মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ


গত কয় দিনে, বাংলাদেশের অধিকাংশ দূতাবাস তাদের স্টাফ এবং পরিবার খালি করে ফেলেছে। করোনা পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের ভবিষ্যতবাণী দিচ্ছেন। আমারও একটি আছে। তা করোনা পরবর্তী নয়। তা, ভ্যাক্সিন আবিষ্কার পূর্ববর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা।

তা হলো, এই বিশ্ব দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যাবে।

এক ভাগে থাকবে, যারা করোনাকে মোকাবেলা করে দমন করতে পেরেছে।
আরেক ভাগে থাকবে যারা করোনাকে মোকাবেলা করতে পারে নাই। জনপদে করোনা ছড়িয়ে দিয়েছে। এবং হেরড ইমিউনিটির জন্যে অপেক্ষা করতেছে।

হেরড ইমিউনিটি হচ্ছে, সব চেয়ে জঘন্য নিউ লিবারেল পলিসি যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাষ্ট্রের দায়কে অস্বীকার করে সকল দায় জনগণের উপরে চাপিয়ে দেওয়া।

এবং জনগণকে বিনা চিকিৎসায় মরার প্রক্রিয়া করা। এবং ভাগ্যের অপেক্ষায় বসে থাকা যেন, এমন পরিমাণ না মরে যার ফলে মসনদ নিয়ে টানাটানি না পরে যায় । এবং মৃত্যুর পরিমান যদি সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তবে, মিডিয়া দিয়ে সংখ্যা কমায় দেখানো। তিনের নামতা পড়া।

এই রাষ্ট্রের তালিকায় আছে, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং সর্বশেষ যোগ হয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে আইসিসিডিআরবি সহ প্রচুর ভাল ভাল প্রতিষ্ঠান থাকা স্বত্বেও শুধু মাত্র ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সংস্থা দিয়ে করোনা চিহ্নিতকরণ, নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা সেন্ট্রালাইজেশানের উদ্দেশ্য একটাই- তিনের নামতা পরা।

এখন আমরা যেহেতু বাঙ্গু এবং আমাদের মিডিয়া যেহেতু নিয়ন্ত্রিত এবং আমাদের এলিটেরা, বা ব্যবসায়ীরা বা মিডিয়া বা আর্মি, পুলিশ, ব্যুরোক্র্যাট, শিক্ষক, ডাক্তার সহ সকল সরকারি এবং আধা সরকারি কর্মচারীরা ষোল কোটি জনগণের নির্যাস চুষে ফার্মের মুর্গির মত মোটা তাজা হয়ে উঠতেছে তাই তারা সরকারের এই তিনের নামতা মেনে নেবে। তাদের কোন ইনসেন্টিভ নাই সিস্টেমকে প্রশ্ন করার।

কয়েকটা লাশ পরলেও কিছু যায় আসেনা কারন, বাংলাদেশের সব চেয়ে সস্তা মানুষের জীবন। দরকারের চেয়ে অনেক বেশি আছে । কিছু বুড়ো মানুষ মরে গেলে, অর্থনীতির লাভ হবে সেইটা অনেকেই মনে মনে ভাবেন।

কিন্তু বাকি বিশ্ব কেয়ার করে। একটা মানুষকে বাঁচানোর জন্যে একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ পর্যন্ত করে। কারন, মানুষের প্রাণ সে দুইটি হোক এবং দুই লক্ষ হোক- একটা রাষ্ট্র যখন রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, ঐ দেশের নাগরিকেরা ঐ সরকারকে লাথি দিয়ে সরিয়ে দেয়। তাই সরকারের একটি প্রান বাঁচানোর জন্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

তাই, বাকি বিশ্বের দায় নেই আমাদের ব্যর্থতার জন্যে তাদের সুরক্ষাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে। ওরা অনেক কষ্ট করে কন্টেন করছে এবং করবে। চায়নার দিকে দেখেন ? কন্টেন করে ফেলেছে। ফ্রান্স ইতালি নিয়ে কাঁদবেন না। ওরা কন্টেন করে ফেলবে।
বিশ্বের প্রায় সকল দেশ কন্টেন করে ফেলবে।

তারা এই প্যাথলজিকালি মিথ্যাবাদী রেজিমকে সহ্য করেছে ব্যবসার কারনে বা ধান্দার কারনে। কিন্তু যখন এই রেজিমের কারনে, তাদের মূল্যবান প্রাণের সুরক্ষার সম্ভাবনা নষ্ট হবে, তাদের এতো কস্ট করে তৈরি করা কন্টেন্মেন্ট ব্যর্থ হবে তখন তারা প্রথম দফায়, বাংলাদেশ থেকে তাদের সকল নন এসেন্সিয়াল প্রাণ সরিয়ে নেবে।

এবং পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ ভাবে আইসোলেট করে ফেলবে।

বাংলাদেশের নো টেস্ট, নো করোনা। বা হসপিটাল এডমিশান, নো করোনা ডেথ পলিসি দিয়ে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ দিয়ে তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারবে। এরা কয়েক দিন পরে বলবে, আরে এক্সিডেন্টেও তো এর চেয়ে বেশি মারা যায়।

কিন্তু, এই মিথ্যাবাদি সরকার সেই ফাকি ধরে ফেলবে। কারন এইটা অংক। যে অংক বলে দেয়, আপনার কয় জন রোগী আছে। নো টেস্ট নো করোনা দিয়ে বাচার উপায় নাই। এইটা মিডনাইট ইলেকশা নয়। যে রাইতের বেলে ভরে দিবেন।

তাই, নেক্সট স্টেপ হলো বাকি বিশ্ব বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মত অল্প কিছু দেশ যারা ভাইরাসটিকে জনপদে ছড়িয়ে দিতে দিয়েছে,তাদের এক ঘরে করে ফেলবে। এবং এই জনপদে এক জন গার্মেন্টসের বায়ারও আসবেনা। এবং কাউকে ভিসা দেওয়া হবেনা ।

করোনা পরবর্তী বিশ্বকে আমি এই ভাবে দেখি । যা ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে। এই বিশ্ব দুই ভাগে ভাগ হবে।কে করোনা কন্টেইন করেছে আর কে ছড়িয়ে দিতে দিয়েছে।

এইটা একটা নৌকার পাঁচটা ফুটোর মত। কেউ চারটি ফুটো বন্ধ করে সাফল্যের উল্লাস করতে পারবেনা। কিন্তু, এরা একটা ফুটো বন্ধ করেই বলতেছে, তোমরা হাত তালি দিচ্ছো না কেন ?

এরা বুঝতেছে না, যে নৌকা ডুবে যাচ্ছে। বিশ্বাস করেন, ডুবন্ত নৌকায় কেউ থাকতে চায় না। এই জন্যে সকল দূতাবাস তাদের পরিবার সরায় নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমার বারে বাড়ে জ্বলন্ত কড়াই থেকে ফুটন্ত উনুন তত্ত্বওয়ালাদের কথা মনে পরে।

মাত্র ২০০ টা ভেন্টিলেটর যে রাষ্ট্রে , মানি এবং পাওয়ার এলিটেরা যে আইসিইউ বেড গুলো দখল করে রেখেছে, তাদের মত সোশাল এলিটদের জন্যে কেউ কি আইসিইউ বেড রিজার্ভ রেখেছে ?

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন