মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৬:২০ পূর্বাহ্ণ


বাঙালি মুসলমানের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম শবে বরাত নিয়ে লিখেছেন –

‘এল এল শবে রাত

তোরা জ্বালরে ঘরে বাতি,

হোক রওশন মুসলিম জাহানের

অন্ধকার রাতি। ‘

যেকোন বাঙালি মুসলমানের কাছে যদি ধর্মের পবিত্র উৎসব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় তাহলে সে উত্তর দিবে – ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে বরাত ও শবে কদর। ধর্মগ্রন্থে কতটুকু সুনির্দিষ্ট করা আছে কি নেই এই অঞ্চলের মুসলমানের কাছে তার চেয়ে বড় বিবেচ্য এই উৎসবগুলো সমাজে তার কওমের পরিচয়ের সমার্থক।

বেশ কয়েক বছর ধরেই এক শ্রেণির তরুণ ও আলেম-ওলামারা শবে বরাতকে ঘিরে দিচ্ছেন এক ভিন্ন বার্তা। ফার্সি শব্দ শবে বরাতের অর্থ দাঁড়ায় বরকতময় রাত অথবা ভাগ্য রজনী।  তাদের কাছে শবে বরাত ইসলাম ধর্মের কোন নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা দ্বারা চিহ্নিত নয়। এদের কেউ কেউ শবে বরাতকে বেদআত বা নতুন উদ্ভাবন বলে চিহ্নিত করছেন। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই উৎসব অন্যদিকে পিউরিটারিয়ান বা শুদ্ধবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি নতুন প্রজন্মের সদস্যরা। এই বিতর্ককে শিয়া সংস্কৃতি বনাম সুন্নি সালাফি মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

শবে বরাত সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে শবে বরাত নামে, ইরান ও আফগানিস্তানে নিম শা’বান, আরব অঞ্চলে নিসফ শা’বান, মালয় ভাষাভাষীরা নিসফু শা’বান আর তুর্কি ভাষায় বিরাত কান্দিলি নামে।

বাংলাদেশে এই উৎসব সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। গ্রামের ঘরে ঘরে রুটি, হালুয়া ও মিষ্টান্ন বানানো হয় ও পাড়া-প্রতিবেশিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন বিশেষ আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও ধর্মীয় সভার আয়োজন করে। রাতভর ইবাদত বন্দেগির নিমিত্তে সারা বাংলাদেশের সমস্ত মসজিদ পুরো রাত উন্মুক্ত থাকে। শবে বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। জাতীয় পত্রিকাগুলো এ দিন বিশেষ ক্রোড়পত্র ও সাময়িকী প্রকাশ করে ও শবে বরাত উপলক্ষে সবাই রাষ্ট্রীয় ছুটি উপভোগ করে।

প্রান্তিক মুসলমান শ্রমজীবী শ্রেণির কাছে শবে বরাতের গুরুত্ব সর্বাধিক। আল্লাহ’র কাছে আগামী বছরের জন্য বিভিন্ন কিছু কামনা করেন তারা। ইহলৌকিক প্রাপ্তির চূড়ান্ত পৌঁছে যারা ধর্মকে যুক্তিবাদী চর্চা ও রাজনীতির বিষয় বানিয়েছেন এ ধরণের সামাজিক উৎসব তাদের কাছে ঝুকিপূর্ণও বটে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন