, ১৩ জুন ২০২১; ৯:০৫ অপরাহ্ণ


ছবিঃ সংগৃহীত।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের একটি নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।আগামী সপ্তাহ থেকে ব্যবহার হতে যাওয়া এই ওষুধকে গেম চেঞ্জার আখ্যা দেয়া হয়েছে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন রাশিয়ার জনগণ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৮৪৯ জনের। এমন সময় ‘গেম চেঞ্জার’ ওষুধ খুঁজে পাওয়ার দাবি করল দেশটি।এই ওষুধ সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে দাবি রাশিয়ার গবেষকদের।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় অ্যাভিফ্যাভির ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়ার পরই এটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়।

অ্যাভিফ্যাভির হচ্ছে ফ্যাভিপিরাভিরের পরিবর্তিত সংস্করণ।ফ্যাভিপিরাভির জাপানে ফ্লুর চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এটিকে সংস্কারের মাধ্যমে অ্যাভিফ্যাভির তৈরি করেছে পুতিনের দেশ।

রাশিয়ার দাবি, এই ওষুধ কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিষেধক। এর ফর্মুলা দ্রুতই বিশ্বকে জানানো হবে।একইসঙ্গে জুন মাসের মধ্যে রাশিয়ার হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হবে ওষুধটির ৬০ হাজার ডোজ।

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)ওষুধটি রাশিয়ান ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম চেম্বারের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে।আরডিআইএফ বলছে,প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সারিয়ে তুলতে অ্যাভিফ্যাভির খুবই কার্যকর বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আরডিআইএফ প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, অ্যাভিফ্যাভি ব্যবহারের চারদিন পর ৬৫ শতাংশ রোগীর শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ১১ জুন থেকে এই ওষুধ দিয়ে আক্রান্ত রুশ রোগীদের চিকিৎসা শুরু হবে।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম দেখা দেয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।


করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান রাখা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী,মঙ্গলসবার সকাল ১০ টায় করোনাভাইরাসে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩৩ জন। আর সুস্থ্ হয়ে উঠেছেন ২৯ লাখ ৩ হাজার ৬০৫ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৫৩ হাজার ৪০৩ জন। ভাইরাস এখনও সক্রিয় ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯১ জনের শরীরে।আর সুস্থতার পথে ৩০ লাখ ৩২ হাজার ৮৮ জন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী,মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০।

দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আক্রান্ত নিয়ে শীর্ষে আছে দেশটি। ১৮ লাখ ১১ হাজার ছাড়িয়েছে আক্রান্ত। পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ছাড়ানো আক্রান্ত নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে ব্রাজিল।

তৃতীয়স্থানে থাকা রাশিয়ায় আক্রান্ত ৪ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। চতুর্থস্থানে আছে যুক্তরাজ্য, ২ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে। পঞ্চমস্থানে আছে স্পেন ২ লাখ ৩৯ হাজার আক্রান্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের কার্যকর কোনো ওষুধের ঘোষণা এখনও দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে রেমডিসিভির দিয়ে করোনা চিকিতসা দেয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন