, ১৩ জুন ২০২১; ৭:৪৯ অপরাহ্ণ


Mortaza Bashir with his Father Dr Muhammad Shahidullah

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ছেলে মুর্তজা বশীর, এই পরিচয় আমার কাম্য ছিলো না। আমি বরং চাইতাম লোকে বলুক মুর্তজা বশীরের বাবা ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। তাই নামের শেষ থেকে ‘উল্লাহ্’ মুছে দিয়ে আমি মুক্তির স্বাদ অনুভব করেছি । এই পারিবারিক চিহ্নটি মুছে ফেলার ব্যাপারটি আমার বাবা-মা কেউ সহজভাবে নিতে পারেননি।

বাবু (বাবা) একদিন তাঁর লাইব্রেরিতে পড়ছেন। ডাক পিওন আমার একটা চিঠি দিলো। চিঠিটি বাবুর সামনে রাখতেই তিনি চোখ বুলিয়ে ফেরত দিলেন। ঘটনাচক্রে তখন আমি সেখানে। হাত বাড়িয়ে চিঠিটি নিয়ে দেখলাম আমার চিঠি। তিনি আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। আমি অকম্পিত গলায় বললাম, ‘উল্লাহ্’ কেটে দিয়েছি। নিজের পরিচয়ে দাঁড়াতে চাই। তিনি অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। হাত বাড়িয়ে চিঠিটা নিয়ে নাম পড়লেন; বললেন, ‘তোমার মুর্তজা নামের বানানে ‘ম’ –এর নিচে দীর্ঘ-উকার দাও কেন? মূর্খের বানানে ‘ম’ –এর নিচে দীর্ঘ-উকার হয়। তুমি তো মূর্খ নও, তাই তুমি ‘ম’ –তে লিখবে হ্রস্ব-উকার।’

…(একবার) আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম। মাসের প্রথম দিক ছিলো। সংসারের সব টাকা মার দেরাজ থেকে নিয়েছিলাম। আর বাবার সুটকেস থেকে আরও কিছু টাকা। লক্ষ্ণৌ চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আবার ফিরে এসেছিলাম। বাসার জন্য মন খারাপ হয়েছিলো সাংঘাতিক। বাবু আরাম কেদারায় বসে বই দেখছিলেন। আমাকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন। আমার ভীষণ ভয় করছিল। হয়তো তিনি মারবেন। কিন্তু তিনি মারলেন না।

ধীর গলায় প্রশ্ন করলেন, ‘কোথায় গিয়েছিলে?’
মাথা নিচু করে জবাব দিয়েছিলাম, লক্ষ্ণৌ পর্যন্ত।
আমার জবাবে তিনি ক্ষুণ্ন হলেন। বললেন, আগ্রায় গিয়ে তাজমহল তো দেখতে পারতে।

তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, আমার ছেলে তুমি। নটোরিয়াস বা ফেমাস হবে। মাঝামাঝি কিছু হও, আমি তা চাই না।

শিল্পী মুর্তজা বশীরের ‘আমার জীবন ও অন্যান্য’ গ্রন্থ থেকে
ছবি: সংগৃহীত/ পিতা ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র সঙ্গে পুত্র শিল্পী মুর্তজা বশীর

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন