বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন ২০২১; ৩:৫১ অপরাহ্ণ


জনপরিসর’-এর উদ্যোগে আজ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘ছাত্রকম্পের সমতার দাবি: শিক্ষকদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ, প্রবীণ অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিক্যাল এডুকেশন এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার প্রফেসর ডাক্তার মোজাহেরুল হক।

উপস্থিত শ্রোতা ও দর্শকমণ্ডলীর মধ্য হতে এতে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরউল্লাহ চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মাইমুল আহসান খান। এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন গণপরিসরের সমন্বয়ক লেখক কলামিষ্ট গৌতম দাস এবং সভা পরিচালনা করেন মুসতাইন জহির।

প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ডাকসুসহ বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে; দেশের সর্বোচ্চ আদালত ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের আদেশ দিয়েছেন; দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি অতিসত্বর ডাকসু নির্বাচন সম্পন্নের আহ্বান জানিয়েছেন। তারপরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন সাহসে নির্বাচন স্থগিত করে রাখে, বিলম্বিত করে আমি বুঝিনা। ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, সোজা সাপ্টা একটা কথা বলতে চাই ছাত্ররা কোটা সংস্কারের যে দাবী করেছে তা যৌক্তিক। কোটা ব্যবস্থা অবৈজ্ঞানিক। প্রকৃত অপরাধীদের বাদ দিয়ে ছাত্রদের দমন নিপীড়ন করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছে আমার প্রশ্ন ছাত্ররা যারা জীবন জীবিকার জন্য আন্দোলন করেছে তাদের কেন নির্যাতন করা হচ্ছে? ছাত্ররা সংক্ষুব্ধ হলে কী ঘটতে পারে ইতিহাসের পাতায় পাতায় তা লিখা আছে। ছাত্রদের ন্যায্য দাবীকে অগ্রাহ্য করলে দেশ বিপন্ন হবে, সরকার ও বিপর্যস্ত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ তার আলোচনায় বলেন,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এখন আর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নেই। আমার ভাবতে অবাক লাগে পরিবেশ কতটা অধঃপতিত হলে প্রভোস্টরা হলের সিট বন্টন করেন না, সিট বরাদ্দ দেয় তথাকথিত ছাত্রনেতারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে কত বড় আবেদন সৃষ্টি করতে পেরেছে এটা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বুঝতে পেরেছেন। আর বিষয়টি আরও জটিল হবার আগেই কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে তিনি বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে আমি খুব হতাশ ছিলাম; ছাত্ররা আবার আশার আলো দেখিয়েছে।

‘কোটা সংস্কার বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নেবে এটা ছাত্রদের বিষয় নয়’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে প্রফেসর তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, পাবলিক পলিসি বা যে কোন রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নের সময় যত্নসহকারে সকল স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে নীতি প্রণয়ন করতে হয়। কোটা সংস্কারের বিষয়ে শিক্ষার্থীরাই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার। তাদেরকে অগ্রাহ্য করে নীতিনির্ধারণের যে কথা বলা হচ্ছে সেটা ভুল। আধুনিক নীতিনির্ধারণের পদ্ধতি যারা জানেন না, তাদের উচিত পাবলিক পলিসি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে এসে একটি কোর্স করে নেয়া। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ যারা করেছেন তারা কোন সুবিধা চাওয়া বা পাওয়ার জন্য করেননি বরং তারা যুদ্ধ করেছেন সমতার জন্য। আর আজ এই ছাত্রকম্পও ঘটছে সমতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে।

মুক্তিযেদ্ধা ডা: জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, এবারের ছাত্র আন্দোলনের সাথে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের মিল আছে। এত স্মত:স্ফূর্ত আন্দোলন আমরা সাম্প্রতিক কালে দেখিনি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন তার আলোচনায় বলেন, যারা যে পদ গুলো পাওয়ার উপযুক্ত নয়, অন্যায্য কোটা ব্যবস্থার কারণে তারা সেই পদগুলো পেয়ে যাচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসন ও রাষ্ট্রে নিয়োগ না হওয়ার কারণে সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। আলোচনা সভায় বিপুল সংখ্যক ছাত্র, ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষকগণ দর্শকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন