, ১ জানুয়ারি ২০২১; ১২:০০ অপরাহ্ণ


Graph: Author

অনেকের মনেই এই প্রশ্ন! ইতিমধ্যে ঘোষণা করা প্রায় ১০০,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনার প্যাকেজের এত টাকা কথা থেকে আসবে?

আমার হিসেব বলছে, আসলে এটা চিন্তা এবং পরিকল্পনার বিষয়, দু:শ্চিন্তার নয়।

সরকারের ঘোষণা করা প্রণোদনার প্যাকেজের অংক দাঁড়ায় প্রায় ৮০,০০০ কোটি টাকার মত। অঘোষিত অন্যান্য ভর্তুকি (যেমন, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নগদ এবং প্রশাসনিক খরচ) যোগ করলে এটা প্রায় ১০০,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি চলে যাবে। এবং এই খরচটা আসলে ১টা অর্থবছরে নয়, বরং দুই অর্থবছরে করতে হবে।

সাধারণত বাংলাদেশের বাজেট নিয়ন্ত্রিত হয় রাজস্ব আয়ের গতিপ্রকৃতির উপর। প্রতিবছরই বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব আয় থেকে প্রকৃত রাজস্ব আয় বেশ কম থাকে (গড়ে ২০%)। এবার এই কমার পরিমান বেশ বড় হবে ধারণা করা যায়। কারণ: (১) বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপক কমে যাওয়ার কারণে সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়; (২) দেশের মধ্যকার আৰ্থিক এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমে যাওয়ার কারণে সেখান থেকে প্রাপ্ত যায়, যেমন, আয়কর, ভ্যাট এবং অন্যান্য – ব্যাপক ভাবে কমবে বলে ধরা যায়। বিশেষ করে, সময়টা যখন পহেলা বৈশাখ এবং রমজানের সময়কার ব্যাপক বাজারকে আঘাত করছে। কিন্তু বাংলাদেশের ই-কমার্স যদি সেরকম শক্তিশালী হতো, রাজস্ব আয়ের ক্ষতিটা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া যেত। ধারণা করা যায়, এবার রাজস্ব আয় প্রায় ৩৫% কম হবে, এবং টাকার অংকে তার পরিমান হতে পারে প্রায় ১৩২,০০০ কোটি টাকা।

এখন সরকারকে হিসেব করতে হবে, এই ৩৫% রাজস্ব আয় কমার ফলে রাজস্ব ব্যয়কে কিভাবে কমানো হবে, এবং সেটার মূল উদ্দেশ্য হবে বাজেট ঘাটতিকে যেন নির্ধারিত ৫%-এর মধ্যে রাখা যায়। এই ক্ষেত্রে শুধু এডিপি নয়, আরো অন্যান্য খাত থেকেও ব্যয় কমাতে হবে। যেমন: (১) সরকারের নেয়া বিভিন্ন ঋণ কিংবা ঋণের সুদ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে; (২) বাজেটে ‘অপারেটিং মূলধন ব্যয়’-কে কমিয়ে; এবং (৩) এডিপিতে খরচের অগ্রাধিকার এবং সংখ্যা কমিয়ে। অনেকে এডিপি ব্যাপকভাবে কমিয়ে ফেলতে বলছেন। এটা আসলে করা যাবেনা, কারণ এডিপির প্রকল্পগুলো দেশের নিম্নআয়ের মানুষদের অনেক চাকুরীর ব্যবস্থা করে।

আমার ধারণা, ব্যয় কমিয়ে আসলে প্রণোদনার জন্য কিছুই রাখা যাবেনা, বরং সেটাকে সমন্বয় করতে হবে রাজস্ব কমার সঙ্গে। তাহলে প্রণোদনার ১০০,০০০ কোটি টাকা আসলে নতুন করে বের করতে হবে। দু’টা অর্থবছরের ৫ কোয়ার্টার হিসেবে করলে বর্তমান অর্থবছরে প্রয়োজন ২০,০০০ কোটি টাকা, এবং যার বেশিরভাগ লাগবে অনুদান বা ভর্তুকি দেয়ার জন্য। বাকি ৮০,০০০ হাজার কোটি টাকার অধিকাংশই খরচ হবে ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানের জন্য এবং ঋণের এই টাকা সরকার ফেরত পাবে, শুধুমাত্র সুদের হারের উপর কিছু ভর্তুকি দিতে হবে।

সম্ভ্রাব্য দুইটা জায়গা থেকে সরকার টাকার জোগাড় করতে পারে। (১) অনেকের মনে থাকতে পারে, কিছুদিন সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর অলস অর্থ, যার পরিমান ২১২,০০০ কোটি টাকা, ব্যবহারের জন্য নতুন আইন করেছে। এই টাকার ৪০% যদি ঐ সংস্থাগুলোর চলতি মূলধন হিসেবে রেখে দিয়ে বাকি টাকা ১২৭,০০০ কোটি টাকা ব্যবহার করতে পারে; (২) পত্রিকায় এসেছে, সরকার বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা থেকে প্রায় ২২,১০০ কোটি টাকার ঋণ/সাহায্য চেয়েছে। এর প্রায় ব্যাপক একটা অংশ পেয়ে যাওয়ার কথা। দুই হিসেব থেকে প্রায় ১৪৯,০০০ কোটি টাকার জোগাড় আছে।

এখন সরকারকে হিসেব করতে হবে, কিভাবে এবং কার কাছ থেকে টাকা নিবে। এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে, এবং একই সঙ্গে খরচের ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। মনে হয়না, অর্থ সংকটের কারণে প্রণোদনা দেয়া বাঁধার সম্মুখীন হতে পারে, বরং সরকার চাইলে এটাকে বাড়িয়েও দিতে পারে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন