মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৪:৪৫ অপরাহ্ণ


যোবায়ের আল মাহমুদ, সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের কিছু ওষুধ কোম্পানি কর্তৃক বেশ কিছু করোনার ইনভেস্টিগেশনাল (IND) ড্রাগের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্যোগের ব্যাপারে এক ধরণের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ যে এতে করে এদেশের মানুষকে গিনিপিগ বানানোর প্রজেক্ট নেয়া হচ্ছে কিনা। ড্রাগের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ব্যাপারে এই উদ্বেগের জায়গাটা মানে রাজনৈতিক দিক থেকে প্রশ্ন তুলাটা ভ্যালিড হলেও আমি মনে করে মহামারীর টাইমে আমাদের হাতে যেহেতু অপশন নেই তাই বিদ্যমান অন্য রোগে অনুমোদিত এবং করোনার ক্ষেত্রে প্রমিজিং ড্রাগের ট্রায়াল দরকার হবে। এটা অনেকটা “compassionate clinical trial” এর মত। একই সাথে এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে বাংলাদেশের ফার্মা কোম্পানিগুলার হিউম্যান ট্রায়াল সুপারভাইজ করার জন্য CRO (Contract research organization) দরকার, প্রফেশনাল লোকাল CRO আছে কিনা আমি সন্দিহান সেক্ষেত্রে কোম্পানির উচিত গ্লোবাল CRO এর তত্ত্বাবধানে এসব ট্রায়াল করা।

বিষয়টা একট ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে- “Compassionate drug use” বলে একটা প্রত্যয় আছে ফার্মাকোলজিতে এর মিনিং হচ্ছে যখন কোন রোগের স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট না থাকে তখন সিরিয়াসলি অসুস্থ রোগীর চিকিৎসার জন্য অননুমোদিত ( unapproved) ড্রাগ ইউজ করার অনুমতি দেয়া হয়। এখন করোনার ক্ষেত্রে তাই হচ্ছে, এগুলাকে বলা হয় Compassionate drug use। যেমন ইউএসএ তে Remdesivir এর (যেটা ইবোলার ক্ষেত্রে কার্যকরী, সো মোটামুটি সেইফ বলা যায় যেহেতু আগে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে হিউম্যান এর ক্ষেত্রে) Compassionate use এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে করোনা চিকিৎসায় যদিও ড্রাগটি এখনো করোনার ড্রাগ হিসেবে এফডিএর অনুমোদন পায়নি । হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকেও Compassionate use এর আওতায় ফেলা যায়।

ফ্যাভিপিরাভির (Favipiravir) জাপানে, চায়নায় এবং ইটালিতে করোনা রোগীর ক্ষেত্রে ট্রায়াল করেছে সেখানকার ডক্টররা, এটাও Compassionate use দিয়েই জাস্টিফাই করা হয়েছে। তবে জাপানে এই ড্রাগ করোনা ইনফেকশনের প্রাথমিক স্টেজে কাজ করলেও সিভিয়ার কেইসে কার্যকরী নয়, ইতালির অভিজ্ঞতাও সেইম। এই ড্রাগ ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে জাপানে ইউজ হয় বলে এক ধরনের হিউম্যান সেফটি এনশিউর করা হয়েছে। ওসেল্টামিভিরও ইনফ্লুয়েঞ্জার অনুমোদিত ড্রাগ, সো হিউম্যান সেফটি প্রোপাইল ভালই, কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে কিনা ট্রায়াল দরকার।

ইভারমেকটিন আগে থেকেই এনটি-পেরাসাইটিক ড্রাগ হিসেবে অনুমোদিত, অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা জাস্ট রিপোর্ট করেছেন এই ড্রাগ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে সেল কালচার মডেলে তবে বিভিন্ন ট্রায়াল বাকি।

সো দেখা যাচ্ছে সবগুলা ড্রাগই আগে থেকেই অন্য রোগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত মানে হচ্ছে হিউম্যান সেফটি প্রোপাইল ভাল এদের। আমার মতে করোনা আউটব্রেকের বিশেষ প্রেক্ষিতে অত্যন্ত রেগুলেটরি মিজারমেন্ট এনশিউর করে শুধুমাত্র ক্লিনিশিয়ানের পরামর্শে এসব ড্রাগের Compassionate use করা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই এসব ড্রাগ মার্কেটে না ছেড়ে শুধুমাত্র বিশেষ রেগুলেটরি বডির (DGDA) কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অর্থাৎ এসব ড্রাগ নিয়ে এখনি মুনাফা করা যাবে না। আর এই ড্রাগগুলা করোনার ক্ষেত্রেও কাজ করবে কিনা বাংলাদেশে সেটার হিউম্যান ট্রায়াল এর ক্ষেত্রে আমার মত হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ড্রাগের ট্রায়ালের চেয়ে এই ড্রাগগুলার ট্রায়াল বেশি সেইফ হবে মানে ঝুঁকি কম হবে কারণ এগুলা ইতোমধ্যেই অন্য রোগের ট্রায়ালের সময় সেইফ হিসবে পরীক্ষিত। কিন্তু প্রব্লেম হচ্ছে বাংলাদেশে এসব ওষুধের ট্রায়াল করার ক্ষেত্রে কে পারমিশন দিচ্ছে, কোন নিউট্রাল বডির তত্ত্বাবধানে এই ট্রায়াল সম্পন্ন হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আসলেই এরকম বডি আছে কিনা আমি জানিনা। এছাড়া হিউম্যান ট্রায়ালের বেসিক প্রোটোকল মানা হবে কিনা, রোগীর সম্মতি নেয়া হবে কিনা, রোগীকে ট্রায়ালের ব্যাপারে ক্লিয়ারলি সব জানানো হবে কিনা- এই প্রশ্নগুলা থেকেই যাচ্ছে।

যোবায়ের আল মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। 

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন