রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১০:১৮ অপরাহ্ণ


বহু মানুষ বিশ্বাস করে যে সত্যই ক্ষমতা বয়ে আনে। যদি কোনো নেতা, ধর্ম কিংবা মতাদর্শ বাস্তবতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাহলে তারা ক্রমান্বয়ে অধিকতর বিচক্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাস্ত হবে। কাজেই সত্য অবলম্বন করাই ক্ষমতা অর্জনের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি একটি সান্ত্বনাদায়ী মিথ। আদতে সত্য ও ক্ষমতার মাঝে রয়েছে অনেক বেশি জটিল এক সম্পর্ক, কারণ মনুষ্য সমাজে ক্ষমতা বলতে দুটি খুবই ভিন্ন জিনিস বুঝায়। 

এক দিকে ক্ষমতা বলতে বুঝায় বিষয়গত বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাঃ প্রাণী শিকার করা, সেতু নির্মাণ করা, রোগ প্রতিকার করা, আণবিক বোমা তৈরি করা। এ ধরনের ক্ষমতা সত্যের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। আপনি যদি একটি মিথ্যা ভৌত তত্ত্বে বিশ্বাস করেন, তবে আপনি কোনো আণবিক বোমা তৈরি করতে পারবেন না।

অপরদিকে ক্ষমতা বলতে মানুষের বিশ্বাসগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার, অর্থাৎ অনেক মানুষকে কার্যকরভাবে সহযোগিতার কাজে লাগানোর সক্ষমতাকেও বুঝায়। আণবিক বোমা বানানোর জন্য কেবল পদার্থবিজ্ঞানের উপর ভালো বোঝাপড়া থাকলেই হয় না, কয়েক লক্ষ মানুষের সমন্বিত শ্রমেরও দরকার হয়। শিম্পাঞ্জী কিংবা হাতির বদলে মানুষ পৃথিবী গ্রহকে জয় করেছে কারণ আমরাই একমাত্র স্তন্যপায়ী, যারা অনেক বড় সংখ্যায় সহযোগিতা করতে পারি। আর সাধারণ গল্পের প্রতি বিশ্বাসের উপর বৃহৎ পরিসরের সহযোগিতা নির্ভর করে। তবে এসব গল্প যে সত্য হতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। আপনি লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঈশ্বরের ব্যাপারে, বর্ণের ব্যাপারে অথবা অর্থনীতির ব্যাপারে সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্পে বিশ্বাস করানোর  মাধ্যমে একতাবদ্ধ করতে পারেন।

ক্ষমতা ও সত্যের দ্বৈত ধর্ম এই কৌতূহলী সত্যে রূপ নেয় যেখানে আমরা মানুষেরা অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে বেশি সত্য জানার পরও অনেক বেশি ফালতু ব্যাপারেও বিশ্বাস করে থাকি। আমরা একই সাথে পৃথিবী গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও সবচেয়ে ভ্রান্তিপ্রবণ বাসিন্দা। খরগোশেরা E=mc2 জানে না, তারা জানে না মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর এবং জানে না সাইটোসিন, গুয়ানিন, এডেনিন ও থাইমিন নিয়ে ডিএনএ গঠিত। অপর দিকে খরগোশেরা পৌরাণিক কেচ্ছা-কাহিনীতে এবং মতাদর্শিক অর্থহীনতায় বিশ্বাস করে না যেগুলো হাজার বছর যাবত অসংখ্য মানুষকে বিমোহিত করেছে। কোনো খরগোশই পরকালে ৭২টি খরগোশ লাভের আশায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে উড়োজাহাজ নিয়ে আছড়ে পড়তে চাইতো না।          

একটি সাধারণ গল্পের মাধ্যমে যখন মানুষকে যূথবদ্ধ করা হয় তখন আদতে কল্পনা সত্যের চাইতে তিনটি সুবিধা ভোগ করে। প্রথমত, সত্য যেখানে সর্বজনীন, কল্পনা সেখানে আঞ্চলিক। ফলে আমরা যদি বিদেশীদের থেকে আমাদের গোত্রকে আলাদা করতে যাই তাহলে একটি কাল্পনিক গল্প হবে একটি সত্য গল্পের চেয়ে অনেক ভালো পরিচয় বাহক। ধরুন, আমরা আমাদের গোত্রের সদস্যদের বিশ্বাস করতে শিক্ষা দেই যে “সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে এবং পশ্চিমে অস্ত যায়।” এটি একটি খুবই দুর্বল গোত্রগত মিথ হবে। আমি যদি জঙ্গলে এমন লোকের সামনে পড়ি যিনি আমাকে বলেন সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হয় তাহলে এটি নির্দেশ করে যে তিনি আমাদের গোত্রের একজন বিশ্বস্ত সদস্য, কিন্তু এর মাধ্যমে হয়ত আরো বুঝায় যে তিনি একজন বুদ্ধিমান বিদেশী যিনি নিজে নিজেই আমাদের গোত্রের ব্যাপারে একই রকম সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাই গোত্রের সদস্যদের এটা শেখানো শ্রেয় যে “সূর্য হচ্ছে একটি বিরাট ব্যাঙের চোখ যা প্রতিদিন আকাশজুড়ে লাফিয়ে বেড়ায়,” কারণ খুব কম বিদেশী — যতই বুদ্ধিমান হোক — নিজে নিজে এই বিশেষ ধারণাটি লুফে নিতে পারে। 

সত্যের তুলনায় কল্পনার দ্বিতীয় যে সুবিধাটি রয়েছে সেটি অপূর্ণতা নীতির সাথে সম্পর্কিত, যেখানে বলা হয় যে নির্ভরযোগ্য ইঙ্গিত অবশ্যই ইঙ্গিত প্রদানকারীর কাছে কষ্টসাধ্য হবে। অন্যথায় প্রতারকরা সহজেই সেগুলো নকল করে ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ময়ূররা অত্যধিক রঙ্গিন লেজ প্রদর্শনের মাধ্যমে ময়ূরীদেরকে তাদের উপযুক্ততার ব্যাপারে আভাষ দেয়। এটি উপযুক্ততার একটি নির্ভরযোগ্য আভাষ কারণ লেজটি ভারী, জবরজং ও শিকারী প্রাণীদের আকৃষ্ট করে। একটি প্রকৃত উপযুক্ত ময়ূর এই অপূর্ণতা সত্ত্বেও টিকে থাকতে পারে। গল্পের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই ব্যাপার ঘটে।

একটি সত্য গল্প বিশ্বাস করার মাধ্যমে যদি রাজনৈতিক আনুগত্যের ইঙ্গিত দেওয়া যায়, তাহলে যে কেউ সেটা নকল করতে পারে। তবে হাস্যকর ও অস্বাভাবিক গল্পে বিশ্বাস করলে অনেক চড়া মূল্য দিতে হয়, আর সেজন্যেই এটি আনুগত্যের একটি ভালো সংকেত। আপনার নেতা যখন সত্য বলে কেবল তখনই যদি আপনি তাকে বিশ্বাস করে তাহলে এর দ্বারা কী প্রমাণিত হয়? বিপরীতক্রমে আপনার নেতা যখন আকাশ কুসুম গল্প করেন তখনও যদি আপনি তাকে বিশ্বাস করেন তাহলে সেটাই আনুগত্য! সুসময়ের সমর্থক ও নির্ভরযোগ্য ভক্তদেরকে পৃথক করার একটি পন্থা হিসেবে ধূর্ত নেতারা অনেক সময় হয়ত ইচ্ছে করেই ফালতু বকে থাকতে পারেন।

তৃতীয়ত ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সত্য প্রায়শই কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক। কাজেই আপনি যদি নির্ভেজাল বাস্তবতায় অনড় থাকেন, খুব কম লোকেই আপনাকে অনুসরণ করবে। একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যদি আমেরিকার জনগণকে সত্য বলেন, আমেরিকার ইতিহাস সম্বন্ধে পুরো সত্য এবং কেবলই সত্য বলেন তাহলে তার নির্বাচনে হেরে যাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা আছে। অন্য সব দেশের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। কয়জন ইসরায়েলী, ইতালীয় ও ভারতীয় তাদের দেশের ব্যাপারে নিখুঁত সত্য হজম করতে পারেন? সত্যের প্রতি অবিচল অনুরাগ একটি প্রশংসনীয় আত্মিক চর্চা, তবে এটি  জয়লাভ করার মতন রাজনৈতিক কৌশল নয়।

অনেকে হয়ত যুক্তি দিতে পারে যে কাল্পনিক গল্পে বিশ্বাস করার দীর্ঘমেয়াদী মূল্য সামাজিক সংযোগের  স্বল্পমেয়াদী সুবিধাগুলোকে অতিক্রম করে যায়। লোকে যখন একবার অদ্ভূত কল্পনায় ও সুবিধাজনক মিথ্যায় বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন এই অভ্যাস অনেক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়তে থাকে, আর এগুলো তখন পর্যায়ক্রমে বাজে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত তৈরি করে, প্রতি-উৎপাদনশীল সামরিক কৌশল অবলম্বন করে এবং ফলপ্রসূ প্রযুক্তির বিকাশে ব্যর্থ হয়। এসব যখন মাঝেমধ্যে ঘটে তখন তা সর্বজনীন নিয়মের ধারেকাছেও থাকে না। এমনকি সবচেয়ে উগ্র উদ্দীপনাসম্পন্ন ও ধর্মান্ধরা প্রায়ই তাদের অযৌক্তিকতাকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করতে পারে যাতে করে কিছু বিষয়ে তারা ফালতু বিশ্বাসে মজে থাকে, আবার অন্যগুলোতে দারুণ যুক্তিপূর্ণ হয়।

উদাহরণ হিসেবে নাৎসীদের কথা ভাবুন। নাৎসীদের বর্ণ সম্পর্কিত তত্ত্বটি ছিলো একটি ভুয়া অপবিজ্ঞান। যদিও নাৎসীরা বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সাহায্যে একে জোরদার করতে সচেষ্ট হয়েছিলো, তা সত্ত্বেও লক্ষ লক্ষ মানুষের  হত্যাকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য একটি যথেষ্ট শক্তিশালী বিশ্বাস তৈরি করার লক্ষ্যে তাদেরকে তাদের যৌক্তিক প্রবৃত্তির কণ্ঠরোধ করতে হয়েছিলো। তবে যখন গ্যাস চেম্বার নকশা করার ও আউশভিৎস-এর ট্রেনের সময়সূচী তৈরি করার সময় এলো তখন নাৎসীদের নির্ভেজাল যৌক্তিকতা তার গুপ্ত স্থান থেকে বেরিয়ে এলো।

নাৎসীদের বেলায় যে সত্য দেখা গেলো, সেটি ইতিহাসের অন্যান্য অনেক উন্মাদগ্রস্ত দলের বেলায়ও সত্য। এটা উপলব্ধি করা যুক্তিগ্রাহ্য হবে যে, বিশ্বের সবচেয়ে উন্মাদগ্রস্ত সংস্কৃতিতে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের সূচনা হয়েছিলো। কলম্বাস, কোপার্নিকাস ও নিউটনের সময়কার ইউরোপে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের বাড়বাড়ন্ত ছিলো এবং সহিষ্ণুতা ছিলো সবচেয়ে কম।

স্বয়ং নিউটন পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের রহস্য উদ্ঘাটন করার চাইতে বাইবেলের গোপন বার্তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে অধিক সময় ব্যয় করেছিলেন। বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের মনীষীগণ এমন একটি সমাজে বাস করতেন যেটি ইহুদী ও মুসলমানদের বিতাড়িত করতো, ধর্মদ্রোহীদের ব্যাপক হারে পুড়িয়ে মারতো, প্রতিটি বিড়ালপ্রেমী বৃদ্ধ মহিলার মাঝে ডাইনি খুঁজে বেড়াতো এবং প্রত্যেক পূর্ণিমায় একটি করে নতুন ধর্মযুদ্ধ শুরু করতো।

আপনি যদি ৪০০ বছর আগের কায়রো অথবা ইস্তানবুল ভ্রমণে যেতেন, আপনি বহু সংস্কৃতিপূর্ণ ও সহিষ্ণু একটি মহানগর দেখতে পেতেন যেখানে সুন্নি, শিয়া, অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ান, ক্যাথলিক, আর্মেনীয়, কপ্ট, ইহুদী ও এমনকি মাঝেমধ্যে হিন্দুরা অপেক্ষাকৃত সম্প্রীতির পরিবেশে পাশাপাশি বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে মতভেদ ও দাঙ্গা থাকা সত্ত্বেও — এবং যদিও অটোমান সাম্রাজ্য নিয়মিতভাবে ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বঞ্চিত করতো — পশ্চিম ইউরোপের সাথে তুলনা করলে এটি ছিলো একটি উদার স্বর্গ। আপনি যদি তারপর সে সময়কার প্যারিস অথবা লন্ডনে যাত্রা করতেন তাহলে আপনি ধর্মীয় গোঁড়ামিতে নিমজ্জিত শহর দেখতে পেতেন, যেখানে কেবল আধিপত্যকামী সম্প্রদায়টি বসবাস করতে পারতো। লন্ডনে তারা ক্যাথলিকদের হত্যা করতো; প্যারিসে তারা প্রটেস্ট্যান্টদের হত্যা করতো; ইহুদীরা বহু আগেই বিতাড়িত হয়েছিলো; আর কোনো মুসলমানকে ঢুকতে দেওয়ার কথা কেউ ভাবতেই পারতো না। তা সত্ত্বেও কায়রো অথবা ইস্তানবুলের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক বিপ্লব শুরু হয়েছিলো লন্ডনে ও প্যারিসে।

যৌক্তিকতাকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করার সক্ষমতার সাথে সম্ভবত আমাদের মস্তিষ্কের কাঠামোর অনেক সংযোগ আছে। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ধরনের চিন্তার জন্য দায়ী। মানুষ অবচেতনভাবে মস্তিষ্কের সেসব অংশকে নিষ্ক্রিয় ও পুনরায় সক্রিয় করতে পারে যেগুলো সংশয়ী চিন্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে হিটলারের একটি আবেগঘন বক্তৃতা শোনার সময় এডলফ্‌ আইখম্যান তাঁর প্রিফন্টাল কর্টেক্স নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারতেন এবং তারপর আউশভিৎস-এর ট্রেনের সময়সূচী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার সময় সেটাকে পুনরায় কার্যকর করে নিতেন।

আমাদের যৌক্তিক প্রবৃত্তিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমাদের যদি কিছু ত্যাগ স্বীকার করারও প্রয়োজন হয় তাহলে বর্ধিত সামাজিক সংযোগের সুবিধাগুলো প্রায়শই এত বেশি যে মানব ইতিহাসে কাল্পনিক গল্পগুলো নিয়মিতভাবে সত্যের উপর ছড়ি ঘোরাবে। বিদগ্ধজনেরা হাজার বছর ধরে এ সম্বন্ধে অবগত আছেন, যে কারণে বিদগ্ধ লোকদের অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে হতো তাঁরা সত্য অবলম্বন করবেন নাকি সামাজিক সম্প্রীতি অবলম্বন করবেন। সবাই যেন একই কল্পনায় বিশ্বাস করে সেটি নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদেরকে যূথবদ্ধ করা উচিত, নাকি অনৈক্যের বিনিময়ে হলেও মানুষকে সত্যটা জানতে দেওয়া উচিত? সক্রেটিস সত্য বেছে নিয়েছিলেন এবং সেজন্য প্রাণদণ্ড লাভ করেছিলেন। ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী পাণ্ডিত্যপূর্ণ  প্রতিষ্ঠানসমূহ — হোক তা ক্রিশ্চিয়ান পুরোহিত, কনফুসীয় মান্দারিন অথবা কম্যুনিস্ট তাত্ত্বিক — সত্যের ঊর্ধ্বে ঐক্যকে স্থান দিয়েছিলেন। এ কারণেই তাঁরা এত ক্ষমতাবান ছিলেন।     

ইউভাল নোয়াহ্‌ হারারি একজন ইসরায়েলী ইতিহাসবিদ। তিনি “স্যাপিয়েন্স”, “হোমো দিউস” “টুয়েন্টি ওয়ান লেসনস্‌ ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি” গ্রন্থসমূহের রচয়িতা।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন