬০০ যাত্রীর এই জাহাজে বৃটিশ নাগরিকই বেশি। নেই কোনো কিউবান। বিপদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কাছে সাহায্য চান জাহাজের ক্যাপ্টেন। কিন্তু ‘প্রাণের বন্ধু’ যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে দিলেও, ‘শত্রু’ কিউবা স্বার্থহীনভাবে বৃটিশ জাহাজটিকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাঁচ দিন ধরে ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থান করছিল জাহাজটি। অন্যত্র নোঙরের অনুমতির জন্য পাগলের মতো হন্যে হয়ে সাহায্য খুঁজছিলেন ক্যাপ্টেন।

বৃটিশ কূটনীতিকরা মার্কিন কর্মকর্তাদের আকুতি মিনতি করে অনুরোধ করছিলেন যেন জাহাজটিকে ভিড়তে দেয়া হয়। কিন্তু না! নিজেদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুও এই বিপদের বোঝা নিতে রাজি হলো না।

কিন্তু ‘শত্রু’ কিউবা ঠিকই অনুরোধে রাজি হলো। দেশটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে হলে অবশ্যই অভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। যাত্রীরা কোন পাসপোর্টধারী, সেটি বড় কথা নয়। বড় কথা হলো তারা মানুষ।

এখন পর্যন্ত কিউবায় মাত্র ৫ জন করোনাভাইরাস-আক্রান্ত রোগী ধরা পড়েছে। এই জাহাজকে নোঙর করার আশ্রয় দিলে দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু তবুও কিউবা দ্বিধা করেনি।

ভয়াবহ ঝুঁকি জেনেও অন্যের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবারই প্রথম নেয়নি কিউবা। পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাস সংকটের সময় কিউবা শ’ শ’ ডাক্তার পাঠায় উপদ্রুত এলাকায়। কিউবান ডাক্তাররা তখন প্রশংসায় ভেসেছিলেন। ২০১০ সালে হাইতির ভূমিকম্প উপদ্রুত অঞ্চলে কিউবা ডাক্তার ও নার্স পাঠায়। বলা হয়, কিউবা সেই সংকটে যা করেছিল, তা অন্য দেশগুলোকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল।

কিউবার সাবেক বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর, সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য খাতের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়। একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি ও সংকটে পেশাদার ডাক্তারদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কিউবা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিউবার অর্থনীতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নড়বড়ে হলেও, এক প্রকল্প থেকে দেশটি পিছু হটেনি। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে এই প্রকল্পও হুমকির মুখে পড়েছে।

করোনাভাইরাস সংকট হওয়া উচিত বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপলক্ষ। কিউবা দীর্ঘদিন ধরে বেশ প্রশংসিত স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করে আসছে। দেশটির মানুষের সম্ভাব্য গড় আয়ু উন্নত বিশ্বের সমান। যুক্তরাষ্ট্র অপরদিকে এই করোনাভাইরাস সংকট থেকেও লাভ ঘরে তোলার চিন্তা করছে। বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবার অধীনস্থ যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত কীটও সরবরাহ করতে পারেনি।

স্পেন এই সপ্তাহে নাটকীয়ভাবে দেশের সকল বেসরকারি হাসপাতাল সরকারি ঘোষণা করেছে। ভাইরাসের প্রভাব টেনে ধরতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। সরকারি পদ্ধতি যে নাগরিকদের নিরাপদ রাখে, তার প্রমাণ হলো এটি।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন