, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১০:৪৩ অপরাহ্ণ


কোভিড-১৯ পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হয়েছে (সম্ভবত নিশ্চিত সংক্রমণের চেয়ে অনেক গুণ বেশি), মৃতের তালিকা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিসমূহ এখন একটি বৈশ্বিক মন্দার বাস্তবিক অনিবার্যতা নিয়ে থমকে দাঁড়িয়েছে।

নোয়াম চমস্কি

ট্রুথআউট-এর সাথে এই একান্ত সাক্ষাৎকারে নোয়াম চমস্কি উল্লেখ করেছেন, মহামারী আসার অনেক আগেই এর ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিলো, কিন্তু এমন একটি সংকটের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কাজটি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নিষ্ঠুর বাধ্যবাধকতার দ্বারা যেখানে “ভবিষ্যতের দুর্যোগ প্রতিরোধ করার মধ্যে কোনো মুনাফা নেই।” চমস্কি এমআইটি-তে ভাষাতত্ত্বের এমেরিটাস অধ্যাপক ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির লরিয়েট অধ্যাপক, ১২০টির বেশি গ্রন্থ এবং হাজারো প্রবন্ধ ও নিবন্ধের রচয়িতা। নিচের সাক্ষাৎকারে চমস্কি আলোচনা করেছেন মহামারীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে কীভাবে স্বয়ং নব্য-উদারনৈতিক পুঁজিবাদ ভূমিকা রেখেছে।

সি.জে. পলিক্রনিউঃ নোয়াম, নভেল করোনা ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাব বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনসহ অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধিক সংক্রমণ ঘটেছে। এগুলো কি আশ্চর্যজনক ঘটনা?

নোয়াম চমস্কিঃ সংক্রামক মহামারীর মাত্রা আশ্চর্যজনক, বস্তুত ভয়াবহ, তবে এর উপস্থিতি সেরকম নয়। এটিও আশ্চর্যজনক নয় যে সংকট ব্যবস্থাপনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বাজে নজির রয়েছে।

একটি করোনা ভাইরাস থেকে যখন ২০০৩ সালের সার্স মহামারী দেখা দিলো, সে সময় থেকে সাথে সাথেই বিজ্ঞানীরা বহু বছর যাবত একটি মহামারীর হুশিয়ারি দিয়ে আসছেন। সেই রোগের প্রতিষেধক বিকশিত করা হলেও সেটি প্রাক-ক্লিনিকাল পর্যায়ের বেশি অগ্রসর হয়নি। ওটা ছিলো কোনো প্রাদুর্ভাবের প্রস্তুতির জন্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা শুরু করা এবং প্রয়োজন হতে পারে এমন অতিরিক্ত সক্ষমতাকে বাঁচিয়ে রাখার সময়। কোনো সাদৃশ্যপূর্ণ ভাইরাসের সম্ভাব্য পুনরাবির্ভাব ঘটলে চিকিৎসা প্রণালী ও প্রতিরক্ষাকে বিকশিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারতো।

তবে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়াই যথেষ্ট নয়। বলটি তুলে নিয়ে সেটা নিয়ে দৌড়ানোর মত কাউকে থাকতে হয়। সমসাময়িক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার রোগনিরূপণ করতে গিয়ে বিকল্পটি বাধাগ্রস্ত হয়েছিলো। বাজারের সংকেতটি ছিলো স্পষ্টঃ ভবিষ্যতের দুর্যোগ প্রতিরোধ করার মধ্যে কোনো মুনাফা নেই। সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারতো, কিন্তু সেটি বিরাজমান মতবাদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছিলোঃ রিগ্যান তাঁর উজ্জ্বল হাসি দিয়ে আমাদের জানিয়েছিলেন, “সমস্যা হচ্ছে সরকার,” অর্থাৎ ব্যবসায়ী মহলকে এমনকি আরো পরিপূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দিতে হবে, যারা প্রাইভেট মুনাফার প্রতি নিবেদিত এবং সাধারণের কল্যাণের জন্য যারা ভাবিত হতে পারতো তাদের প্রভাব থেকে মুক্ত। পরবর্তী বছরগুলো অবাধ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ও এর দ্বারা নির্মিত বাজারের বিকৃত অবয়বে নব্য-উদারনৈতিক নিষ্ঠুরতার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে।

রোগনিরূপণের গভীরতা স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয় সবচেয়ে নাটকীয় ও কষ্টদায়ক ব্যর্থতাগুলোর একটির মাধ্যমেঃ ভেন্টিলেটরের ঘাটতি যা মহামারী মোকাবিলায় অন্যতম প্রধান অন্তরায়। দ্য ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এই সমস্যাটি আগেই অনুমান করেছিলো এবং সাশ্রয়ী, সহজে ব্যবহারযোগ্য ভেন্টিলেটর উৎপাদনের জন্য একটি ছোট সংস্থার সাথে চুক্তি করেছিলো। কিন্তু তখনই পুঁজিবাদী যুক্তি তাতে বাগড়া দেয়। কোভিডিয়েন নামক একটি বড় কর্পোরেশন সংস্থাটিকে কিনে নিয়ে এই প্রকল্পকে দূরে ঠেলে দেয় এবং “তিন জন প্রাক্তন ফেডারেল কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, সরকারের কাছে কোনো ভেন্টিলেটর না পাঠিয়ে কোভিডিয়েন নির্বাহীরা ২০১৪ সালে [ফেডারেল] বায়োমেডিকেল রিসার্চ এজেন্সির কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে, তারা চুক্তি থেকে সরে যেতে চান। নির্বাহীদের অভিযোগ ছিলো যে এটি কোম্পানির জন্য যথেষ্ট লাভজনক নয়।”

নির্দ্বিধায় তা সত্য।

একটি সম্ভাব্য মহামারীর ব্যাপারে বর্তমান প্রশাসন অনেক সতর্ক বার্তা পেয়েছিলো। আদতে, সাম্প্রতিক সময়েও গত অক্টোবরে একটি উচ্চ-পর্যায়ের সিমুলেশন চালানো হয়েছে।
বাজারের সামগ্রিক ব্যর্থতা এখন যে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে তা কাটিয়ে উঠার জন্য সরকার কিছু করতে পারতো না, এ কথা নির্দেশ করার মাধ্যমে নব্য-উদারনৈতিক যুক্তি তখন বাগড়া দিলো। নিউ ইয়র্ক টাইমস তখন একে ভদ্রস্থ রূপ দিলো, “একটি নতুন শ্রেণীর সাশ্রয়ী, সহজে ব্যবহারযোগ্য ভেন্টিলেটর তৈরির স্থগিত হয়ে যাওয়া এ প্রয়াসটি তুলে ধরেছে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যের তাৎপর্যবাহী প্রকল্পগুলোকে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর কাছে আউটসোর্স করার বিপদগুলোকে; মুনাফা বাড়ানোর প্রতি কোম্পানিগুলোর মনোযোগ আগামী দিনের সংকটের জন্য সরকারের প্রস্তুত হওয়ার লক্ষ্যের সাথে সবসময় সঙ্গতিপূর্ণ থাকে না।”

অমায়িক সরকার ও তার প্রশংসনীয় লক্ষ্যসমূহের প্রতি প্রাত্যহিক আনুগত্যকে এক পাশে সরিয়ে রেখে বলা যায়, মন্তব্যটি যথেষ্ট সত্য। [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের] সর্ববৃহৎ ব্যাংক জে.পি. মর্গান চেইস-এর ফাঁস হয়ে যাওয়া একটি মেমো থেকে বাক্যাংশ ধার করে নিয়ে আমরা আরো বলতে পারি যে, মুনাফা বাড়ানোর প্রতি মনোযোগও “মানব জাতির টিকে থাকার” প্রত্যাশার সাথে “সবসময় সঙ্গতিপূর্ণ” হয় না। জীবাশ্ম জ্বালানিতে ব্যাংকটির নিজস্ব বিনিয়োগসহ আমাদের চলমান গতিপথে “মানব জাতির টিকে থাকা” যে হুমকির মুখে আছে, সে বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সেজন্য শেভ্রন একটি লাভজনক টেকসই জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে কারণ পৃথিবীতে প্রাণ ধ্বংস করায় মুনাফা অনেক বেশি। এক্সনমবিল এমন কিছু করা থেকে বিরত ছিলো, কারণ প্রথমত লাভজনকতার আরো যৌক্তিক হিসাব করার মাধ্যমে [এটি] এমন কোনো প্রকল্পই চালু করেনি।

এটি নব্য-উদারনৈতিক মতবাদ অনুসারে সঠিক। মিল্টন ফ্রিডম্যান ও অন্যান্য নব্য-উদারনৈতিক মনীষীগণ আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, কর্পোরেট ব্যবস্থাপকদের কাজ হচ্ছে মুনাফা বর্ধিত করা। এই নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি “সভ্য জীবন”-এর ভিত্তিগুলোকে নস্যাৎ করে দেবে।

দরিদ্র ও বিশেষ করে অধিকতর অরক্ষিতদের জন্য প্রকট ও সম্ভবত ভয়াবহ মূল্যের বিনিময়ে কোভিড-১৯ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে। তবে মেরু অঞ্চলে বরফ স্তরের গলন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যান্য বিধ্বংসী পরিণাম থেকে কোনো মুক্তি মিলবে না। এখানেও বাজারের ব্যর্থতা থেকে দুর্যোগটির উদ্ভব — এক্ষেত্রে সেটি হয়েছে সত্যিকার অর্থে দুনিয়া-কাঁপানো মাত্রায়।

একটি সম্ভাব্য মহামারীর ব্যাপারে বর্তমান প্রশাসন অনেক সতর্ক বার্তা পেয়েছিলো। আদতে, সাম্প্রতিক সময়েও গত অক্টোবরে একটি উচ্চ-পর্যায়ের সিমুলেশন চালানো হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এসেছেন তাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছিঃ জীবনকে রক্ষা করার মাধ্যমে মুনাফাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন বিধিসমূহকে বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতিটি প্রাসঙ্গিক অংশ থেকে অর্থায়ন তুলে নিয়ে ও ধ্বংস করার মাধ্যমে এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর কর্পোরেট প্রভুদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা — আর এখন পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হচ্ছে পরিবেশগত বিপর্যয়ের গহ্বরের দিকে ছুটে যাওয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া — আদতে, এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধ যখন আমরা এর পরিণতি বিবেচনা করি।

কী ঘটছে সে ব্যাপারে জানুয়ারির শুরুর দিকে সামান্যই ধোঁয়াশা ছিলো। ৩১ ডিসেম্বর চীন অপরিচিত নিদান সহকারে নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গসমূহের বিস্তারের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবগত করেছে। ৭ জানুয়ারি চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানালো যে, বিজ্ঞানীরা উৎস হিসেবে একটি করোনা ভাইরাসকে সনাক্ত করেছেন এবং জিনোম সিক্যুয়েন্স করেছেন, যেটি তারা বৈজ্ঞানিক মহলে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ট্রাম্পের কান পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করেও পারেনি। কর্মকর্তারা প্রচারমাধ্যমে জানিয়েছেন যে “তারা এ ব্যাপারে তাঁকে দিয়ে কিছুই করাতে পারেননি। সিস্টেমে লাল বাতি মিটমিট করছিলো।”

ট্রাম্প অবশ্য নীরব ছিলেন না। তিনি অনেকগুলো আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা দিয়ে জনগণকে জানিয়ে দিলেন যে এটি কেবলই কাশি; সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে আছে; সংকট নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে তিনি দশে দশ পেয়েছেন; এটি খুবই গুরুতর কিন্তু অন্য সবার আগে তিনি জানতে পেরেছেন এটি একটি মহামারী; আর বাকিটা হচ্ছে শোচনীয় কার্যকলাপ। পদ্ধতিটি সুসজ্জিত, অনেকটা মিথ্যাকে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার মতো চর্চা যার ফলে সত্যের ধারণাই বিলীন হয়ে যায়। যাই হোক না কেন, ট্রাম্প অবশ্যই তাঁর অনুগত ভক্তদের দ্বারা দায়মুক্ত হবেন। আপনি যখন আন্দাজে তীর ছুঁড়বেন তখন কয়েকটি লক্ষ্যে আঘাত করতেই পারে।

এই চমৎকার নজিরের সবশেষে আছে, ভাইরাস যখন দেশে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছিলো তখন ১০ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজ তার বার্ষিক বাজেট প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে, যেটি সরকারের সকল প্রধান স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অংশগুলোর (আদতে যেকোনো কিছু যা মানুষের সাহায্যে আসতে পারতো) প্রবল ব্যয় সংকোচনকে আরো বর্ধিত করলো এবং সত্যিকার অর্থে যা গুরুত্বপূর্ণ তার অর্থায়ন বাড়িয়ে দিলোঃ সামরিক বাহিনী ও প্রাচীর।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন সংকটের বৈশ্বিক কেন্দ্র।
একটি প্রভাব হচ্ছে সাংঘাতিকভাবে বিলম্বিত ও সীমিত পরীক্ষণ, যা অন্যদের চেয়ে অনেক কম। এর ফলে সফল
পরীক্ষা ও অনুসরণ কৌশল, যা কার্যকরী সমাজে মহামারীকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে তা প্রণয়ন করা অসম্ভব হয়ে গেছে। এমনকি সবচেয়ে ভালো হাসপাতালেও প্রাথমিক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন সংকটের বৈশ্বিক কেন্দ্র।

এটি কেবল ট্রাম্পের পরশ্রীকাতরতার আবরণকে উন্মোচিত করেছে, কিন্তু এর বেশি কিছুর সুযোগ এখানে নেই।

সংকটের প্রতি সর্বনাশা প্রতিক্রিয়ার জন্য ট্রাম্পকে দোষারোপ করা স্বাভাবিক। তবে আমরা যদি ভবিষ্যতের দুর্যোগগুলোকে ব্যাহত করার আশা করি তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই ট্রাম্পের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেখতে হবে। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন ৪০ বছরের নব্য-উদারনীতিতে জর্জরিত একটি অসুস্থ সমাজে, যার শিকড় অদ্যাবধি আরো গভীরে প্রোথিত।

পুঁজিবাদের নব্য-উদারনৈতিক সংস্করণটি রিগ্যান ও থ্যাচারের সময় থেকে জারি রয়েছে, যেটা তাদের অল্প কিছু সময় পূর্বে শুরু হয়েছিলো। এর কুৎসিত পরিণতি সম্বন্ধে বিস্তারিত বলার দরকার হবে না। দুর্দশাগ্রস্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আজকে যে আরেকটি আর্থিক প্রণোদনা চলমান তার সাথে অতি-ধনীদের প্রতি রিগ্যানের মহানুভবতার সরাসরি প্রাসঙ্গিকতা আছে। জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য রিগ্যান কর অবকাশ ও অন্যান্য কৌশলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করেন, এবং স্টক বাইব্যাক অনুমোদন করেন — স্টক মূল্য বৃদ্ধি করা এবং কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা ও খুব সম্পদশালীদের (অধিকাংশ স্টক যাদের দখলে) সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে ব্যবসার উৎপাদনশীল সক্ষমতাকে ধ্বংস করার একটি কৌশল।

এসব পলিসি পরিবর্তনের বিরাট প্রভাব রয়েছে, যা কয়েকশ ট্রিলিয়ন ডলারের। সাধারণত মুষ্টিমেয় লোকদের লাভবান করার জন্য পলিসি পরিকল্পনা করা হয়েছে যখন বাকিরা দুর্ভোগ পোহায়। এভাবে আমরা এমন একটি সমাজ পেয়েছি যেখানে ২০ শতাংশ জনগণের সম্পদ ভোগ করছে ০.১ শতাংশ জনগণ এবং নিম্নবর্গের অর্ধেকের নেট সম্পদ ঋণাত্মক এবং তারা পে-চেকের নির্ভরতায় বেঁচে থাকে। মুনাফা যখন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সিইও-দের বেতন যখন ঊর্ধ্বগামী হয়েছে, আসল মজুরী তখন স্থবির হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ইমানুয়েল সায়েজ ও গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান তাঁদের দ্য ট্রায়াম্ফ অফ ইনজাস্টিস বইতে দেখিয়েছেন, সকল উপার্জন শ্রেণীজুড়ে কর মূলত সমান, শুধু উপরের অংশ বাদে, যেখানে কর নিম্নগামী।

অন্যান্য উন্নত সমাজের চেয়ে দ্বিগুণ মাথাপিছু ব্যয় এবং কিছু নিকৃষ্ট পরিণতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারিকৃত মুনাফামুখী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বহু দিন যাবত একটি আন্তর্জাতিক কলঙ্ক ছিলো। কর্মদক্ষতার ব্যবসায়িক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে নব্য-উদারনৈতিক মতবাদ আরেকটি আঘাত হেনেছে, তা হলো সিস্টেমে কোনো স্থূলতা ছাড়াই একদম সময়মত সেবা। কোনো ব্যত্যয় হলেই সিস্টেম ধ্বসে পড়বে। নব্য-উদারনৈতিক নীতির আদলে গঠিত ভঙ্গুর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও তা অনেকটা সত্য।

উত্তরাধিকারসূত্রে ট্রাম্প এই দুনিয়া পেয়েছেন, যেটি তার আঘাত করার লক্ষ্য। চলমান সংকট শেষে পড়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি টেকসই সমাজের পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে যারা ভাবিত, তাদের জন্য বিজয় প্রসাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়া শ্রেয়ঃ “আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবো না, কারণ স্বাভাবিকই ছিলো সমস্যা।”

তারপরও, এমনকি এখনও, অনেক লম্বা সময় ধরে আমরা যা দেখিনি এমন একটি জনস্বাস্থ্যজনিত জরুরী অবস্থার মধ্যে থাকা দেশে আমেরিকান জনগণকে বলা হয় যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবধর্মী নয়। স্বাস্থ্যসেবায় এই অদ্ভূত রকমের অদ্বিতীয় আমেরিকান প্রেক্ষাপটের জন্য কি শুধু নব্য-উদারনীতিবাদ দায়ী?

এটি একটি জটিল গল্প। শুরুতে বলা যায়, দীর্ঘ সময় যাবত জরিপগুলোতে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার প্রতি অনুকূল মনোভাব দেখা গেছে, অনেক সময়ই তা খুব শক্তিশালী সমর্থন। রিগ্যান আমলের শেষ দিকে, প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ মনে করতো যে সুনিশ্চিত স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি সংবিধানে থাকা উচিত, আর ৪০ শতাংশ মনে করতো ইতোমধ্যে এটি আছে — সংবিধানকে সেসব জিনিসের আধার হিসেবে ধরা হয়েছে যেগুলো স্পষ্টত অধিকার। ব্যবসায়িক প্রোপাগান্ডার আক্রমণ শুরু হবার আগ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গণভোটগুলোতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার প্রতি প্রচুর সমর্থন দেখা গেছে। অনেক বৃহৎ না হলেও করের ভারী বোঝার বিষয়ে তখন সর্তক করা হয়েছে, যেমনটি আমরা সম্প্রতি সময়ে দেখেছি। তারপর থেকে জনপ্রিয় সমর্থন বিলীন হয়ে যায়।

সবসময়ের মত এ প্রোপাগান্ডায় কিছু সত্যের উপকরণ আছে। কর বেড়ে যাবে, কিন্তু মোট ব্যয় তীব্রভাবে কমে যাওয়া উচিত, যেটি তুলনামূলক দেশগুলোর নজির থেকে দেখা যায়। বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট (যুক্তরাজ্য) সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে যেখানে ধারণা করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা থাকলে “জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ১৩% বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, যার মূল্যমান বার্ষিক ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক (২০১৭ সালে মার্কিন ডলারের মূল্যের ভিত্তিতে)।” গবেষণায় বলা হয়েছেঃ

নিয়োগকারী ও পরিবারগুলোর পরিশোধকৃত স্বাস্থ্যসেবা প্রিমিয়ামের সাথে বিদ্যমান সরকারি বরাদ্দ সমেত যে হিসাব দাঁড়ায় তার চেয়ে কম আর্থিক খরচ দিয়ে সমগ্র ব্যবস্থাটিকে অর্থায়ন করা যাবে। সরকার-চালিত (single payer) স্বাস্থ্যসেবার দিকে পরিবর্তিত হলে দরুণ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি স্বস্তি লাভ করবে। তদুপরি, আমরা ধারণা করছি সকল আমেরিকানের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে চলমান অবস্থার তুলনায় প্রতি বছর ৬৮,০০০ এর অধিক জীবন এবং ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার জীবন-বর্ষ বাঁচানো যাবে।

তবে এতে কর বৃদ্ধি পাবে। আর মনে হয় যে, বহু আমেরিকান বেশি পয়সা খরচ করতে চাইবে যতক্ষণ না সেটা করের খাতে যায় (বছরে কয়েক লক্ষ মানুষকে অকস্মাৎ হত্যা করার মাধ্যমে)। এটি আমেরিকার গণতান্ত্রিক অবস্থার একটি লক্ষণীয় ইঙ্গিত, মানুষ একে যেভাবে দেখে; আর অন্য প্রেক্ষাপট থেকে এটি ব্যবসায়িক ক্ষমতা ও এর বুদ্ধিবৃত্তিক ভৃত্যদের মতাদর্শিক ব্যবস্থার শক্তির একটি ইঙ্গিত। জাতীয় সংস্কৃতির এই রোগনিরূপণের উপকরণকে প্রবল করে তোলে নব্য-উদারনৈতিক আক্রমণ, তবে শিকড়গুলো আরো গভীরে প্রোথিত এবং বিভিন্নভাবে প্রকাশিত, বিষয়টি খুবই অনুধাবনযোগ্য।

কোভিড-১৯ এর বিস্তার সামাল দিতে গিয়ে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যখন অন্যদের চেয়ে ভালো করছে, তখন এই কাজে সেসব দেশ বেশি সফলতা পেয়েছে বলে মনে হয়, যেগুলো প্রাথমিকভাবে পশ্চিমা (নব্য)উদারনৈতিক ব্রহ্মাণ্ডের বাইরে অবস্থান করে। সেগুলো হলো সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া ও স্বয়ং চীন। এটি কি পশ্চিমা পুঁজিবাদী সরকারগুলোর ব্যাপারে আমাদের কোনো বার্তা দেয়?

ভাইরাসের বিস্তারের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। খোদ চীন অন্তত এখনকার মত একে নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে মনে হয়। চীনের পরিসীমার মধ্যে থাকা দেশগুলোর বেলাতেও তা সত্য যেখানে প্রারম্ভিক সতর্কতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আছে সেসব গণতন্ত্র যেগুলো পশ্চিমের তুলনায় কম প্রাণবন্ত নয়। ইউরোপ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিলম্ব করেছে, তবে কিছু ইউরোপীয় দেশ ব্যবস্থা নিয়েছে। অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সুবিধা ও রোগনির্ণয়ের সক্ষমতা, এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কল্যাণে জার্মানি কম মৃত্যু হারের বৈশ্বিক রেকর্ড ধরে রেখেছে। একই ব্যাপার নরওয়ের ক্ষেত্রেও সত্য মনে হয়। যুক্তরাজ্যে বরিস জনসনের প্রতিক্রিয়া ছিলো লজ্জাজনক। এই দৌড়ে সবার শেষে রয়েছে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিক্রিয়ার বেলায় পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যটি গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্র নয়, বরং কার্যকর বনাম অকার্যকর সমাজ বলে মনে হয়। জনগণের প্রতি জার্মানির উৎকণ্ঠা অবশ্য দেশটির সীমান্তের বাইরে পৌঁছেনি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। অবশ্য দুর্দশাগ্রস্ত ইউরোপিয়ান সমাজগুলো ত্রাণের জন্য আটলান্টিক অতিক্রম করতে পেরেছে। কিউবান পরাশক্তি আরো একবার চিকিৎসক ও সরঞ্জামাদি দিয়ে সহায়তা করার জন্য তৈরি ছিলো। এদিকে প্রতিবেশী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে, যেখানে তারা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকট সৃষ্টিতে সাহায্য করেছে, সেখানে স্বাস্থ্য সহায়তা কমিয়ে দিচ্ছিলো, এবং দেশটির বাছাইকৃত শত্রুদের মধ্যে সর্বাধিক দুর্ভোগ নিশ্চিত করার জন্য তার নিষ্ঠুর অবরোধকে জোরদার করতে ধ্বংসাত্মক স্বাস্থ্যগত সংকটের সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছিলো। কেনেডির সন্ত্রাসী যুদ্ধসমূহের ও অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের দিনগুলো থেকে কিউবা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শিকার হয়েও আশ্চর্যজনকভাবে টিকে গেছে।

কীভাবে প্রাদুর্ভাবকে সামাল দেওয়া উচিত এ বিষয়ে জার্মানদের প্রতি অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের স্থিতধী, পরিমিত, তথ্যগত বিবরণীর সাথে হঠাৎই ওয়াশিংটনের সার্কাসকে তুলনা করা হলে আমেরিকানদের কাছে তা প্রচণ্ডভাবে বিরক্তিকর হওয়া উচিত। প্রতিক্রিয়ার বেলায় পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যটি বোধহয় গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্র নয়, বরং কার্যকর বনাম অকার্যকর সমাজ — যাদের অবস্থান ট্রাম্পীয় বক্রোক্তি অনুযায়ী “নোংরা” দেশগুলোতে, যা তাঁর শাসনামলে তৈরি করার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের করোনা ভাইরাস অর্থনৈতিক পরিত্রাণ পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনি কী মনে ভাবছেন? আরেকটি সম্ভাব্য বৃহৎ মন্দা ঠেকিয়ে রাখার জন্য এবং আমেরিকান সমাজের সবচেয়ে অরক্ষিত শ্রেণীগুলোকে সহায়তা করার জন্য এটি কি যথেষ্ট?

পরিত্রাণ পরিকল্পনাটি কোনো কিছু না থাকার চেয়ে ভালো। এটি তাদেরকে কিছু স্বস্তি দেবে যাদের এটি নিদারুণভাবে দরকার, এবং যারা সত্যিই অরক্ষিত তাদের জন্য এতে প্রচুর তহবিল আছেঃ হাতে টুপি নিয়ে মমতাময়ী রাষ্ট্রের কাছে ছুটে আসা অসহায় কর্পোরেশনগুলো যারা আয়ান র‍্যান্ডের অনুলিপিগুলো লুকিয়ে রাখে এবং মুনাফাকে পুঞ্জীভূত করে ও স্টক বাইব্যাকের লাম্পট্য দিয়ে একে জাঁকজমক করে তোলার মাধ্যমে গৌরবময় বছরগুলো পার করার পর আরো একবার জনগণের দ্বারা উদ্ধার হওয়ার জন্য আকুতি জানায়। তবে চিন্তা করার দরকার নেই। অবৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য গচ্ছিত অর্থের (slush fund) তদারকি করবেন ট্রাম্প ও তাঁর ট্রেজারি সেক্রেটারি, যাদেরকে ন্যায়বান ও নিরপেক্ষ হিসেবে বিশ্বাস করা যায়। তাঁরা যদি নতুন মহাপরিদর্শক ও কংগ্রেসের দাবি অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে এ বিষয়ে কে কী করবে? বার-এর জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট? অভিশংসন?

কিছু জিনিস সমেত যৎসামান্য অর্থের বাইরেও যাদের ত্রাণ দরকার তাদের কাছে, পরিবারগুলোর কাছে তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার অনেক উপায় থাকতে পারতো। তাদের মধ্যে আছে সেসব শ্রমিকেরা যাদের বৈধ চাকরি ছিলো এবং বিপুল সংখ্যক অরক্ষিত আয়ের মানুষ যারা অস্থায়ী ও অনিয়মিত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একভাবে দিনাতিপাত করতে পারে, এবং তার সাথে আরো রয়েছেঃ যারা হাল ছেড়ে দিয়েছিলো, “নৈরাশ্যময় মৃত্যু”র শিকার লক্ষ লক্ষ মানুষ — একটি অনন্যসাধারণ আমেরিকান ট্র্যাজেডি — গৃহহীন, কারাবাসী, অপ্রতুল আবাসন নিয়ে বসবাসকারী বহু মানুষ যেখানে বিচ্ছিন্নতার ও খাদ্য মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই, এবং অন্য আরো অনেক মানুষ যাদের সনাক্ত করা কঠিন নয়।

রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ থমাস ফার্গুসন ও রব জনসন বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে বলেছেনঃ অন্য সব জায়গায় যখন সর্বজনীন চিকিৎসা সেবা একটি মানদণ্ড সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেটা আশা করা হয়ত অনেক বেশি কিছু, “কর্পোরেশনগুলোর জন্য একতরফা একক সরকার-চালিত বীমা থাকার কোনো কারণ নেই।” এ ধরনের কর্পোরেট ডাকাতিকে অতিক্রম করার সহজ পন্থাগুলো তাঁরা পর্যালোচনা করেছেন।

অন্ততপক্ষে, কর্পোরেট খাতকে সরকারি আর্থিক প্রণোদনা (bailout) দেওয়ার নিয়মিত চর্চা হিসেবে স্টক বাইব্যাকের ওপর নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় প্রয়োগ থাকা দরকার, ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ থাকা দরকার, ভুলভাবে চিহ্নিত “মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি”যেভাবে বিগ ফার্মার জন্য বিপুল মুনাফা সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে ওষুধের মূল্য যৌক্তিক চুক্তি অনুযায়ী মূল্যের চাইতে অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয় তার কলঙ্কময় রক্ষণমূলক ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি হওয়া প্রয়োজন। অন্তত।

সি.জে. পলিক্রনিউ একজন রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ/রাষ্ট্রবিজ্ঞানী যিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়িয়েছেন ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয়বস্তুসমূহের মধ্যে রয়েছে ইউরোপিয়ান অর্থনৈতিক একীভূতকরণ, বিশ্বায়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং নব্য-উদারনীতিবাদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রকল্পের বিনির্মাণ। তিনি ট্রুথআউট-এর একজন নিয়মিত প্রদায়ক এবং ট্রুথআউট-এর পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল প্রকল্পের একজন সদস্য। তিনি অনেক বই প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর নিবন্ধগুলো নানান ধরনের জার্নাল, সাময়িকী, সংবাদপত্র ও জনপ্রিয় সংবাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে৷

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন